বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম কমলেও বাংলাদেশে বাড়লো কেনো?

গত ছয় মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ কমে গেছে। বাংলাদেশ প্রাকৃতিক তরল গ্যাস আমদানি শুরু করেছে। এই আমদানি করা গ্যাসের মূল্য বেশি এবং তার সঙ্গে মূল্য সমন্বয় করার যুক্তি দেখিয়ে দেশে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববাজারে যা দাম তার চেয়ে বেশি দামে বাংলাদেশ গ্যাস কিনছে। আর বিশ্ববাজারে দাম যখন কমে অর্ধেক হয়েছে, তখন ‘দাম বেশি’ যুক্তি দিয়ে দাম বাড়ানোর কোনো যুক্তি থাকতে পারে না। একটি যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা কেউ কেউ করছেন এভাবে যে, বাংলাদেশ যখন বিশ্ববাজার থেকে গ্যাস কিনেছে তখন দাম বেশি ছিলো। যুক্তি হিসেবে এটি যে খুব জোরালো নয় ভারতের দিকে তাকালে তার প্রমাণ মেলে।

বাংলাদেশ যখন ৮০০ টাকার গ্যাসের দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ৯৭৫ টাকা করেছে, ভারত তখন ৭৬৩ রুপির গ্যাসের দাম ১০১ রুপি কমিয়ে ৬৬২ রুপি নির্ধারণ করেছে। ভারতও বিশ্ববাজার থেকেই গ্যাস কিনছে। পৃথিবীর সব দেশই দীর্ঘ মেয়াদী চুক্তির ভিত্তিতেই গ্যাস কেনে এবং বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে দেশে বাড়ে, কমলে দেশেও কমে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেও দেশে দাম বাড়ে, কমলেও দাম বাড়ে।

বিশ্ব বাজারে দরপতনের এই সময়ে বাংলাদেশ গ্যাসের দাম গড়ে ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়িয়েছে। কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্পে বেড়েছে ৪৬ শতাংশ। সার উৎপাদনে বেড়েছে ৬৪ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম কমলেও বাংলাদেশে গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে দ্য ডেইলি স্টার অনলাইন কথা বলেছে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ ও অধ্যাপক ম. তামিমের সঙ্গে। অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। জ্বালানিখাতের অন্যায়-অনিয়ম-দুর্নীতি-অযৌক্তিক মূল্য বৃদ্ধির বিষয়গুলো নিয়ে আন্দোলন করছেন বহু বছর ধরে।

অধ্যাপক ম তামিম বুয়েটের শিক্ষক। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জ্বালানিখাত বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, “একই দৃশ্য আমরা তেলের ক্ষেত্রেও পাই। বিশ্ববাজারে তেলের দাম গত কয়েক বছর ধরে কম থাকলেও বাংলাদেশে তা কমানো হয়নি। একইভাবে গ্যাসের দামও কমানো হয় না। সরকারের নীতি, বাংলাদেশের জ্বালানি খাত ক্রমাগতভাবে কিছু ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর ব্যবসার জন্যে নিশ্চিত করা হবে। তারা এলএনজি (তরল প্রাকৃতিক গ্যাস) ব্যবসা নিশ্চিত করতে চায়। বাংলাদেশে যদি গ্যাসের সঙ্কট না থাকে তাহলে তো এলএনজি ব্যবসা নিশ্চিত করা যাবে না।”

“গত ১০ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করে আমরা দেখেছি যে সরকার জাতীয় সংস্থা বাপেক্সকে গ্যাস অনুসন্ধানের সুযোগ দিচ্ছে না। এবং সংস্থাটির যতোটুকু সক্ষমতা রয়েছে সেটির ব্যবহারের পথে নানান প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হচ্ছে। সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্যে জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানোর যে সুযোগ-সম্ভাবনা ছিলো তা কাজে লাগানো হয়নি। এগুলোর জন্যে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন তার চেয়ে বেশি পরিমাণের টাকা গ্যাস উন্নয়ন তহবিলে পড়ে রয়েছে। এসব কারণে গ্যাসের সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে অনেক বেশি দামে এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। এই গ্যাস সঙ্কটের কথা বলে এলএনজি আমদানির যৌক্তিকতা দেওয়া হয়েছে। ঘটনাক্রম প্রমাণ করে, পুরো বিষয়টি পরিকল্পিত ছিলো।”

