কারা হেফাজতে আইনজীবীর মৃত্যু, বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি

পঞ্চগড় জেলা কারাগারের ভিতরে হেফাজতে থাকা আইনজীবী পলাশ রায় আগুনে দগ্ধ হয়ে পুড়ে মরার ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীদের সংগঠন ন্যাশনাল ল’ইয়ার্স কাউন্সিল (এনএলসি)র চেয়ারম্যান এসএম জুলফিকার আলী জুনু। এর সাথে এই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে একটি নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান এনএলসি।

আজ শনিবার দুপুরে আইনজীবীদের সংগঠন এনএলসির পক্ষে গণমাধ্যমে বিবৃতিটি পাঠান এনএলসির মুখপাত্র অ্যাডভোকেট এম আমিনুল ইসলাম মনির।

এনএলসির চেয়ারম্যান বিবৃতিটি আরো বলেন, জেল হাজতে বন্দী অবস্থায় আগুনে পুড়ে মরার ঘটনা নজিরবিহীন। অনতিবিলম্বে কারাগারে হেফাজতে থাকা বন্দী আইনজীবী পলাশ আগুনে দগ্ধ হয়ে পুরে মরার প্রকৃত ঘটনা ও রহস্য আইনজীবী সমাজ ও দেশবাসীর নিকট কারা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রকাশ করার জন্য দাবি জানাচ্ছি। উক্ত ঘটনার পেছনে কোন রহস্য আছে কিনা তা আইনজীবী সমাজ জানতে চায়। অনতিবিলম্বে আমরা প্রকৃত রহস্য জানতে চাই।

এর আগে, পঞ্চগড়ে প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে পলাশ কুমার রায় নামের আওয়ামী লীগের এক সমর্থককে গত ২৫ মার্চ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। সেই পলাশকে জেলের ভেতরই অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় গত ২৬ এপ্রিল উদ্ধার করে প্রথমে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল ও পরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শরীরের ৪৭ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ থেকে পরদিন উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয় তাঁকে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সেখানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা গেছেন পলাশ। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে পঞ্চগড় কারা কর্তৃপক্ষ ও পলাশের মা মীরা রানী। পলাশ আটোয়ারী উপজেলার সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মীরা রানীর ছেলে। তাদের বাড়ি আটোয়ারীর বড়শিংগিয়া এলাকায়। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পলাশ ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরেছিলেন।

জানা যায়, পলাশ গত ২৫ মার্চ দুপুরে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এক মানববন্ধনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে কটূক্তি করেন। এ সময় প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনী সম্পর্কেও অশালীন বক্তব্য দেন। তখন স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে আটক করে পঞ্চগড় সদর থানার পুলিশের কাছে তুলে দেয়। বিকেলে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করায় পঞ্চগড় জেলা শহরের ধাক্কামারা এলাকার রাজিব রানা নামের এক যুবক পলাশের বিরুদ্ধে পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা করেন। ওই দিনই তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

কারাগার সূত্রে জানা গেছে, ২৬ এপ্রিল সকালে হঠাৎ হাসপাতালের বাইরে থাকা একটি টয়লেট থেকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় তিনি দৌড়ে বের হলে কারারক্ষীরা তার শার্ট-প্যান্ট ছিঁড়ে শরীরের আগুন নেভান। মূলত তার কোমর থেকে নিচ পর্যন্ত পুড়ে যায়।

মা মীরা রানী রায় ছেলে পলাশের অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করেন এবং অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পর খবর না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ ঘটনায় তিনি সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

print

LEAVE A REPLY