ফেঁসেছে ই-কমার্স, অনলাইন কেনাকাটায় ভ্যাট সাড়ে ৭ শতাংশ!

২০১৯-২০ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট অতিসম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে ফেইসবুক-গুগল-ইউটিউবকে ধরতে গিয়ে ভ্যাটের কোপ দেয়া হয়েছে ই-কমার্সের ওপর। কেননা অনলাইন শপিংয়ের জন্যে সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট বসানোর প্রস্তাব করা হয়েছে এবারের বাজেটে।

এমতবস্থায় আজ শনিবার উদ্যোক্তাদের নিয়ে এক বৈঠকে বসছে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন ই-ক্যাব। যেখান হতে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে টেকশহরডটকমকে জানান সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ তমাল।

এক বছর আগে ৫ শতাংশ ভ্যাট দিয়ে তা ‘ভুলবশত ছাপা হয়েছে’ বলে আবার তুলে নেওয়া হয়। তবে এবার সোশ্যাল মিডিয়া এবং ভার্চুয়াল বিজনেসের জন্যে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট বসানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

জনপ্রিয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আজকের ডিলের প্রতিষ্ঠাতা এবং বেসিস পরিচালক ফাহিম মাসরুর বলছেন, “আগে একটি আলাদা সেবা কোডে ই-কমার্স বা অনলাইন কেনাকাটাকে অন্তর্ভূক্ত করে ভ্যাটের আওতামুক্ত রাখা হয়েছিল। এবার সেখানে অন্য একটি সেবা ঢুকেছে। আর ফেইসবুক-ইউটিউবের বিজ্ঞাপন-ব্যবসায় করারোপে নতুন যে আলাদা খাত সংজ্ঞায়িত হলো সেখানে ই-কমার্স ঢুকে গেছে। এতে ই-কমার্সের উপরও সাড়ে ৭ শতাংশ করের খড়গ পড়েছে। এতে দেশীয় ই-কমার্স একদমই শেষ হয়ে যাবে।”

তিনি আরও বলেন, “শপিং মলের দোকানগুলো যেখানে অনেকটাই ভ্যাটের বাইরে থাকে সেখানে ডিজিটাল কেনাকাটার ওপর এমন ভ্যাট মানুষকে ডিজিটালি কেনাকাটা করতে নিরুৎসাহিত করবে।”

আরেক সুপরিচিত ই-কমার্স প্রিয়শপ ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা সিইও আশিকুল আলম খান বলছেন, “ই-কমার্সে মানুষ এমনিতেই ডেলিভারি চার্জকে বাড়তি বোঝা মনে করে। সেখানে এই সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাটের বোঝা ! কেউ এখানে কেনাকাটা করতে আসবে না।”

এছাড়া ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন ই-ক্যাবের রুরাল ই-কমার্স স্ট্যান্ডিং কমিটির এই চেয়ারম্যান আশিকুল আলম খান বলেছেন, ” বিদেশি কোম্পানির আধিপত্যসহ নানা কারণে দেশীয় ই-কমার্স এখন কোনঠাসা। অনেকগুলো উদ্যোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় এই ভ্যাটের কোপ, পুরো ইন্ডাস্ট্রি হারিয়ে যাবে।”

উল্লেখ্য, বর্তমানে প্রায় এক হাজার ই-কমার্স কোম্পানি দেশে ব্যবসা পরিচালনা করছে এবং তাদের বার্ষিক লেনদেনের পরিমাণ দুই হাজার কোটি টাকা।

print

LEAVE A REPLY