বিএনপি নেতাদের ‘কড়া নির্দেশ’ তারেক রহমানের

নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়াতে বিএনপির প্রার্থীদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন লন্ডনে অবস্থানরত দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ ছাড়া আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নির্ধারিত কয়েকজন প্রার্থীকে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। শনিবার সন্ধ্যায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্কাইপে’র মাধ্যমে এ দুই ‘কড়া নির্দেশ’ দেন তারেক রহমান।
শনিবার সন্ধ্যায় এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে যোগ দিতে বিকেল ৫টার দিকে নয়াপল্টনের কার্যালয়ে যান প্রার্থীরা। দুই দফায় ১০ প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলেন তারেক রহমান। বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক নেতা এসব জানান। বৈঠক সম্পর্কে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের কাছে জানতে চাইলে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।
শনিবার তারেক রহমান যাদের সঙ্গে কথা বলেছেন তারা বলেন, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে আমান অমি, শরিফুল আলম, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, জি কে গউছ, আজিজুল বারী হেলাল, লুৎফর রহমান কাজল, মিজানুর রহমান চৌধুরী, হাজী মুজিব, শামা ওবায়েদ, মিজানুর রহমান মিনু, জয়নুল আবদিন ফারুক, রফিকুল আলম মজনু, মাইনুল ইসলাম খান শান্ত প্রমুখ।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে সারাদেশের ৬৪ জেলা থেকে হাইকোর্টের নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। দলের স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্য মামলা না করার বিষয়ে অবস্থান নিলেও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তা আমলে নেননি।

আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সবগুলো জেলার প্রতিনিধিদের হাইকোর্টে মামলা করতে বলা হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, নির্বাচনের ৪৫ দিনের মধ্যে নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করতে হয়।
শনিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুই পর্বে প্রায় ৪০টি জেলার প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে অংশ নেওয়া অন্তত চারজন বিএনপি নেতা জানান, স্কাইপে দুই গ্রুপে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে কথা বলেন তারেক রহমান। প্রথম পর্ব ঘণ্টা দুয়েক স্থায়ী হলেও পরের পর্বে দেড় ঘণ্টা কথা বলেন লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমান।

বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ জেলা সভাপতি শরিফুল আলম বলেন, ‘নির্বাচনের পর ফলোআপ করতেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি প্রায় সব জেলার নেতাদের ডেকে কথা বলবেন। বৈঠকে নির্বাচন নিয়ে নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’

বৈঠকে তারেক রহমান একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে প্রত্যেক আসন ধরে ফল পর্যালোচনা করার নির্দেশ দেন। পরে স্থায়ী কমিটির অন্যতম একজন সদস্যের বাধার কারণে তা থেকে সরে আসে বিএনপি। নির্বাচনের পর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে মামলার করার বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিলেও স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্য মামলা করতে অনুৎসাহিত করেন। এরপর গত বৃহস্পতিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) লন্ডন থেকে তারেক রহমান নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে ফের নির্দেশ দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার দুই পর্বে প্রায় ৪০ জেলার নেতাদের সঙ্গে স্কাইপে কথা বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে মামলার বিষয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী ১৫ তারিখের মধ্যে আমরা মামলা করবো।’

বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক প্রতিনিধি জানান, নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে মামলা করার প্রস্তুতি এরই মধ্যে বিএনপির প্রার্থীরা শুরু করেছেন। ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পোস্টমর্টেম’ শীর্ষক কাজটি ভোটাধিকার আন্দোলনের শিরোনামে এখন সারাদেশেই হবে।

শনিবার বৈঠক প্রসঙ্গে বিএনপির তিন জেলা সভাপতি জানান, ৬৪টি জেলা থেকে একটি করে মামলা করা হবে নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে। প্রত্যেকটি আসন থেকে প্রত্যেক প্রার্থীকেই একসঙ্গে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান।

সিলেট বিভাগের দুইজন নেতা জানান, তারেক রহমান নিজেই সংশ্লিষ্ট ৬৪ জনকে চূড়ান্ত করেছেন। শনিবারের বৈঠকে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকেই তারেক রহমানের মাধ্যমে সিলেক্টেড হয়েছেন। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ আমন্ত্রণ জানান নির্বাচিত নেতাদের।

উৎসঃ দেশ জনতা

print

LEAVE A REPLY