প্রিয়াঙ্কা যে কারণে মোদি ও বিজেপির জন্য ভয়ের

২০১৪ সালে মোদি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ভারতের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর আগমন। যদিও প্রিয়াঙ্কা এতদিন কংগ্রেসের হয়েই কাজ করেছেন; কিন্তু তার ভূমিকা অনেকটা অতিথির মতো ছিল। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে নামলেন তিনি। বাবা রাজীব গান্ধী এবং ভাই রাহুল গান্ধীর মতোই দলের সাধারণ সম্পাদক হয়ে তিনি নতুনভাবে কাজ শুরু করেছেন।

ভারতের রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়াচ্ছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী

বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, ভারতে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে মোদি সরকার ও তার দল বিজেপির জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াবেন প্রিয়াঙ্কা। এনডিটিভিতে প্রকাশিত এক নিবন্ধে দিল্লীর লেখক ও সাংবাদিক আশুতোষ এ ব্যাপারে বিশ্লেষণধর্মী একটি নিবন্ধ লিখেছেন। সেখানে তিনি মোদি ও বিজিপির জন্য প্রিয়াঙ্কা যেভাবে হুমকি হয়ে দাঁড়াবেন তার চারটি কারণ উল্লেখ করেছেন।

আশুতোষ তার নিবন্ধে লিখেছেন, প্রিয়াঙ্কা নিঃসন্দেহে কংগ্রেস ও রাহুলের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসছেন। কারণ-

১. প্রিয়াঙ্কা অনেক বেশি দৃঢ়চিত্তের অধিকারী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কংগ্রেসের হয়ে কাজ করছেন। তার সম্পর্কে অনেকে কৌতুহলী হওয়ায় যেখানেই তিনি যান সেখানে ভিড় লেগে থাকে। আশা করা যাচ্ছে, তার উপস্থিতিতে কংগ্রেসের ভোট বাড়বে। হয়তো রাহুল গান্ধী যাদের দলে ভেড়াতে পারেননি; প্রিয়াঙ্কা তাদের আগ্রহী করে তুলবেন।

২. রাহুলের বোন হওয়ায় প্রিয়াঙ্কা যেভাবে তাকে পরামর্শ দিতে পারবেন অন্য কেউ সেটা পারবেন না।

রাহুলের সবচেয়ে বড় পরামর্শদাতা প্রিয়াঙ্কা

৩. সোনিয়া গান্ধী অসুস্থ থাকায় আগের মতো এখন সব জায়গায় যেতে পারেন না। এখন রাহুল এবং প্রিয়াঙ্কা আলাদাভাবে দলের জন্য প্রচারণা চালাতে পারবেন। সময়ের অভাবে রাহুল যে জায়গাগুলো যেতে পারেননি প্রিয়াঙ্কা এখন সেইসব জায়গায় যাবেন। ভারতে এখনও গ্রামাঞ্চল বেশি। দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রিয়াঙ্কার দাদি ইন্দিরা গান্ধী গ্রামাঞ্চলে ব্যাপক জনপ্রিয় ছিলেন। বিশেষ করে নারীদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল অনেক বেশি। এখনও গ্রামাঞ্চলে তাকে ‘ইন্দিরা আম্মা’ বলে স্মরণ করা হয়। উত্তর প্রদেশের অনেক জায়গায় এখনই ইন্দিরা ও প্রিয়াঙ্কার পোস্টার টানানো হয়েছে। তাদের কাছে প্রিয়াঙ্কা যেন ইন্দিরারই প্রতিচ্ছবি।

৪. প্রিয়াঙ্কাকে ইচ্ছে করেই উত্তর প্রদেশের পূর্বাঞ্চলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০১৪ সালে এই অঞ্চলে বিজেপির উত্থানের পেছনে উচ্চশ্রেণির ব্যক্তিরা ভূমিকা রাখেন। অথচ এই অঞ্চলে এক সময় কংগ্রেসের প্রচুর সমর্থক ছিল। সিএসজিএসের এক সমীক্ষায় জানা যায়, ২০১৪ সালে ৭২ শতাংশ ব্রাহ্মণ, ৭৭ শতাংশ রাজপুত, ৭১ শতাংশ বৈশ্য এবং ৭৯ শতাংশ উচ্চশ্রেণির লোক বিজেপিকে ভোট দেন। এর মধ্যে অল্প কিছু মানুষ ব্যক্তি মোদির জন্য বিজেপিকে ভোট দেন। কিন্তু উচ্চশ্রেণির একটি অংশ বিজেপির ওপর বিরক্ত। তারা হয়তো বিজেপিকে ভোট দিতেন না যদি তাদের হাতে বিকল্প প্রার্থী থাকতো। এই অঞ্চলে প্রিয়াঙ্কার উপস্থিতি নিঃসন্দেহে বিজেপির জন্য বড় চিন্তার কারণ।

উৎসঃ   সমকাল
print

LEAVE A REPLY