‘পীযুষদের আইনের আওতায় আনা হোক, এরাই জঙ্গিবাদের মূলসূত্র’

ইসলাম ধর্মের রীতি নীতিকে জঙ্গিবাদের লক্ষন বলে প্রচার করায় পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিচার দাবি করেছেন দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ। সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বত্র এই দাবি উঠেছে। সচেতন মানুষ মনে করে পীযূষরা দেশে সংঘাত বাধাতে চায়। তাই এই পবিত্র রমজান মাসে এরকম প্রচারণা চালাচ্ছে।

পীযূষের বিচারের দাবি করেছেন, বিশিষ্ট আলেম শায়খ আহমাদুল্লাহ। পীযূষরাই জঙ্গিবাদের মূলসূত্র দাবি করে তিনি তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘পীযুষদের আইনের আওতায় আনা হোক। এরাই জঙ্গিবাদের মূলসূত্র।’

তার স্ট্যাটাসটি নতুন দিগন্তের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো:

“পুরুষের মুখে দাড়ি ও টাখনুর ওপরে প্যান্ট-পাজামা পরা ইসলামের নির্দেশ।
রমজান মাসে ইসলামের এসব বিধানকে জঙ্গিবাদের নিদর্শন বলা মুসলিমদের উস্কানী দিয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির নামান্তর। এই যদি হয় ‘সম্প্রীতি’, তাহলে সহিংতা আর বিদ্বেষ কাকে বলা হবে?
পীযুষদের আইনের আওতায় আনা হোক। এরাই জঙ্গিবাদের মূলসূত্র।”

ইসলাম ধর্মের অবশ্য পালনীয় রীতি নীতিকে জঙ্গিদের লক্ষণ হিসেবে তুলে ধরে জাতীয় পত্রিকাগুলোতে বিজ্ঞাপন দেওয়ায় তোপের মুখে রয়েছেন অভিনেতা পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়। সামাজিক মাধ্যমসহ সর্বত্র চলছে তার সমালোচনা। কেউ কেউ বলছেন তিনি এমন প্রচারণার মাধ্যমে দেশে সংঘাত সৃষ্টি করতে চাইছেন। আবার কেউ বলছেন, সংঘাতের চক্রান্ত না করে এদেশে ভালো না লাগলে ভারত চলে যান।

অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ইলোরা জামান তার ব্যক্তিগত ফেসবুকে পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভালো না লাগলে ভারত চলে যাওয়ার আহ্বান জানান। তার স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন-

‘দাড়ি রাখা, টাখনুর উপর প্যান্ট পরা, ইন্টার্নেটে আসক্তি, এসব জঙ্গি হওয়ার লক্ষণ ইত্যাদি কথা পীযুষ বন্দোপাধ্যায়রা বলবার ধৃষ্টতা করতে পারেন কেন? কারণ, আমাদের জন্য। এইদেশ যদি মুসলিম প্রধান দেশ হতো, সরকার যদি সেকিউলার না হতো তাহলে তারা এসব বলার আগে শতবার চিন্তা করতেন। সাহসই পেতেন না। এগুলো সম্পূর্ণরুপে ধর্মীয় অনুভূতিতে প্রকাশ্য এবং সরাসরি আঘাত।

পীযুষ যে দেশের ছুপা উদ্দেশ্য অনুযায়ী বক্তব্য দিয়েছেন, সেই দেশের মুসলিম কেউ কি হিন্দুদের ধর্ম নিয়ে এইভাবে বক্তব্য দিতে পারতেন?

এসব পীযুষেরা দেশে একটি অস্থিরতা তৈরি করতে চাচ্ছেন এই রমজান মাসে। এদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং উস্কানিমূলক কথা বার্তা বলবার অপরাধে মামলা হওয়া উচিৎ। নইলে উগ্রবাদের জন্ম নিতে পারে।

পীযুষ সাহেবদের বলবো, মুসলিমদের প্রতি এত ঘৃণা রেখে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে, রায়ট উষ্কে দেবার মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসুন। মুসলমানের দেশে বসবাস করে মুসলমানদের প্রতি এই তীব্র ঘৃণামূলক কথাবার্তা না বলে বরং ভালো না লাগলে ভারত চলে যান।’

print

LEAVE A REPLY