“এলএনজি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবসার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া সরকারের লক্ষ্য ছিলো। এলএনজি আমদানি করা হয়েছে যে দামে সেটিও আন্তর্জাতিক বাজার দরের চেয়ে বেশি। সেখানেও দুর্নীতি ও কমিশনের ব্যাপার ছিলো। পাশাপাশি এলপি (তরল পেট্রোলিয়াম) গ্যাসের সঙ্গে যুক্ত বাংলাদেশের বৃহৎ ব্যবসায়ীগুলোকে ব্যবসা দিতে হলে পাইপলাইনের গ্যাসের দাম বাড়াতে হবে। তা না হলে এলপি গ্যাস ব্যবসার বাজার তৈরি হবে না।”

“এই এলএনজি এবং এলপি গ্যাসের প্রতি সরকারের সমর্থন বা পৃষ্ঠপোষকতার কথা আমরা মন্ত্রীর মুখ থেকেও শুনেছি। মন্ত্রী নিজেই বলেছেন যে ‘এলপি গ্যাসের ব্যবহার ও ব্যবসার দিকে যেতে হবে। এলএনজি আমদানি করা ছাড়া উপায় নেই।’ সুতরাং, গ্যাসের দাম বৃদ্ধি সংক্রান্ত বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) শুনানিতেও দেখেছি যে তিতাস গ্যাসের দুর্নীতি বা সরকারের বিভিন্ন ভুল নীতি- এগুলো যদি মোকাবেলা করা যায় তাহলে গ্যাসের দাম বাড়ানোর পক্ষে কোনো যুক্তি থাকে না। বাংলাদেশের জাতীয় সক্ষমতা বাড়িয়ে যদি গ্যাস অনুসন্ধানের দিকে যাওয়া যায় তাহলে গ্যাসের দাম আরো কমানো সম্ভব। এর পাশাপাশি বিদ্যুতের দাম কমানো সম্ভব। সরকার সেই পথে যেতে আগ্রহী না।”

“সরকারের মূল এজেন্ডা হচ্ছে যে গ্যাস সঙ্কটকে একটি অজুহাত হিসেবে তৈরি করে একদিকে এলএনজি বা এলপি গ্যাসের ব্যবসা অন্যদিকে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যৌক্তিকতা তৈরি করা।”

আন্তর্জাতিক বাজারে এলপি গ্যাসের দামও কমেছে। এবং ভারত সরকার ১ জুলাই গ্যাসের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু, বাংলাদেশে ঘটেছে এর উল্টো। এর কারণ কী?- “সেসব দেশে, বিশেষ করে ভারতে কিছু সংস্থা যেহেতু এখনো কাজ করে তাই জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহিতা রয়েছে এবং জনমতের ওপর তাদের গুরুত্ব দিতে হয়। বাংলাদেশ সরকার জনমতের কোনো গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন মনে করে না। এখানকার সংস্থাগুলো কাজ করছে না। তাদের কোনো জবাবদিহিতা নেই। সুতরাং, কোনো ধরনের নিয়ম-কানুন না মেনে কিছু গোষ্ঠীকে ব্যবসা দেওয়ার মধ্যে তারা কোনো সমস্যা দেখে না। এ কাজ করা ভারতের পক্ষে কঠিন। বাংলাদেশে জবাবদিহিতার কোনো বালাই নেই। গ্যাসের দাম বাড়ানোর ফলে মানুষের যে ভোগান্তি হবে সে বিষয়ে সরকারের কোনো ভাবনা নেই।”

“গ্যাসের দাম বাড়ানোর ফলে যারা কোনোদিন গ্যাস ব্যবহার করেননি তারাও কষ্টে পড়বেন। কারণ, গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে, অন্যান্য শিল্পপণ্য তৈরি করা হবে; দেশের অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল- গ্যাসের দাম বেড়ে গেলে অনেক শিল্প-কলকারখানা প্রতিযোগিতামূলক বাজারমূল্য দিতে ব্যর্থ হবে। এসব মিলিয়ে দেশের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

সরকার যে গ্যাসে ভর্তুকি কমানো কথা বলে সে বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখেন?- “গ্যাসে ভর্তুকির বিষয়টি আসলো তো সরকারের ভুল নীতির কারণে। আমরা জানি যে সরকার যদি গ্যাস অনুসন্ধানের দিকে নজর দিতো তাহলে অনেক কম দামে আমরা গ্যাস সরবরাহ পেতে পারতাম। বাংলাদেশে গ্যাসের মজুত রয়েছে। এলএনজির কারণে বড় ধরনের ভর্তুকি তৈরি হচ্ছে। সেই এলএনজিও আবার বেশি দামে কেনা হয়েছে। সেখানেও আবার দেখা যাবে বড় ধরনের দুর্নীতি রয়েছে। এসব ভুল নীতিগুলোর কারণেই ভর্তুকির চাপ তৈরি হচ্ছে। এই ভর্তুকির পাশাপাশি গ্যাস থেকে যে আয় আসে সরকার তা দেখাচ্ছে না। সরকার আসলে এই গ্যাসখাতের সঙ্গে সম্পর্কিত যে বাণিজ্যিক গোষ্ঠী রয়েছে তাদের একটি ‘ওপেন ফিল্ড’ দেওয়ার জন্যেই গ্যাসের দাম বাড়াচ্ছে। যাতে সেসব প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ মুনাফা করতে পারে।”

