মালয়েশিয়ায়: ৬ বাংলাদেশিসহ নিহত ১০ (নিহত ৫ বাংলাদেশির নাম)

মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের বহনকারী বাস খাদে পড়ে যে ছয় বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন তাদের মধ্যে পাঁচজনের নাম জানিয়েছে মালয়েশিয়ার একটি গণমাধ্যম। রবিবার রাতের ওই দুর্ঘটনায় ছয় বাংলাদেশি ছাড়া নিহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। তার মধ্যে যানটির চালকও আছেন।

রাতের ওই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩২ জন। হতাহতদের মধ্যে মালয়েশীয় ছাড়াও ১২ জন বাংলাদেশি, ১২ জন নেপালি, ১৪ জন ইন্দোনেশীয় রয়েছেন।

মালয় দৈনিক বেরিতা হারিয়ান নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে পাঁচজনের নাম প্রকাশ করেছে। তারা হলেন মো. রাজীব মুন্সি (২৬), মো. সোহেল (২৪), মুহিন (৩৭), আল আমিন (২৫) ও গোলাম মোস্তফা (২২)। তাদের মরদেহ সেরডং হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

আহত বাংলাদেশিরা হলেন নাজমুল হক (২১), মো. রজিবুল ইসলাম (৪৩), ইমরান হুসাইন (২১), জাহিদ হাসান (২১), শামিম আলি (৩২), মোহাম্মদ ইউনুস (২৭), মো. রাকিব (২৪)। তাদের মধ্যে প্রথম তিনজনকে সেরডং হাসপাতাল এবং পরের চারজনকে পুত্রজায়া হাসপাতালে নেয়া হয়। তাদের মধ্যে ইমরান হুসাইন, জাহিদ হাসান ও মো. রাকিব সামান্য আহত হওয়ায় তাদের চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতাল ছাড়ার অনুমতি দে্ওয়া হয়েছে।

কুয়ালালামপুর ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট জেলার পুলিশ প্রধান জুলকিফি আদমশাহ জানান, রাত ১১টার দিকের এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে আট শ্রমিক এবং বাসচালক নিহত হন। পরে সেরডং এবং পুত্রজায়া হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান আরও দুইজন।

জুলকিফি বলেন, বাসটিতে ৪৩ জন যাত্রী ছিল। তারা মাসকার্গোয় চুক্তিভিত্তিক কাজ করতো। আহতদের সেরডাং, পুত্রজায়া, বানটিং এবং কাজাংয়ের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এরই মধ্যে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।

মালয়েশিয়ায় ফ্যাক্টরির বাস খাদে পড়ে ৬ বাংলাদেশিসহ ১০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রোববার (৭ এপ্রিল) এ কেএল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের এমএএস কার্গো, জালান এস ৮ পেকেলিলিংয়ের পাশে একটি ফ্যাক্টরির বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেলে এতে ৬ বাংলাদেশিসহ ১০ জন নিহত হয়।

ঘটনাস্থল থেকে রাত ১১টার দিকে গুরুতর আহতাবস্থায় সার্ডাঙ্গ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অপর এক বিদেশি ও স্থানীয় বাস চালক নিহত হন। জানা গেছে, বাসটি নীলাই, নেগরি সেম্বিলান থেকে আসার পথে এ ঘটনাটি ঘটে।

কেএলআইএ ওসিপিডি সহকারী কমিশন জুলকিফলি আদমশাহ বলেন, বাসটি ৪৩ জন যাত্রী বহন করছিল, যারা এমএএস কার্গোতে চুক্তি ভিত্তিক কাজ করতেন। গুরুতর আহত বাকি ৩৪ জন যাত্রীকে চিকিৎসার জন্য কাজাং, সার্ডাং ও পুত্রাজায় হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কারো নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করছে পুলিশ।

এ দিকে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার খবর পেয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশন তাদের পরিচয় শনাক্ত করতে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন বলে জানান, কল্যাণ সহকারী মো: মুকসেদ আলী।

print

LEAVE A REPLY