খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে রিজভীর আহ্বান

খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখে নির্বাচন করে উদ্দেশ্য হাসিল হওয়ার পর এবার খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “মিথ্যা দণ্ড দিয়ে তাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার সাধ পূর্ণ করলেন, এবার মুক্তি দিন। প্রধানমন্ত্রী আপনি দেয়ালের ভাষা পড়ুন, চারিদিকে মানুষ চোখে-মুখে কী বলছে, বোঝার চেষ্টা করুন। পৃথিবীটা ক্ষণিকের, কিন্তু কর্মফল অনন্তকালের। এখনও সময় আছে, এবার দেশনেত্রীকে মুক্তি দিন”।

আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী। এ সময় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।

সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাধবায়ক সরকার আমলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও মামলা হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, “তিনি যখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তখন তার মাথার উপর ১৫টি দুর্নীতি মামলা ছিল। সেগুলো আদালতের মাধ্যমে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। “আর বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের মামলাগুলোকে চলমান রেখে এখন সাজা দেওয়া হচ্ছে আইন-আদালতকে কব্জা করে। উদ্দেশ্য তাদেরকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখা”।

দীর্ঘ এক বছর ধরে কারাবন্দি অসুস্থ বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে টেনেহিঁচড়ে জবরদস্তি করে আদালতে আনা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

কারাঅন্তরীণ খালেদা জিয়ার চিকিৎসার দাবি জানিয়ে রিজভী বলেন, “তার অসুস্থতা দিনে দিনে বাড়লেও তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। পুরনো রোগগুলো বেড়ে গেছে। চোখে প্রচণ্ড ব্যথা, পা ফুলে গেছে, হাঁটতে পারছেন না। নির্যাতন সহ্য করতে গিয়ে তার পূর্বের অসুস্থতা এখন আরও গুরুতর রূপ ধারণ করেছে”। “এইরকম শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও অমানবিকভাবে কারাগারের ভেতরে স্থাপিত ছোট্ট অপরিসর কক্ষের ক্যাংগারু আদালতে তাকে ঘন ঘন হাজির করা হচ্ছে। চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকলেও তিলে তিলে শেষ করে দেওয়ার জিঘাংসা চরিতার্থ করে চলেছে সরকার”।

রিজভী সরকারের উদ্দেশে আরো বলেন, “হলমার্ক, সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের বিচার না করে দুই কোটি টাকার তথাকথিত প্রমাণহীন ও সংশ্লিষ্টতাহীন দুর্নীতির বিচারে ১০ বছর সাজা দেওয়া হলো। রেন্টাল-কুইক রেন্টাল বিদ্যুতের দুর্নীতির অভিযোগ তুলে যাতে কেউ মামলা করতে না পারেন, সে জন্য জাতীয় সংসদে ইনডেমনিটি বিল পাস করা হয়েছে। দেশের উন্নয়নের নামে মেগা মেগা প্রকল্প গ্রহণ করে সেগুলো বাস্তবায়নে সময়ক্ষেপণ এবং দফায় দফায় ব্যয় বৃদ্ধি কি দুর্নীতি নয়? খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডে যে মন্ত্রীরা উৎফুল্ল, তাঁরা আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখেন কখনো? যারা লাখো কোটি টাকা পাচার করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, উল্টো তারাই জাতির দণ্ডমুণ্ডের কর্তা সেজেছেন”।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহদপ্তর সম্পাদক মো. মুনির হোসেন প্রমুখ।

print

LEAVE A REPLY