দুই কোটি হিসাবে জমা ২ হাজার কোটি টাকা

আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোয় বিশেষ সুবিধায় ব্যাংক হিসাব খোলা বেড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১০ টাকা, ৫০ টাকা ও ১০০ টাকার ব্যাংক হিসাব, স্কুল ব্যাংকিং হিসাব, পথশিশু ও কর্মজীবী শিশু-কিশোরদের ব্যাংক হিসাব খোলা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ পর্যন্ত এ ধরনের ১৩টি খাতে হিসাব খোলা হয়েছে ১ কোটি ৯২ লাখ ১৭ হাজার ৪৭টি। এসব হিসাবে জমা হয়েছে ১ হাজার ৯০৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে কৃষকের হিসাব রয়েছে ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৯০৬টি, যা মোট হিসাবের ৫২ শতাংশ। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় হিসাব রয়েছে ৫১ লাখ ২৫ হাজার ১৬৪টি, যা মোট হিসাবের ২৭ শতাংশ। অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় হিসাব রয়েছে ২৬ লাখ ৩২ হাজার ৭৮৭টি, যা মোট হিসাবের ১৪ শতাংশ। মুক্তিযোদ্ধাদের হিসাব রয়েছে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৪৫১টি, যা মোট হিসাবের ১ শতাংশ এবং অন্যান্য হিসাব রয়েছে প্রায় ৫১ লাখ। এতে জমার পরিমাণ ৫৮ কোটি টাকা। এসব হিসাব থেকে কৃষকরকে বিশেষ তহবিল থেকে ঋণ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া রেমিটেন্স সুবিধাও দেয়া হচ্ছে। ক্ষুদ্র জীবন বীমার পলিসিও নিতে পারছেন গ্রাহক। এ ছাড়াও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতাও দেয়া হয় এসব হিসাবের আওতায়। কৃষকদের হিসাবে জমার পরিমাণ ২৭৬ কোটি টাকা। ৪৮ হাজার কৃষকদের হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল থেকে ২৯০ কোটি পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা দেয়া হয়েছে। তহবিল থেকে ঋণ দেয়ার ফলে সেগুলো সুদসহ আদায় হয়ে তহবিলের পরিমাণ বেড়েছে। ফলে এ খাতে ঋণের পরিমাণও বাড়ছে। সরকারি খাতের সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক গ্রাহকদের বিশেষ সেবা দিচ্ছে। এর বিপরীতে ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের কাছ থেকে কোনো ফি বা চার্জ আদায় করছে না। স্কুল ব্যাংকিংয়ের আওতায় প্রায় সব ব্যাংকই হিসাব খুলছে। এসব হিসাবে জমার পরিমাণও বাড়ছে।

স্কুল ব্যাংকিংয়ের আওতায় ১৯ লাখ ৫৪ হাজার হিসাব খোলা হয়েছে। এসব হিসাবে ১ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকা। এর আওতায় শহরেই বেশি হিসাব খোলা হয়েছে। গ্রামে তুলনামূলকভাবে কম। এর মধ্যে গ্রামাঞ্চলে ৩৭ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলে ৬৩ শতাংশ হিসাব রয়েছে। স্কুল ব্যাংকিংয়ের আওতায় ইসলামী ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংকও হিসাব খুলছে।

এসব কর্মসূচির আওতায় সবচেয়ে বেশি হিসাব খুলেছে সরকারি খাতের ব্যাংকগুলো। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংক। এরপরেই রয়েছে অন্যান্য খাতের ব্যাংকগুলোর অবস্থান। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে এগিয়ে আছে ইসলামী ব্যাংক।

print

LEAVE A REPLY