মেয়রের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশে কুয়াকাটা যুগান্তর প্রতিনিধির ওপর হামলা

কুয়াকাটা পৌর মেয়র কর্তৃক পুলিশের মাছ ছিনতাইয়ের সংবাদসহ একাধিক সংবাদ প্রকাশের জেরে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার কুয়াকাটা প্রতিনিধি নাসির উদ্দিন বিপ্লবের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এ সময় আহত হন জামাল হাওলাদার, শাকিল খলিফা, ছলেমান ফকির, সবুর মিয়া, রেজাউল করিম রাসেলসহ আরও অনেকে। আহতদের মধ্যে চারজন কলাপাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার রাতে তার ওপর হামলা ঘটনা ঘটে বলে তিনি আশংকা করছেন।

আহত সাংবাদিক নাসির উদ্দিন বিপ্লব আরও জানান, ঘটনার সময় তার আলিপুরা বন্দরের ব্যক্তিগত অফিসে কয়েকজন বন্ধু মিলে আলাপচারিতায় ব্যস্ত ছিলেন।

এ সময় যুবলীগ নেতা ও কুয়াকাটা পৌর মেয়র বারেক মোল্লার ছেলে মাসুদ মোল্লা ও মেয়রের ভাই মোশারেফ মোল্লা, লতাচাপলি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেয়রের ভাই আনসার মোল্লা, আনসার মোল্লার ছেলে রাসেল মোল্লার নেতৃত্বে একটি বাহিনী ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার অফিস কক্ষে প্রবেশ করে।

এ সময় কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সন্ত্রাসীরা সাংবাদিক নাসির উদ্দিন বিপ্লবসহ অফিসে থাকা লোকজনকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে।

এক পর্যায় সন্ত্রাসীরা নাসির উদ্দিনকে টানা হেচড়া করে শরীরের পোশাক ছিড়ে ফেলে।

এদিকে একটি মহল অপরাধীদের বাঁচাতে অপকৌশল অবলম্বন করে আইনী প্রক্রিয়া বন্ধের জন্য জোর তদবির চালাচ্ছে বলে দাবি নাসির উদ্দিনের। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে হামলকারী মেয়র পুত্র মাসুদ মোল্লা জানান, আমি ঘটনার সময় কুয়াকাটা ছিলাম। লোকমুখে শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করি।

অপরদিকে মেয়র বারেক মোল্লা বলেন, কোনো হামলার ঘটনাই ঘটেনি। সামান্য একটু ঝামেলা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মহিপুর থানার ওসি সাইদুজ্জামান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আহতদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেব।

কলাপাড়া সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জালাল আহমেদ জানান, ঘটনা শুনেছি এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আহত সাংবাদিক নাসির উদ্দিন কলাপাড়া মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সাধারণ সম্পাদক এবং কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি।

প্রসঙ্গত, কুয়াকাটার পৌর মেয়র আবদুল বারেক মোল্লা চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে কুয়াকাটা ট্যুরিষ্ট পুলিশের এসআই শাহ আলমের কেনা কোরাল মাছ জোর করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় যুগান্তর পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি প্রতিনিধির ওপর ক্ষিপ্ত হন। এছাড়াও মেয়রের বিরুদ্ধে কুয়াকাটায় জমি দখল, চাঁদাবাজী, পৌরসভার টেন্ডারবাজী এবং দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

যুগান্তর

print

LEAVE A REPLY