মুরসির জন্মস্থানে অভিযান চলছে

আটক থাকা অবস্থায় মিসরের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির মৃত্যুর ৫ম দিনে তার জন্মস্থানে অভিযান চালাচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী।

পূর্বাঞ্চলীয় মস্কাট প্রদেশের আদওয়াহ গ্রামে গত মঙ্গলবার থেকে অভিযান শুরু হলেও শনিবার থেকে অভিযান জোরদার করেছে সেনাবাহিনী। খবর আল জাজিরা আরবির। আল জাজিরার কায়রো প্রতিনিধি মোহাম্মদ সাইফুদ্দীন জানিয়েছেন, কঠোর নিরাপত্তা সত্বেও মুরসির মৃত্যুর পরদিন মঙ্গলবার তার জন্মস্থানে কয়েক হাজার মানুষ গায়েবানা জানাজা আদায় করে। জানাজার পর বিভিন্ন সড়কে মুরসির ছবি নিয়ে প্রতিবাদ জানায় এলাকাবাসী।

এ সময় বিভিন্ন ব্যানারে লেখা ছিল, ‘শহীদ মুরসি, তোমার রক্তের প্রতিটি ফোটা আমাদের নতুনভাবে উজ্জীবিত করবে। স্বৈরশাসকের পতন হবেই। সিসিই মুরসির হত্যাকারী।’

মঙ্গলবার ওই ঘটনার পর থেকে আদওয়া গ্রামে অভিযান চালাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী। তবে ব্যাপক বিক্ষোভের আশঙ্কায় শনিবার থেকে সেনাবাহিনীকে নামানো হয়। এ সময় তারা পুরো এলাকা অবরুদ্ধ করে রাখে।

আল জাজিরার খবরে আরও বলা হয়, সেনাবাহিনী আদওয়া ও তার পাশ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামে ব্যাপক ধরপাকড় চালাচ্ছে। এ সময় তারা বেশ কয়েকটি ঘর ভেঙে ফেলে এবং কয়েকজনকে আটক করে। আটককৃতদের মধ্যে মুরসির কয়েকজন নিকটাত্মীয়ও রয়েছেন। তাদেরকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে , এ ব্যাপারে কিছু জানায়নি সেনাবাহিনী। তাদেরকে গুম করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

এর আগে মুরসির মৃত্যুতে গোটা বিশ্ব যখন শোকাহত ঠিক সেই মুহূর্তে সাবেক এ প্রেসিডেন্টের পরিবারকে শোক প্রকাশেও বাধা দিয়েছে মিশরীয় কর্তৃপক্ষ। মোহাম্মদ মুরসির ছেলে টুইট বার্তায় জানিয়েছিলেন, মুরসির মৃত্যুর পর তাদের পরিবারের লোকদের শোক জানাতে আসা আত্মীয়দের সঙ্গে তাদের দেখা করতে দেয়নি সিসি সরকার।

গত সোমবার আদালতে বিচারের শুনানির ফাঁকে আকস্মিক পড়ে গিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ৬৭ বছর বয়সী মুরসি। কিন্তু তার মর্মান্তিক মৃত্যুতে ফেরাউনের দেশ মিসরের সংবাদমাধ্যমগুলোতে তেমন তাৎপর্য বহন করেনি।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, মুরসির মৃত্যুর চেয়ে দেশটি যে চলতি বছরের আফ্রিকান কাপ অব নেশনের আয়োজন করছে, সেটিই যেনো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কাজেই পত্রিকাগুলোর প্রথমপাতাগুলোতে এই খেলার খবরই বড় করে প্রকাশ করা হয়েছে।
বরং ভেতরের পাতায় ছোট করে ছাপানো হয়েছে এই মৃত্যুর খবরকে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনগুলোতেও মুরসির কথা তেমন একটা উল্লেখ করা হয়নি। তিনি যে দেশটির প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট, তা উল্লেখের বদলে তার পূর্ণাঙ্গ নাম উচ্চারণ করা হয়েছে।

খুবই ছোট করে, আরবি শব্দে মাত্র ৪২টি শব্দে মুরসির মৃত্যুর খবর প্রচার করেছে মিসরীয় পত্রিকা, রেডিও ও টেলিভিশন।
মুরসির মৃত্যুর পর মিসরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশে জরুরি অবস্থাও জারি করেছিল।

print

LEAVE A REPLY