শেষ পর্যন্ত চলে গেলেন নুসরাত

আর বাঁচানো গেলনা ফেনীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতকে। উন্নত চিকিৎসার জন্য আর সিঙ্গাপুরেও যাওয়া হলো না তার। আর কখনো মা-বাবার বুকে ফিরবেন না তিনি। ভাইদেরও আর কখনো ভাই বলে ডাকবেন না।

পোড়া শরীর নিয়ে টানা পাঁচদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে হার মানলেন নুসরাত। আজ বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নুসরাতকে মৃত ঘোষণা করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকরা। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন নুসরাতের মৃত্যুর বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে রাত ৯টার দিকে নুসরাতের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। দ্রুত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ছুটে যান চিকিৎসকরা। এরপর সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। নুসরাতের মৃত্যুতে ঢাকা মেডিকেলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর স্বজনরা। এ সময় হাসপাতালে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

এর আগে গত ৮ এপ্রিল নুসরাত জাহানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানোর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসকরা। কিন্তু এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর যাওয়ার মতো নুসরাতের শারীরিক অবস্থা না থাকায় সেখানকার চিকিৎসকরা ঢাকা মেডিকেলেই নুসরাতকে চিকিৎসার দেওয়ার পরামর্শ দেন। অবস্থার একটু উন্নতি হলে সিঙ্গাপুর আনতে বলেন। সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ঢাকাতেই নুসরাতের চিকিৎসায় সর্বাত্মক সেবা দেন বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকরা। কিন্তু সবাইকে কাঁদিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরতরে।

print

LEAVE A REPLY