বিশ্ব ব্যাংকের শীর্ষ পদে বিতর্কিত ম্যালপাসই 

বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প মনোনীত যুক্তরাষ্টের অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিতর্কিত কর্মকর্তা ডেভিড ম্যালপাস।

বিশ্ব ব্যাংকের নির্বাহী পর্ষদের সদস্যরা শুক্রবার সর্বসম্মতিক্রমে ১৩তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাকে মেনে নেন। আগামী মঙ্গলবার থেকে পাঁচ বছরের জন্য বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপের নেতৃত্ব দেবেন ম্যালপাস।

ট্রাম্প গত ফেব্রয়ারিতে ম্যালপাসকে বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়নের ঘোষণা দিলে বিতর্কের জন্ম হয়। বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফের সমালোচনা করে আসা এই মার্কিন অর্থনীতিবিদ বিশ্ব ব্যাংকের ভূমিকা খর্ব করতে পারেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অনেকে।

বিশ্ব ব্যাংক ‘অনেক বড়’ বলে মনে করেন ডেভিড ম্যালপাস। চীনের মতো মধ্যম আয়ের দেশগুলোকে কম ঋণ দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি। এই দেশগুলো অর্থনৈতিকভাবে যথেষ্ট শক্তিশালী বলে যুক্তি দেন ম্যালপাস।

ম্যালপাস এখন বিশ্ব ব্যাংকে যেসব পরিবর্তন আনতে পারেন তার মধ্যে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে দরিদ্র দেশগুলোর প্রতি যে গুরুত্ব থাকে, তা সীমিত হতে পারে বলে বিবিসির প্রতিবদেনে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

যদিও বিশ্ব ব্যাংকের ২৫ সদস্যের নির্বাহী পর্ষদের সবাই প্রেসিডেন্ট পদে ম্যালপাসকে সমর্থন জানিয়েছেন। এখানে চীনের প্রতিনিধি সংখ্যা তৃতীয় সর্বোচ্চ হলেও তারাও আপত্তি করেননি। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিলানোভা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্রিস্টোফার কিলবি বিবিসিকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রার্থীকে পরাজিত করা যাবে না বুঝতে পেরেই চীন ও অন্যান্য অংশীদাররা ম্যালপাসের বিপক্ষে যাননি বলেই তার ধারণা।

“যেহেতু তারা দেখেছে যে, কেউ ট্রাম্পের বিরোধিতা করলে তিনি তাকে শাস্তি দেন, তাই তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লড়তে চায়নি।”

২০১২ সাল থেকে বিশ্ব ব্যাংকের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন জিম ইয়ং কিম। ২০১৭ সালে ৫৯ বছরের জিম দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হন, ২০২২ সাল তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার তিন বছর আগেই গত ৭ জানুয়ারি কিম আকস্মিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন, যা ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হয়।

print

LEAVE A REPLY