প্রেমিকাকে খুন, ফোন করে জানাল ঘাতক

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায়, রোজিনা বেগম নামে এক গৃহবধূকে খুন করে, পরে তা নিজেই ফোন করে জানায় কথিত প্রেমিক। সোমবার রাতে রোজিনার গলায় বৈদ্যুতিক তার পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর পালিয়ে যায় ঘাতক সঞ্জয়। ঘটনার সময় রোজিনার দুই কন্যাশিশু বাসাতেই ঘুমিয়ে ছিল।

মঙ্গলবার সকালে ঘুম থেকে উঠে তারা দেখতে পায় মায়ের নিথর দেহ পড়ে আছে। রোজিনার বড় বোন হাজেরা বেগম জানান, তার মোবাইলে ফোন করে রোজিনার মৃত্যুর সংবাদ দেয় সঞ্জয় নিজেই।

খবর পেয়ে পুলিশ মঙ্গলবার দুপুরে ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুর কবরস্থান রোডের হাকিম মিয়ার বাসা থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। রোজিনা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার আইন্তা এলাকার মৃত মমিন মিয়ার মেয়ে এবং বগুড়ার নীরবের স্ত্রী।

পারিবারিক সূত্র জানায়, দুই বছর আগে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ব্রাহ্মণগাঁও এলাকার সঞ্জয় নামে এক ছেলের সঙ্গে ফোনে রোজিনার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে স্বামী-সন্তান ফেলে ফতুল্লার ইদ্রাকপুরে বাসা ভাড়া নিয়ে সঞ্জয়ের সঙ্গে বসবাস শুরু করেন তিনি। তবে সঞ্জয়ের সঙ্গে রোজিনার বিয়ে হয়েছে কি-না বিষয়টি নিশ্চিত নন তারা। তা ছাড়া রোজিনা তার আগের স্বামীকেও তালাক দেননি। এরপর থেকে রোজিনার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় পরিবারের। সোমবার বিকেলে রোজিনা তার স্বামীর কাছ থেকে দুই সন্তানকে নিয়ে আসেন।

নিহতের বড় মেয়ে মাহমুদা আক্তার জানায়, “রাতে মায়ের সঙ্গে সঞ্জয়ের ঝগড়া হয়। ওই সময় সঞ্জয় মাকে হুমকি-ধমকি দেয়। তাদের ঝগড়ার মধ্যেই মা তাকে ঘুমাতে বলেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি সেই লোকটা বাসায় নেই, আর মায়ের গলায় বৈদ্যুতিক তার পেঁচানো রয়েছে। মায়ের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এসে পাশের ফার্মেসি থেকে একজন লোক নিয়ে আসেন। তিনি পরীক্ষা করে জানান মা মারা গেছেন।”

ফতুল্লা মডেল থানার এসআই আবদুল করিম বলেন, সঞ্জয়কে গ্রেফতার করতে পারলে হত্যার আসল রহস্য জানা যাবে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

print

LEAVE A REPLY