গ্যাসখাতে অনিয়ম-দুর্নীতি দূর করা সম্ভব কি?- “অনিয়ম-দুর্নীতি দূর করা সম্ভব না হলেও সরকার তো তা কমাতে পারে। একটি ভুল নীতি থেকেই দুর্নীতির জন্ম নেয়। পুরো জ্বালানি খাতকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে ছেড়ে দেওয়ার জন্যে যে নির্দেশনা রয়েছে সেখান থেকেই জন্ম দিয়েছে ব্যাপক হারে দুর্নীতি। সুতরাং, সেই নির্দেশনা যদি একই রকম থাকে তাহলে দুর্নীতি আলাদা করে দূর করা যাবে না।”

“দেশের জ্বালানি মন্ত্রণালয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক স্বার্থান্বেষীদের আস্তানা। তারাই প্রকল্প ঠিক করে দিচ্ছে, নির্দেশনা দিচ্ছে আর মন্ত্রণালয় বা অন্যান্যরা হয় কমিশনের কারণে কিংবা ঘুষ বা অন্যান্য দুর্নীতির কারণে সেসব পথে দেশকে নিয়ে যাচ্ছে।”

গ্যাসের দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা প্রসঙ্গে বিশিষ্ট জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ম. তামিম ডেইলি স্টার অনলাইনকে বলেন, “পেট্রোবাংলা গ্যাস বিক্রি করছে প্রতি ঘনফুট সাড়ে ৭ টাকায়। আর আমরা যা আমদানি করছি তার দাম পড়ছে ৩২ টাকা। দেশে এই মুহূর্তে আমদানি করা হচ্ছে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট আর উৎপাদন করা হচ্ছে ২৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এই ৩২ টাকার গ্যাস যদি সাড়ে সাত টাকায় বিক্রি করতে হয় তাহলে যে অতিরিক্ত টাকা আমাদের আমদানি করতে প্রয়োজন হচ্ছে তা উঠে আসবে না। তাই, আমরা যদি গ্যাস আমদানি করি তাহলে এর দাম অবশ্যই বাড়াতে হবে। আগে তো গ্যাস বিনা পয়সায় দেওয়া হয়েছে। তাই আমাদের একটি প্রত্যাশা দাঁড়িয়েছে যে এখনো গ্যাস বিনা পয়সায় পাওয়া যাবে।”

গ্যাসের দাম বাড়ার কারণে কী কী সঙ্কট তৈরি হবে বলে আপনি মনে করেন?- “গ্যাসের দাম বাড়ার কারণে গ্যাস-ভিত্তিক বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাবে। কারখানার উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে। যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কম মুনাফা করে তারা লোকসানের মুখে পড়ে কারখানা বন্ধ করে দিলে দেশে বেকারের সংখ্যা আরো বাড়বে।”

“তবে বাসাবাড়ির কাজে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিষয়টি আমি যৌক্তিক মনে করি। দেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র ৫ থেকে ৭ শতাংশ পাইপলাইনের মাধ্যমে বাসায় গ্যাস ব্যবহার করেন। একটি বাড়িতে সারা মাসের জ্বালানি খরচ এক হাজার টাকা হওয়াটা আমার কাছে যৌক্তিক মনে হয়। যেহেতু বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা দেওয়া যায় বা এ বিষয়ে লোকজনকে সমবেত করা যায় সেহেতু তারা এই ১০০ বা ১৫০ টাকা বৃদ্ধি নিয়ে হৈচৈ করেন। তারা মনে করেন এর ফলে মধ্যবিত্তের ওপর বিরাট চাপ পড়বে। আসলে কিন্তু তা নয়। লোকজন মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে বিভিন্ন পণ্য কেনায় যে পরিমাণ টাকা খরচ করেন সেই হিসাবে মাসে গ্যাসের দাম ১০০ বা ১৫০ বৃদ্ধি আসলে কিছুই না।”

“পরিবহণখাতে সিএনজির দাম যে সামান্য পরিমাণে বেড়েছে তাতে ভাড়া বাড়ানো উচিত নয়। কেননা, ইতোমধ্যেই পরিবহন মালিকরা বেশি ভাড়া আদায় করছেন।”

