মানবতার গান গাওয়া এক গায়ক, বব মার্লে

বব মার্লে। নামটি শুনলেই ভেসে আসে মানবতার জন্য গান গাওয়া এক কণ্ঠস্বর। যিনি বলতেন মানবতার কথা, কালোদের ওপর করা শোষণ-পীড়ন ও মুক্তির কথা।

তৃতীয় বিশ্বের কোনও দেশ থেকে উঠে আসা রক শিল্পীর মধ্যে যাঁর নামটি সবার আগে উচ্চারিত হয় তিনি হলেন প্রয়াত নেস্তা রবার্ট মার্লে বা বব মার্লে। তিনি ছিলেন একাধারে গায়ক, গীতিকার এবং সঙ্গীত পরিচালক। ষাটের দশকে জ্যামাইকায় জন্ম নেয় ইয়েরগে মিউজিকের ধারা। সেই ধারাকে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় করে তোলার পেছনে সব চেয়ে বড় ভূমিকা ছিল মার্লের।

বব মার্লে ১৯৪৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি জ্যামাইকার সেইন্ট অ্যান প্রদেশের পাহাড়ঘেরা দরিদ্র অধ্যুষিত গ্রাম নাইন মাইলে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পুরো নাম ছিল রবার্ট নেসতা বব মার্লে। কিন্তু জ্যামাইকার পাসপোর্ট অফিস নামের কিছু অংশ কেটে দেওয়ার পর তিনি হয়ে যান বব মার্লে। তার বাবা ছিলেন শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ কর্মচারী। আর মা কৃষ্ণাঙ্গ জ্যামাইকান। এই কারণেই ছোটবেলা থেকেই বব মার্লে সাদা-কালো দ্বন্দ্বে ভুগতেন। মজার ব্যাপার হলো স্কুলে তার কৃষ্ণাঙ্গ বন্ধুরা তাকে ডাকত ‘সাদা বালক’ বলে। আর শ্বেতাঙ্গ দুনিয়ায় তিনি পরিচিত ছিলেন ‘কালো’ হিসেবে।

মাত্র ১৮ বছর বয়সেই কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে ব্যান্ডদল গঠন করেছিলেন মার্লে। এরপর কখনো দলের হয়ে আবার কখনো এককভাবেই গানের অ্যালবাম বের করেন। ১৯৬০ সালের মাঝামাঝি থেকেই নিয়মিত ভাবে ওয়েইলার্সের অ্যালবাম বেরোতে থাকে। তবে বব মার্লে দুনিয়াজুড়ে পরিচিতি পান ১৯৭৩ সালে। ‘ ক্যাচ আ ফায়ার ’ ও ‘বার্নিং’ শিরোনামের জোড়া অ্যালবাম প্রকাশের পরই তিনি এই পরিচিতি পান। এরপর ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে অনেক কনসার্টে গান গেয়েছেন তিনি ও তার দল। বিশ্বজুড়ে খ্যাতি আসতে থাকে তার। সাদাদের সমাজে দাপটের সঙ্গে আসন গেড়েছিলেন বব মার্লে। জ্যামাইকান রেগে, স্পা ইত্যাদি লোকছন্দের ধারার গান দিয়ে তিনি বিশ্ব জয় করেন। উন্নত বিশ্ব মানে পশ্চিমাদের কালোদের ওপর শোষণ-নিপীড়নের কথা বলেছেন তিনি পশ্চিমে অবস্থান করেই।

রাসটাফারি ধর্মে বিশ্বাসী মার্লে জীবনঘনিষ্ঠ গান গাইতেন বলেই বিশ্বজুড়ে তার বিপুল জনপ্রিয়তা তৈরি হয়। অবহেলিত মানুষের অধিকার নিয়ে গান গাওয়ায় অনেকের প্রিয় মানুষে পরিণত হন মার্লে। বহু প্রতিভার অধিকারী মার্লে প্রায় ৫০০ গান লিখে সুর করেছেন। ১৯৯৯ সালে ‘বব মার্লে এন্ড দ্য ওয়েইলার্স’ অ্যালবামকে ‘বিশ শতকের সেরা অ্যালবাম’ নির্বাচিত করে টাইম ম্যাগাজিন। তার গাওয়া সবচেয়ে জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ‘গেট আপ স্ট্যান্ড আপ’, ‘বাফেলো সোলজার’, ‘ওয়ান লাভ’ ও ‘নো ওম্যান নো ক্রাই’। বিবিসি তার ‘ওয়ান লাভ’ গানটিকে শতাব্দীর সেরা গান নির্বাচিত করেছে।

বব মার্লে ছিলেন তৃতীয় বিশ্বের আইকন। ৩৬ বছরের ছোট্ট জীবনে তিনি আলোড়ন তুলেছিলেন সারা পৃথিবীব্যাপী। ১৯৪৫ সালের আজকের দিনে জন্মগ্রহন করেন এই মহান শিল্পী। শুভ জন্মদিন মার্লে।

print

LEAVE A REPLY