ঘুষ না পেয়ে ৩ লাখ টাকার ডিম নষ্ট : ৬ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

নাটোরের বনপাড়া হাইওয়ে পুলিশ কর্তৃক ২০ হাজার টাকা বকশিস না পাওয়ায় প্রায় ৩ লাখ টাকার ৩৫ হাজার পিস মুরগির ডিম নষ্ট করার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনায় সম্পৃক্ত ৬ পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিক ক্লোজ করে হাইওয়ে বগুড়া রিজিয়ন সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার দুপুরে পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া ডিমের মালিক শ্রী বিপ্লব কুমার সাহা (৩৫) বগুড়া হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার বরাবর যে অভিযোগ করেছেন তা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অভিযোগ ও প্রকাশিত সংবাদের সত্যতা অনুসন্ধানে হাইওয়ে পুলিশ বগুড়া রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদ উল্লাহকে প্রধান করে শুক্রবার এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে মতামতসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

এখানে উল্লেখ্য যে, নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় ঘুষ না দেয়ায় রশি কেটে পিকআপে থাকা পৌনে তিন লাখ টাকার ডিম রাস্তায় ফেলে নষ্ট করে দেয় বনপাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশ। এতে প্রায় সব ডিম ভেঙে নষ্ট হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার ভোরে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের আগ্রান সুতিরপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে ডিমের মালিক বিপ্লব কুমার সাহার পথে বসার উপক্রম হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার ভোর রাতে একটি পিকআপ ৩৫ হাজার ১০০ ডিম নিয়ে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ থেকে নাটোরে যাচ্ছিল। বড়াইগ্রাম উপজেলার আগ্রান সুতিরপাড় এলাকায় পিকআপটির চাকা পাংচার হয়ে গেলে পাশের ফিডার রোডে নেমে যায়।

খবর পেয়ে বনপাড়া হাইওয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় পুলিশ সদস্যরা পিকআপ উদ্ধারের জন্য রেকার ভাড়াসহ ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে। চালক এতে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ সদস্যরা পিকআপে ডিমের খাঁচি বাঁধার রশি চাকু দিয়ে কেটে দেয়। এতে ডিমের খাঁচি রাস্তায় পড়ে সব ডিম ভেঙে নষ্ট হয়ে যায়।

ডিমের মালিক সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল গ্রামের মেসার্স প্রীতিমণি এন্টারপ্রাইজের মালিক বিপ্লব কুমার সাহা বলেন, “আমি চালকের মোবাইল দিয়ে কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারের সঙ্গে কথা বলেছি। রশি না কাটার জন্য হাতে-পায়ে ধরে পুলিশকে অনুরোধ করেছি। তারা আমার কোনো কথাই শোনেনি। সবগুলো ডিম নষ্ট হয়ে গেল। আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম।”

print

LEAVE A REPLY