“আর প্রত্যেক বাসায় ১ হাজার টাকার গ্যাস ব্যবহার করা হয় না। যারা প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করেন তাদের অনেকের গ্যাস ব্যবহার হয় ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা। প্রিপেইড মিটার নিলে অনেকের ৪০ শতাংশ খরচ কমে যায়। তাই বলা যায়, সরকার সবার জন্যে সমান দাম ধরে যে টাকা আদায় করছে তা অনেক বেশি আদায় করছে। টাকাটা চুরি নামের ভর্তুকিতে ঢুকছে।”

“এলএনজি আসার আগে সিস্টেম লস বা চুরি ছিলো ৩ শতাংশ। এখন সেই চুরি ১২ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। অর্থাৎ, ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস চুরি হচ্ছে। এর দাম আমদানি মূল্যের হিসাবে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। এখন এই চুরি যদি সরকার বন্ধ করতে পারতো তাহলে গ্যাসের দাম হয়তো আমদানি মূল্যের হিসাবে সামান্য বৃদ্ধি করলেই হতো। তাই গ্যাস চুরি বন্ধ করতে হবে।”

আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম যখন প্রায় ৫০ শতাংশ কমলো তখন বাংলাদেশে গ্যাসের দাম বাড়ানো হলো। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?- “গ্যাসের দাম যদি আন্তর্জাতিক বাজারে কমে যায় তাহলে দেশেও কমানো উচিত। কিন্তু, দেশে দাম কমাতে হলে রেগুলেশন ঠিক করতে হবে। সঠিক মিটারিং লাগবে। চুরি বন্ধ করতে হবে। তাহলে গ্যাসের দাম কমানো যাবে। সরকার সবসময়ই চিন্তা করে কীভাবে বেশি রাজস্ব আয় করা যায়। আর কোনো কিছুতে সরকার ভর্তুকি দিলে তখন সঠিক দাম নির্ধারণ করা যায় না।”

গ্যাসে এখন ভর্তুকি কতো শতাংশ?- “গ্যাসে এই মুহূর্তে কোনো ভর্তুকি নেই। তবে আমদানিকৃত এলএনজি-তে ভর্তুকি দেওয়া হতে পারে। সেই ভর্তুকি কমাতে গ্যাসের দাম হয়তো বাড়ানো হয়েছে। পেট্রোবাংলা লোকসান করে। কিন্তু, বিপণন সংস্থা হিসেবে তিতাসের কোনো লোকসান নেই। তারা এখনো টাকা বানিয়ে যাচ্ছে।”

যখন গ্যাসে কোনো ভর্তুকি নেই, বিপণন সংস্থা লাভ গুনছে এমনকি, আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম কমছে এমন সময় দেশে গ্যাসের দাম বাড়ানো কতোটুকু যুক্তিযুক্ত হলো?- “এটি একটি ব্যাপার যে আমরা সবসময়ই স্পট থেকে গ্যাস কিনি না। আমরা আন্তর্জাতিক বাজারে যে দাম দেখি সেটি সেই সময়ের ‘স্পট প্রাইজ’। অর্থাৎ, সেই দিনের দাম। কিন্তু যখন দীর্ঘ সময়ের জন্যে গ্যাস কেনার চুক্তি করা হয় তখন একটি নিয়মের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। একটি দেশের নূন্যতম গ্যাসের ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে সাধারণত সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জন্যে চুক্তি করতে হয়। সর্বনিম্ন সময় হচ্ছে ছয় মাস। আমাদের সরকার চুক্তি করেছে দীর্ঘ মেয়াদের জন্যে। এখন গ্যাস সরবরাহের কারণে হয়তো দাম কমে গেছে। এর মানে এই নয় যে আমার সেই চুক্তি বাদ দিয়ে কম টাকায় সেই দিনের বাজার দরে গ্যাস কিনবো। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে তেল-গ্যাসের দাম কমার সঙ্গে আমাদের দেশের দাম মেলালে হবে না।”

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে যাওয়ায় সেই দেশে গ্যাসের দাম কমেছে।… “আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যের সঙ্গে ভারতীয়দের স্থানীয় বাজার মূল্য ট্যাগ করে দেওয়া হয়েছে।”

এটি কি আমাদের দেশে করা সম্ভব?- “হ্যাঁ, সম্ভব। আমরা যখন প্রশাসনিকভাবে দাম নির্ধারণ করা বন্ধ করে দিবো, তখন সম্ভব।”

দ্য ডেইলি স্টার

print

LEAVE A REPLY