একটা জেনারেশনকে শেষ করে দেওয়া হচ্ছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, আপনি যদি একটি দেশকে ধ্বংস করতে চান, প্রাথমিক পদক্ষেপ হচ্ছে একটি দেশের জেনারেশনকে নষ্ট করে দেওয়া। বিভ্রান্ত করে দেওয়া। পরস্পর পরস্পরকে ক্ষিপ্ত অশান্ত করে তোলা। এর সমস্ত কিছু বাংলাদেশে করা হচ্ছে। তার একটি অন্যতম হচ্ছে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ঢালাওভাবে জিপিএ-৫ দেওয়ার প্রবণতা। এটা করে আমরা মেকি অন্তঃসারশূন্য জেনারেশন তৈরি করেছি। সম্প্রতি একটি ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে তিনি এসব কথা বলেন। তার বক্তব্যগুলো ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, আমি টিচার, আমি স্টুডেন্ট দেখেছি জিপিএ ডবল ফোর পাওয়া একটি লাইন লিখতে পারে না খাতার মধ্যে। আমি ডেকে জিজ্ঞাসা করলাম- তুমি পাস করলে কীভাবে। সে খুবই অবাক, সে কীভাবে পাস করেছে নিজেও জানে না। এমন স্টুডেন্ট দেখেছি প্রশ্নই পঞ্চাশ বার খাতায় লিখেছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম কীভাবে পাস করেছ। সে বলে- আমি তো এভাবেই লিখি। প্রশ্নই উত্তরপত্রে লিখে পাস করে এসেছে। কেউ নজর দেয়নি। আমাদের টিচারদের প্রতি ইন্সট্রাকশন ছিল- সবাইকে পাস করাতে হবে, সবাইকে ভালো নম্বর দিতে হবে। এটা অত্যন্ত জঘন্য একটি কাজ করা হয়েছে। বাংলাদেশের একটি জেনারেশনকে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস, জিপিএ ফাইভ দেওয়া, ড্রাগসের অবাধ প্রবাহ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পর্নোগ্রাফির অবাধ প্রবাহ ঢুকিয়ে দেওয়া। অতি ইমোশনাল পলিটিক্যাল ইস্যুকে দেশের সবচেয়ে বড় ইস্যু করে তোলা। হানাহানি হিংসা-বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেওয়া এবং আমাদের সবার গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি ড. কামাল, ড. ইউনূস এমনকি মাশরাফিকে কনট্রোভার্সিয়াল করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সবাই ভালোবাসবে এ রকম কোনো জায়গা অবশিষ্ট রাখেনি। আমি বিশ্বাস করি না এটা পরিকল্পনাহীনভাবে করা হয়েছে। একটি পুরো জেনারেশনকে দিকবিভ্রান্ত, অন্তঃসারশূন্য করে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। যখন অন্য কেউ একটি দেশকে চরমভাবে শোষণ করতে চায়, সেই দেশের শাসন ব্যবস্থার মধ্যে তার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে তখন এই ধরনের প্রবণতা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে হয়। বাংলাদেশের ভবিষ্যতে দেখা যাবে কী মহৎ উদ্দেশ্যে ঢালাও জিপিএ ফাইভ দেওয়া হয়েছিল। এই জবাব একদিন মানুষকে দিতে হবে।

বি-প্র

print

LEAVE A REPLY