স্বাস্থ্য ভালো রাখার ফ্রী ওষুধ ‘হাসি’

স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য আমরা অনেক ধরনের ওষুধ ব্যাবহার করি। কিন্তু এই স্বাস্থ্য ভাল রাখার জন্য এমন একটি ওষুধ আছে যেটি আমরা যেকেও যেকন সময় ব্যাবহার করতে পারি, তাও আবার কোন খরচ ছাড়াই। আর স্বাস্থ্য ভাল রাখার সেই অতি মূল্যবান ওষুধটি হচ্ছে ‘হাসি’।

হাসাহাসি করলে শুধুমাত্র মন ভালো থাকে তাইই নয়, এটা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো। বলা যায় হাসির উপর ওষুধ নেই। হাসি শুধু মানুষকে একে অন্যের কাছেই টানে তা না, এটা আমাদের আবেগ ও স্বাস্থ্যের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, হাসি নানাভাবে আমাদের শরীরের গঠনে সাহায্য করে। আজকের দুনিয়ায় যখন স্ট্রেসের মাত্রা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন হাসিই কিন্তু আমাদের নানা রোগের হাত থেকে বাঁচাতে পারে।

হাসি সারা শরীরকে শিথিল করে
মন খুলে হাসার এমনকি প্রায় পঁয়তাল্লিশ মিনিট পরেও ফিজিক্যাল টেনশন, মানসিক চাপ দূর করে আমাদের শরীরের পেশীগুলোকে শিথিল করে।
রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে
হাসি মানসিক চাপ বাড়ায় এমন হরমোনকে প্রতিরোধ করে ও রোগপ্রতিরোধী হরমোন ও সংক্রমনের বিরুদ্ধে লড়াই করে এমন এন্টিবডির সংখ্যা বাড়ায়। এভাবে হাসি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
এন্ডরফিনের নিঃসরণ বাড়াতে হাসি
এন্ডরফিন হচ্ছে মানবশরীরের এমন এক হরমোন যার প্রভাবে আমরা ভালো অনুভব করি। এটি নিঃসরণের সাথে সাথে আমরা স্বাভাবিকভাবেই সুখি বোধ করি এবং সাময়িকভাবে ব্যাথাও কমায়।
রক্তচাপ কমায়                                                                                                                      একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে হাসার সময় আমাদের সারা শরীরে রক্তের প্রভাব একদিকে যেমন বেড়ে যায়। তেমনি রক্তনালীগুলি প্রসারিত হতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই শিরা-ধমনীর উপর চাপ কম পরে। আর এমনটা হলে ব্লাড প্রেসার কমতেও সময় লাগে না। তাই প্রেসারের রোগীরা যদি গোমড়ামুখো হন, তাহলে কিন্তু অনেক বিপদ।                              হৃৎপিণ্ড ভালো রাখে
হাসি রক্তনালীগুলোর কার্যক্রম এবং রক্ত চলাচল বাড়ায়। ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।
ক্যালরি ঝরায়
হাসলে জিমে যাওয়া লাগবে না বা ব্যায়াম করা লাগবে না ব্যপারটা তা না। তবে কিছু পরীক্ষায় দেখা যায়, দিনে দশ থেকে পনেরো মিনিটের হাসি চল্লিশ ক্যালরি পর্যন্ত পোড়াতে সক্ষম। এভাবে বছরে তিন থেকে চার পাউন্ড ওজন কমানো সম্ভব।
রাগ নিয়ন্ত্রণ সাহায্য করে
যেকোন দ্বন্দ্ব কমাতে কিংবা রাগ নিয়ন্ত্রণে হাসির চাইতে ভালো আর কিছুই নয়। যেকোন বিষয়ের মজার দিকটি যদি চোখে পড়ে তবে তা তিক্ততা কমায়। এভাবে দ্বন্দ্ব কমাতে সাহায্য করে হাসি।
জীবিনীশক্তি বাড়ায়
নরওয়ের এক সমীক্ষা দেখাচ্ছে, যাদের সেন্স অব হিউমার বা রসবোধ খুব ভালো তাদের গড় আয়ু যারা কম হাসে তাদের চাইতে বেশি। এমনকি ক্যান্সার প্রতিরোধেও হাসি চমৎকার কাজ করে।
মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হাসি
হাসলে ভালো বোধ হয় আর এই ভালো অনুভবের রেশ হাসির পরেও রয়ে যায়। তাছাড়া রসবোধ দুঃসময়ে, মন খারাপের মুহূর্তে কিংবা কোন পরাজয়ের মুহূর্তে ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।
দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হাসি
হাসিখুশি থাকলে আপনি আরও বেশি বাস্তবভিত্তিক চিন্তা করতে শুরু করবেন। জীবনকে কিংবা যেকোন ঘটনাকে হালকা করে নিতে পারবেন। এতে করে ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে মনস্তাত্বিক দূরত্ব কমে আসে আর যেকোন দ্বন্দ এড়ানো সহজ হয়।
একে অন্যেকে কাছে টানে হাসি
আমাদের মানসিক ও আবেগীয় স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হাসি দারুণ ভূমিকা রাখে। এতে করে ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে দূরত্ব কমে আসে ও একে অন্যের কাছাকাছি আসে।
হাসি একটি ব্যায়াম                                                                                                            একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে হাসার সময় আমাদের শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত ক্যালোরি বিপুল পরিমাণে বার্ন হতে থাকে। শুধু তাই নয়, এই সময় পেটেও খুব চাপ পরে। ফলে সব দিক থেকে ওজন হ্রাসের পথ প্রশস্ত হয়।

print

LEAVE A REPLY