পুরুষের তুলনায় বাংলাদেশের নারীরা প্রায় দ্বিগুণ অলস!

আমারা প্রায় সকলেই অলসতা নামক ভয়ঙ্কর এক রোগে আক্রান্ত। আর অলসতা নামক এই রোগটি নাকি ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের বেশি থাকে, যা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সে হিসেবে বাংলাদেশের মেয়েরাও এগিয়ে আছে ছেলেদের থেকে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) জরিপে প্রকাশ করা হয় যে, বিশ্বে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের মধ্যে অলসতা প্রায় দ্বিগুণ বেশি। ২০০১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিশ্বের ১৬৮ দেশের ১৯ লাখ মানুষের ওপর জরিপ চালিয়ে ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংস্থাটি, যা সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ জার্নালে।

আর এই অলসদের তালিকায় বাংলাদেশের ১৬ দশমিক ১ ভাগ পুরুষও রয়েছে যেখানে নারীর হার ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশ। এই জরিপ শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের ১৬৮টি দেশের মানুষের ওপর করা হয়েছে; যেখানে দেখা গেছে সারা বিশ্বের ২৭ দশমিক ৫ ভাগ মানুষ কম কাজ করতে চায় বা শরীর চর্চায় বিমুখ। এর মধ্যে পুরুষ ২৩ দশমিক ৪ ভাগ ও নারী ৩১ দশমিক ৭ ভাগ।

অথাৎ, শরীর চর্চায় বিমুখতা বা অলসতার দিক দিয়ে ১৬৮ দেশের গড় হিসেবের তুলনায় বাংলাদেশের নারীরা প্রায় ৮ শতাংশ এগিয়ে আছে ও পুরুষরা প্রায় ৭ ভাগ পিছিয়ে আছে। অবশ্য গবেষণায় এমন দেশও পাওয়া গেছে যেখানকার নারী-পুরুষ উভয় ক্ষেত্রেই অলসতার হার ৫০ শতাংশের উপরে। কুয়েতে ৬১ দশমিক ৩ শতাংশ পুরুষই অলস, যেখানে নারীর অলসতার হার ৭৪ দশমিক ৬ শতাংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওই জরিপে ২০০৩ সালে ৫ হাজার ৪০২ জন এবং ২০০৯ সালে ৯ হাজার ২৭৫ জন বাংলাদেশি অংশগ্রহণ করে। জরিপে অংশগ্রহণকারী এসব মানুষ ১৮ থেকে ৯৯ বছর বয়সী বাংলাদেশি নারী-পুরুষ বলে জানানো হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘যারা সপ্তাহে দুইবার অন্তত ৭৫ মিনিটের জন্য ভারী ব্যায়াম, ১৫০ মিনিটের মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম বা দুটোর মিশ্রণে ব্যায়াম করেন তাদের শরীর চর্চায় সক্রিয় বলে ধরা হয়েছে।’

এই বিবেচনায় ‘অলস’ দেশের তালিকার শীর্ষে রয়েছে কুয়েত এবং সবচেয়ে সক্রিয় দেশের তালিকায় রয়েছে উগান্ডা। কুয়েতের শতকরা ৬৭ ভাগ মানুষ শরীর চর্চায় অনাগ্রহী এবং উগান্ডার ৫ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ।

print

LEAVE A REPLY