স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে গিয়ে চরম ভোগান্তি হজযাত্রীদের

নারায়নগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জের বাসিন্দা আবদুল আহাদ বেসরকারি ব্যবস্থাপনার একজন হজযাত্রী। সোমবার সকাল ১০টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-২ এর দোতলায় প্রশাসনিক ব্লকে আসেন স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকা দিতে। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাগজপত্র দেখা পর প্রেসার মাপেন। ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ ও হৃদরোগ আছে কি না, কী ধরনের ওষুধ খাচ্ছেন ইত্যাদি জিজ্ঞাসা করার পর পাশের টিকা কেন্দ্রে পাঠান তাকে। সেখানে কর্তব্যরত নার্সরা সঙ্গে সঙ্গেই তাকে টিকা দেন।

আবদুল আহাদ মনে মনে খুশিই হয়েছিলেন খুব দ্রুতই অফিসে ফিরে যেতে পারবেন। কিন্তু টিকা দেয়ার পর স্বাস্থ্য সনদ নেয়ার জন্য কাগজপত্র জমা দেয়ার পর প্রায় দুই ঘণ্টা পেরিয়ে গেলে সনদ হাতে পাননি তিনি। মাঝে একবার কখন পাবেন জিজ্ঞাসা করতে গিয়ে ঝাড়ি খেয়েছেন। কর্তব্যরত ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মুখ ভেংচি দিয়ে বলেছেন, আমি কি বসে আছি নাকি? সিরিয়াল আসলে তো ডাকব।

দুপুর ১টায় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে আবদুল আহাদ বলেন, একটি মাত্র কম্পিউটারে কাজ চলছে। সিরিয়ালে অপেক্ষমাণ প্রায় ২০০ মানুষ। গরমে সিদ্ধ হয়ে যাচ্ছি। সব তথ্য তো অনলাইনে আগেই দেয়া আছে, তাহলে এতো দেরি কেন?

শুধু আহাদ আলী একা নন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকা নিতে এসে তার মতো অসংখ্য হজযাত্রীকে স্বাস্থ্য সনদ পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

গতকাল (রোববার) থেকে ঢামেকসহ বিভিন্ন সরকারি ও জেলা সদর হাসপাতাল এবং সিভিল সার্জন কার্য়ালয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকাদান কার্য়ক্রম শুরু হয়। প্রথমদিন হজযাত্রীর সংখ্যা কম থাকলেও দ্বিতীয় দিনে বেড়ে যায়। দুপুর পৌনে ১টা পর্যন্ত ঢামেক হাসপাতালে বিভিন্ন বয়সি দুই শতাধিক নারী ও পুরুষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে আসেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে ও টিকা দিতে সময় বেশি না লাগলেও মাত্র একটি মাত্র কম্পিউটারে একজন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কাজ করায় সময় বেশি লাগছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢামেকের একজন চিকিৎসক জানান, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকা দেয়ার দ্বিতীয় দিনেই স্বাস্থ্য সনদ দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। মাত্র একটি কম্পিউটারে একজন ডাটা অপারেটরের মাধ্যমে তথ্য-উপাত্ত লিখে দ্রুত স্বাস্থ্য সনদ দেয়া সম্ভব না।

আজ সরেজমিন ঢামেক হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, গতকালের তুলনায় আজ হজযাত্রীর সংখ্যা বেশি। হজযাত্রীরা মেডিকেল পরীক্ষার কাগজপত্র দেখিয়ে নাম এন্ট্রি করে সিরিয়াল অনুযায়ী চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছেন।

সোহেল নামে একজন কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, তারা মেডিকেল পরীক্ষার রিপোর্ট না দেখে কাউকে স্বাস্থ্য সনদ ও টিকা দিচ্ছেন না।

সিরিয়াল ভেঙে স্বাস্থ্য পরীক্ষা

হজযাত্রীদের অভিযোগ, পরীক্ষা কেন্দ্রে সিরিয়াল ভেঙে অনেককেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকা দেয়ার পরপরই স্বাস্থ্য সনদ দেয়া হচ্ছে। তারা হজযাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে একাধিক কম্পিউটারে স্বাস্থ্য সনদ তৈরি করে দ্রুত দেয়ার ব্যবস্থাগ্রহণের দাবি জানান।

তবে ঢামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক আবদুল গনির দাবি- টিকাদান কার্য়ক্রম সুষ্ঠুভাবে চলছে।

উৎসঃ   jagonews24
print

LEAVE A REPLY