নারী কর্মসংস্থানের অগ্রপথিক যখন নারী

বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে টেকনোলজিতে দিন দিন ব্যাপক পরিচিতি লাভ করছে। প্রযুক্তিগত অগ্রগতির বিভিন্ন পর্যায়ে শুনাম কুড়িয়েছে আগেই। সেক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশের নারীরাও। আর তা প্রমাণ করেছেন দেশের ৪ জন নারী। বাংলাদেশের নারীদের প্রযুক্তিতে আগ্রহী করতে ও প্রযুক্তি ভিত্তিক ক্যরিয়ার গড়তে প্রতিনিয়তই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন নাসিমা আক্তার নিশা, সানজিদা খন্দকার, মোরশেদা মৌরি ও আছিয়া নিলা। তাদের অসাধারণ চারটি উদ্যোগ সকল পর্যায়ের পরিশ্রমী নারীদের প্রযুক্তি নির্ভর কাজ করতে আগ্রহী করে তুলছে। নারীদের কাজ করার অসাধারন প্লাটফর্ম চারটি হলো- ওমেন এন্ড ই-কমার্স, দি টু আওয়ার জব, গিগস এবং উইমেন ইন ডিজিটাল।

নাসিমা আক্তার নিশা, যিনি “ওমেন এন্ড ই-কমার্সের” প্রতিষ্ঠাতা। ২০১৭ সাল থেকে তিনি ই-ক্যাবের পাশাপাশি ই-কমার্স ব্যবসায়ী নারীদের নিয়ে গড়ে তুলেন এই প্রতিষ্ঠান। পরিবার ও সন্তানদের সাথে নিয়ে, অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি তার স্বপ্ন পথের যাত্রা শুরু করেন। যার ফলশ্রুতিতে মাত্র এক বছরের মধ্যে তিনি বেশ কিছু অদম্য ব্যবসায়ী নারীদের নিয়ে “ওমেন এন্ড ই-কমার্সক” কে একটি স্বতন্ত্র সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন । বর্তমানে নারী ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি পুরুষ ব্যবসায়ীরাও ওমেন এন্ড ই-কমার্সের বিভিন্ন স্কিল কোর্সে অংশ নিয়ে থাকেন।

সানজিদা খন্দকার, ২০১৫ সালের মাঝামাঝি থেকেই “দি ২ আওয়ার জব” এর রিসার্চ মুলক কাজ করে প্ল্যাটফর্মের প্রস্তুতি নিয়ে এগতে থাকেন। প্রথমে দি ২ আওয়ার জব সম্পর্কে কারো কোন ধারনা ছিল না। আর ২০১৬ ও ২০১৭ সালে বিভিন্ন বাধার মুখে এই প্ল্যাটফর্মের কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু ২০১৭ এর শেষ দিকে তিনি নিজ উদ্যোগে এই প্ল্যাটফর্মের কাজ শেষ করেন এবং ২০১৮ সালের ১৯ জানুয়ারিতে প্রাথমিক ভাবে সকলের মাঝে তা উন্মোচন করেন। বর্তমানে পেশাজীবী নারীদের সংসার ও সন্তানেদের সাথে নিয়ে, ঘড়ে বসেই কাজ করার ব্যবস্থা করে দিয়েছে “দি টু আওয়ার জব”। ২০১৯ সালের এই সময় পর্যন্ত “দি টু আওয়ার জব” প্রায় পাঁচ হাজার কর্মঠ নারীর ভরসা, যারা বর্তমানে কাজ করছেন ঘরে বসেই।

মোরশেদা মৌরী, যার হাত ধরে ২০১৮ সাল থেকে অনলাইন ও সোশ্যাল মিডিয়া এ্যক্টিভিটির মাধ্যমে গিগসের প্রকাশটা অনলাইনে ছড়িয়ে পরে। মূলত গিগসের কার্যক্রম শুরু হয় ২০১২ সাল থেকে। নারীদেরকে টেকনোলজি ভিত্তিক ক্যারিয়ারে গিগস সহায়তা করে থাকে। প্রাথমিক প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলোতে কাজ পাওয়া ও করার সম্পূর্ণ পদ্ধতি নারীদেরকে তারা শিখিয়ে থাকে। গ্রাফিক্স ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, এসইও সহ নারীদের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে ও উপযুক্ত মেন্টর সাপোর্টের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। এখানে প্রশিক্ষক ও মেন্টর সকলেই নারী । গিগসের সকল প্রশিক্ষণ হয় অনলাইনে, কোন নারী শিখতে চাইলে কোথাও না গিয়ে নিজ গৃহে বসেই নিতে পারবেন গিগসের এই প্রশিক্ষণ সেবা। প্রশিক্ষণ পূর্ব প্রশ্ন সহ বিভিন্ন সমস্যার জন্য গিগস কর্ণধার মোরশেদা মৌরী সরাসরি কথা বলে থাকেন প্রশিক্ষণ ইচ্ছুক নারীদের সাথে।

আছিয়া নীলা, যার হাত ধরে ২০১৩ সাল থেকে যাত্রা শুরু করে “উইমেন ইন ডিজিটাল”। এই প্রতিষ্ঠানটি মূলত অবহেলিত ও ক্যরিয়ারে ঐচ্ছিক মেয়েদের প্রশিক্ষন প্রদান করে, পাশাপাশি দেশ বিদেশের বিভিন্ন ছোট বড় আইটি ভিত্তিক কাজ করে থাকে। এখন পর্যন্ত জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন পুরষ্কারে পুরষ্কৃত হয়েছে আছিয়া নিলার এই প্রতিষ্ঠান।

বাংলাদেশের কর্মক্ষেত্রে নারীদের সকল প্রতিকূলতাকে দূর করে সামনে এগিয়ে যেতেই এই ৪ নারীর অসামান্য উদ্যোগ। আর নারীর সাথে সাথে দেশের সকল স্তরের জনগনের অংশগ্রহন ও সহযোগিতার মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠান গুলো এগিয়ে যেতে পারে আর বহুদূর।

print

LEAVE A REPLY