আইএস কি তাহলে বাংলাদেশে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ছাপিয়ে গেলো?

আইএস কি তাহলে বাংলাদেশে এসে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ছাপিয়ে গেলো?

পত্রিকায় প্রকাশিত ‘জঙ্গি সনাক্তকরণ’ বিজ্ঞাপনটির ব্যাপারে সরাসরি দায় অস্বীকার করেছে ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ নামক সংগঠনটি। তারা দাবী করেছে, এটা নাকি ‘ষড়যন্ত্র’।

বেশতো, এটা যদি মিথ্যা বা ষড়যন্ত্রই হয় তাহলে এতবড় ঘটনার চারদিন পর কেন আপনাদের বোধদয় হলো? তৎক্ষনাত কেন জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে এর দায় অস্বীকার করলেন না?

লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে আপনাদের নামে এতগুলো জাতীয় পত্রিকায় যারা বিজ্ঞাপন দিলো তাদের বিরুদ্ধে সামান্য একটা প্রতিবাদলিপি, বিবৃতি, প্রেস বিজ্ঞপ্তি, অভিযোগ, মামলা, জিডি কিংবা নূন্যতম একটা আইনগত পদক্ষেপও নিলেন না কেন?

ওই বিজ্ঞাপনে ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নেবার’ কথা লেখা থাকা স্বত্বেও আজ অবধি সরকারের কেউ এটাকে মিথ্যা বলেনি কেন?

আসলে, আপনারা নিজেদের দায় অস্বীকার করতে গিয়ে একযোগে রাষ্ট্র, সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সংবাদপত্রের মালিক-সম্পাদক-প্রকাশক… সবাইকে চরমতম বিপদে ফেলে দিলেন।

বিজ্ঞাপনটি যেহেতু জঙ্গি সংশ্লিষ্ট অতি স্পর্শকাতর বিষয়ক ছিল, নিশ্চয়ই তা ছাপানোর পূর্বে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সবুজ সংকেত ছাড়া ছাপানোর প্রশ্নই আসে না। কারন পত্রিকায় একটা সাধারন হারানো বিজ্ঞপ্তি ছাপাতে হলেও জিডির কপি লাগে। আমরা আইনজীবীরা লিগ্যাল নোটিশ ছাপাতে গেলেও আমাদের প্যাডে সই সীলসহ প্রমান লাগে। আর যেখানে রাষ্ট্রের অতি সংবেদনশীল ধর্মীয় ইস্যু ও আন্তরাষ্ট্রীয় জঙ্গি প্রশ্ন জড়িত সেখানে এতগুলো শীর্ষ পত্রিকায় কোন প্রশ্ন ছাড়াই অনায়াসে এধরনের বিজ্ঞাপন প্রকাশ হয়ে গেলো? এবং প্রকাশের চারদিন পর্যন্ত এর সঠিকতা নিয়ে কেউ কোন প্রশ্নই করলো না?

দেশে বিদ্যমান বিজ্ঞাপন ও ক্রোড়পত্র নীতিমালায় কিংবা ‘জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা, ২০১৪’-তে এই ধরনের বিজ্ঞাপন (যদি মিথ্যা বিজ্ঞাপন হয়ে থাকে) সংশ্লিষ্ট পত্রিকার সম্পাদক, প্রকাশক ও বিজ্ঞাপন ম্যানেজারও বিপদে পরে যাবে।

আপনাদের দায় অস্বীকার যদি সত্য হয়, তাহলে তো আমাদের শত কোটি টাকার ছয় শতাধিক চৌকষ কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত ‘কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট’ সম্পূর্ন ব্যর্থ বলেই প্রমানিত হলো!

দেশের অসংখ্য গোয়েন্দা সংস্থার নাকের ডগার উপর দিয়ে এতবড় জঙ্গি বিষয়ক বিজ্ঞাপন প্রচার করা হলো! আর চারদিন পর আপনারা বলছেন এটা আপনারা ছাপাননি, এটা ষড়যন্ত্র!

আপনাদের দায় অস্বীকার যদি সত্যি হয়, তাহলে এই ঘটনার চারদিন পরেও এনএসআই, ডিজিএফআই, ডিবি, জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশ সদর দপ্তরের স্পেশ্যাল টাস্কফোর্স গ্রুপ (এসটিজি), গোয়েন্দা পুলিশের স্পেশাল হুইপন্স অ্যান্ড ট্যাক্টিকস (সোয়াট), জঙ্গি দমনে র‌্যাপিড অ্যাকশান ব্যাটেলিয়ন (ব়্যাব) এর জঙ্গিবিরোধী ইউনিট, জঙ্গি অর্থায়নে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ইউনিট, জঙ্গি অর্থায়ন বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের টিম … কারোই কোন জবাব বা রেসপন্স নাই কেন?

তাহলে কি আপনাদের ‘দায় অস্বীকার’ মোতাবেক আইএস আপনাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে গিয়ে বাংলাদেশে এসে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ছাপিয়ে গেলো?

২০১৭ সালের ১ মে ‘টাইমস অফ ইন্ডিয়ায়’ একটি চাঞ্চল্যকর সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। খবরে বলা হয়, “ভারতের প্রবীন কংগ্রেস নেতা এবং মধ্যপ্রদেশের সাবেক মূখ্যমন্ত্রী দ্বিগিজয় সিং স্বীকার করেছেন, আইএসআইএসের নামে ওয়েবসাইট চালায় ভারতের তেলেঙ্গানার পুলিশ।” আজকে আপনাদের দায় অস্বীকার যদি সত্যি হয়, তাহলে কি ধরে নিবো এটাও কি তাদেরই কাজ?

টিভিতে সংবাদ শিরোনামে বিজ্ঞাপন প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে হাইকোর্ট। অথচ শীর্ষ জাতীয় পত্রিকায় জঙ্গি বিষয়ক অতি স্পর্শকাতর একটি বিজ্ঞাপন সংশ্লিষ্ট সকলের চোখের সামনেই প্রকাশ হয়ে গেলো! কেউ দেখলো না! কেউ দায়দায়িত্ব নিলো না! ভাবতে অবাক লাগে, আমরা নাকি জঙ্গি দমনের মডেল!!!

ড. তুহিন মালিকের ফেসবুক থেকে

print

LEAVE A REPLY