‘নামাজে গেল বাপ্পী, লাশ ত্রিশালের নদে কেন?’

ছেলে বাপ্পী হত্যার বিচার দাবি ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে উদ্ধার হওয়া নিহত কলেজছাত্র শামীম আফতার বাপ্পীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রোববার ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার লামাপাড়ায় তার লাশ দাফন হয়।

পরিবারের দাবি, বাপ্পীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেই লাশ ভাসিয়ে দেয়া হয় ব্রহ্মপুত্র নদে। এ ঘটনায় নিহতের মা শাম্মিয়ারা খানম বাদী হয়ে ত্রিশাল থানায় মামলা দায়ের করেন।

সোমবার হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তার খালা রৌশন আরা খানম।

তিনি গৌরীপুর স্বজন মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার বুকে নিঃসন্তানের কালিমা মুছে দিয়েছিলো বাপ্পী। ২৯টি বছর ধরে বুকে জড়িয়ে ওরে আমি বড় করেছিলাম। ওর কাঁধে আমি লাশ হয়ে কবরে যাবো। ওর লাশ আমার কাঁধে কেন?’

সন্তানের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বারবার মূর্ছা যান তিনি। জিজ্ঞাসা করেন, ‘আমার ছেলে গেল ময়মনসিংহের আকুয়া বড়বাড়ি মসজিদে নামাজ পড়তে। ত্রিশালের নদে ওর লাশ গেল কীভাবে? ওকে মেরে নদে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে।’

মামলা ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বাপ্পী নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার আলমপুর গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের সন্তান। শাম্মিয়ারা খানমের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হওয়ায় এক বছর বয়স থেকেই বাপ্পী তার খালু মো. জয়নাল আবেদিন ওরফে জবান আলী ও মাতা রৌশন আরা খানম কাছে থাকে।

ডৌহাখলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জবান আলী গৌরীপুর উপজেলার আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদকও ছিলেন। নিঃসন্তান হওয়ায় বাপ্পীই তাদের সন্তান হিসাবে বড় হন।

তার পরীক্ষার সনদপত্রেও বাবা-মা হিসেবে তাদের নাম রয়েছে। তবে এখন থাকতো ময়মনসিংহের আকুয়া এলাকায়। নাসিরাবাদ কলেজের বাউবি শাখার বিএর শেষ বর্ষের ছাত্র ছিল বাপ্পী।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহের আকুয়া হাজী বাড়ি মসজিদে জোহরের নামাজের কথা বলে বাসা থেকে বেড়িয়ে যায় বাপ্পী। ওই দিন ৩টায় মায়ের সঙ্গে শেষ কথা হয় মোবাইল ফোনে। তখন সে গাঙ্গীনারপাড়ে ওষুধ ক্রয় করছে বলে জানায়।

এরপর থেকে ফোন বন্ধ দেখায়। শনিবার তার লাশ ভেসে উঠে ব্রহ্মপুত্র নদের ত্রিশাল উপজেলার বালিপাড়া বিয়ারা নামক এলাকায়।

অপর একটি সূত্র জানায়, ২০১১ সালে ত্রিশালে রাতুল নামের এক মেয়েকে বিয়েও করেছিল বাপ্পী। ২০১৫ সালে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে।

ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার বিকালে ডৌহাখলা ইউনিয়নের পায়রা গ্রামে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর উপজেলার মইলাকান্দা ইউনিয়নের লামাপাড়ায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে তার নানা আবদুল ওয়াদুদ খান ও নানী জুলেখা খানমের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হন কলেজছাত্র বাপ্পী।

ত্রিশাল থানার ওসি মো. আজিজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের খুঁজে বের করার জন্য তদন্ত চলছে।

print

LEAVE A REPLY