কবরে থেকেও তিনি ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক’

এ কে এম শফিউল ইসলাম। অধ্যাপনা পেশায় ছিলেন দীর্ঘদিন। কিন্তু একটি সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ দিতে হয় তাকে। এ ঘটনা ২০১৪ সালের ১৫ নভেম্বর। কিন্তু আজ শনিবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে এখনো শফিউল ইসলামের নাম ঝুলছে। এটা যেকেউ দেখলে মনে করতে পারেন, এখনো হয়তো তিনি ‘শিক্ষকতায়’ রয়েছেন!

যদিও বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান গত ২২ ফেব্রুয়ারি একটি অনুষ্ঠানে ঘোষণা করেছিলেন, দেশের প্রথম ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় হবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। এ জন্য সব ধরনের কাজ করে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

কিন্তু অনেকেই বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মুখপাত্র’ যে ওয়েবসাইট (www.ru.ac.bd), সেখানে অনেক দিন ধরেই তথ্য হালনাগাত করা হয় না। এতে করে দেশে ও দেশের বাইরে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট দেখে অনেকেই তথ্য-বিভ্রাটে পড়তে পারেন। তাই এটা নিয়মিত হালনাগাত করা প্রয়োজন।

নিহতের এত বছর পরও অধ্যাপক এ কে এম শফিউল ইসলামের নাম কেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে শিক্ষকদের তালিকায় রাখা হয়েছে, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা কম্পিউটার সেন্টার থেকে সঠিক কোনো উত্তর মেলেনি।  দায়িত্বপ্রাপ্তরা একে অপরকে দোষারোপ করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১৫ নভেম্বর দুপুরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন চৌদ্দপাই এলাকায় নিজ বাসার সামনে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে গুরুতর আহত করে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম শফিউল ইসলামকে। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

ওই ঘটনার পাঁচ ঘণ্টার মাথায় ফেসবুকে ‘আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশ-২’ নামের একটি পেজ খুলে তাতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করা হয়। চাঞ্চল্যকর এ খুনের ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মতিহার থানায় মামলা করেন।

ইতিমধ্যে বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম এখন প্রায় শেষ প্রান্তে।  এ মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। এখন আসামি পরীক্ষার জন্য আগামী ২১ মার্চ দিন ধার্য করেছেন রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল।

আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকদের তালিকায় সাত নম্বরে রয়েছে অধ্যাপক এ কে এম শফিউল ইসলামের নাম।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামজবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মুহা. জুলিফকার আলী ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে শিক্ষকদের তালিকায় অধ্যাপক শফিউল ইসলামের নাম মুছে ফেলা উচিত ছিল। কেননা, এটা থেকে অন্যরা তথ্যবিভ্রাটে পড়তে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট তদারকি করে কম্পিউটার সেন্টার। এটা ঠিক করা তাদের দায়িত্ব।’

তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক খাদেমুল ইসলাম মোল্যা বলেন, ‘বিভাগগুলোর ওয়েবসাইট মেইনটেইন করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বিভাগের। বিভাগ ও প্রত্যেক শিক্ষককে আলাদাভাবে এই অনুমতি দেওয়া আছে। তাই শিক্ষকদের তালিকা আপডেট করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বিভাগের। আমরা শুধু মূল সাইটটি মেইনটেইন করি আর টেকনিক্যাল সাপোর্ট দেই।

print

LEAVE A REPLY