যে ছবির কারনে বাবাকে হারাতে হয়নি দুই বছরের শিশুকে

গত বছর সারা বিশ্বে আলোড়ন তুলেছিল ‘ক্রাইং গার্ল ইন দ্যা বর্ডার’ শীর্ষক ছবিটি । এটি এমনি এক ছবি ছিল যা প্রকাশ্যে আসার পরই আলোড়ন তুলে বিশ্বজুড়ে।

আবারো আলোচনায় ‘ক্রাইং গার্ল ইন দ্যা বর্ডার’  শিরোনামের ছবিটি। এবার চার হাজার ৭৩৮ জন আলোকচিত্রীর তোলা ৭৮৮০১ হাজার ছবিকে পেছনে ফেলে সেরা ছবিতে বিবেচিত হয়েছে এ ছবি। ছবিটি ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো অ্যাওয়ার্ডের সিঙ্গলস ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার জিতে নিয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ পুরস্কার ঘোষিত হয়।

ছবিটি তুলেছেন আলোকচিত্রী ও সাংবাদিক জন মুর। দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকা-মেক্সিকো সীমান্তে কাজ করছেন এই চিত্রসাংবাদিক।ছবিতে দেখা গেছে, এক ব্যক্তির তল্লাশি করছেন সীমান্তরক্ষী। লোকটির পাশেই গাড়ির দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদছে একটি কন্যা শিশু। শিশুটি তার অভিভাবকের এমন অবস্থায় দেখে ভীত-সন্ত্রস্ত।

ছবিটির পেছনের ঘটনা প্রসঙ্গে জন মুর বলেন, “২০১৮ সালের ১২ জুনে সন্ধ্যায় ছবিটি তুলি। সেদিন ঘুটঘুটে অন্ধকারকে পুঁজি করে মেক্সিকো থেকে সীমান্ত পেরিয়ে টেক্সাসে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন বেশ কয়েকজন উদ্বাস্তু। তবে সীমান্তরক্ষীরা হাতে নাতে ধরে ফেলেন তাদের। তাদের মধ্যেই ছিলেন হন্ডুরাসের স্যান্ড্রা স্যানচেজ ও তার দুই বছরের কন্যা ইয়ানেলা। বাবাকে পেছনে ঘুরিয়ে বন্দুকধারী সীমান্তরক্ষীদের এভাবে তল্লাশি দেখে ভয়ে কাঁদতে শুরু করে দেয় ইয়ানেলা। আর সেই ঘটনাকে ক্যামেরাবন্দি করি আমি। এর নাম দেই ‘ক্রাইং গার্ল ইন দ্যা বর্ডার’।”

ধরা পড়ে যাওয়া এসব উদ্বাস্তু শিশুদের বাবা-মা থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফস্টার হোম অথবা কোনো শিবিরে রেখে দেয় মার্কিন প্রশাসন। তবে জন মুরের ‘ক্রাইং গার্ল ইন দ্যা বর্ডার’ ছবিটি প্রকাশের পর বাবার আদর থেকে বঞ্চিত হননি ইয়ানেল। তাদের দুজনকে একসঙ্গেই রাখ হয়েছে বলে জানিয়ে মার্কিন প্রশাসন।

সেরা ছবি হিসেবে পুরষ্কার জিতলেও এ খবর প্রথম পুরস্কারের চাইতে বেশি আনন্দময় বলে মনে করেন জন মুর।

print

LEAVE A REPLY