ধানের শীষে জিতেও তারা আওয়ামী লীগ

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছিলেন তারা। কয়েক দশক ধরেই তারা জড়িত বিএনপির রাজনীতিতে। কিন্তু গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ধানের শীষের জনপ্রতিনিধিদের অনেকেই এখন উতলা দলবদলের জন্য। এ নিয়ে সিলেটের রাজনীতিতে চলছে বিস্তর জল্পনা। জনপ্রতিনিধিদের দলত্যাগের ঘটনায় দলের মধ্যেও বাড়ছে সন্দেহ, অবিশ্বাস। বিএনপির স্থানীয় দায়িত্বশীল নেতারা অবশ্য বলছেন, ব্যক্তিস্বার্থে আদর্শ বিসর্জনকারীদের প্রস্থানে বিএনপি মোটেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। সংসদ নির্বাচনের পর সিলেটের মন্ত্রীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে ছুটে যান বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতা ও জনপ্রতিনিধি। এর মধ্যে ছিলেন সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবং সাবেক এমপি শফি আহমদ চৌধুরী।

দুজনই বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হয়েও সিলেট-১ আসনে নির্বাচিত ড. এ কে আবদুল মোমেনের বাসায় গিয়ে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এর আগে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে আওয়ামী লীগে যোগদান করায় বিএনপির আরিফুল ও শফিকে নিয়েও সিলেটে ব্যাপক আলোচনা, গুঞ্জন চলে। তবে দলত্যাগের সম্ভাবনার বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে আরিফ ও শফি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন তাদের এ সাক্ষাৎ স্রেফ সৌজন্যতা। আরিফ ও শফিকে নিয়ে সৃষ্ট সন্দেহের তীব্রতার ইতি ঘটতে না ঘটতে গত ১৮ জানুয়ারি সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীকে বিশাল সংবর্ধনা দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বরইকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিব হোসেন। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে হাবিব হোসেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছিলেন। প্রভাবশালী এই ইউপি চেয়ারম্যানের আওয়ামী লীগে যোগদান নিয়ে সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা। এর মধ্যে চেয়ারম্যান হাবিব হোসেনের পথ অনুসরণ করে আওয়ামী লীগে যোগদানের ঘোষণা দিয়েছেন জেলা বিএনপির উপদেষ্টাম লীর সদস্য ও দক্ষিণ সুরমার কুচাই ইউনিয়ন পরিষদের চারবারের চেয়ারম্যান আবুল কালাম।

আজ শুক্রবার বিকালে তার সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীকে সংবর্ধনা দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদানের কথা। আবুল কালাম জানান, এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে ও স্থানীয় জনসাধারণের চাপে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করছেন। এতে এলাকার উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি। তবে একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, কালামের আওয়ামী লীগে যোগদান মূলত সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য টিকিয়ে রাখার মতলবেই। তিনি সিলেট জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকও। এ দুই জনপ্রতিনিধি ছাড়াও সিলেটের সাবেক ও বর্তমান আরও কয়েকজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগে যোগদানের অপেক্ষায় রয়েছেন। এ ছাড়া উপজেলা নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য কয়েকজন চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী বিএনপি নেতা আওয়ামী লীগে যোগদান করতে পারেন। তবে দু-একজন জনপ্রতিনিধির দলছুটের ঘটনায় বিএনপি একটুও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত নয় দাবি করে সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ জানান, চেয়ারম্যান আবুল কালাম দলের জেলা শাখার উপদেষ্টা হলেও হাবিব হোসেন দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়। ব্যক্তিস্বার্থে তারা আদর্শের সঙ্গে বেইমানি করায় তাদের দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

উৎসঃ   বিডি প্রতিদিন
print

LEAVE A REPLY