জালিয়াতির তথ্য গোপন করছে ব্যাংকগুলো

অর্থ জালিয়াতির তথ্য গোপন রাখছে ব্যাংকগুলো। জালিয়াতির ঘটনা তদন্তের স্বার্থে তথ্য চেয়ে পুলিশ দফায় দফায় তাগিদ দিলেও তাতে সাড়া দেয়নি তারা। পুলিশের অভিযোগ, জালিয়াতির ঘটনায় কোনো পদক্ষেপই নিচ্ছে না অনেক ব্যাংক। সঠিক সময়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকেও জানানো হয় না। তদন্তকাজ বিলম্ব হওয়ার সুযোগ নিয়ে আর্থিক খাতের অপরাধীরা দেশ ত্যাগ করছে। এসব তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) গঠিত অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ এবং দমন কার্যক্রম জোরদারকরণ কেন্দ্রীয় টাস্কফোর্সের ষষ্ঠ সভার কার্যবিবরণীতে। ১৯ জুনের এ সভায় ওই অভিযোগ করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কাউন্টার টেররিজম) অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. শাহিদুর রহমান। তিনি গতকাল এ প্রসঙ্গে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স (বিএবি) সভাপতি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, পুলিশের অভিযোগ শতভাগ সঠিক নয়। তবে অনেক সময় ব্যাংকের কাছে গচ্ছিত গ্রাহকের তথ্য অপব্যবহারের আশঙ্কাও থাকে। এ কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যাংক থেকে পুলিশকে তথ্য দিতে ভয় পায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ও বিএফআইইউ প্রধান কর্মকর্তা আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান স্বাক্ষরিত ওই কার্যবিবরণীতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের নাগরিক কর্তৃক ডাচ্্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম) বুথে অর্থ জালিয়াতির বিষয়ে তদন্তের স্বার্থে তথ্য সরবরাহের জন্য বিভিন্ন ব্যাংকে চিঠি পাঠানোর পরও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো থেকে তেমন কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ডাচ্্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড ছাড়া আরও অনেক ব্যাংকে এ ধরনের জালিয়াতির ঘটনা ঘটলেও এর প্রতিকারে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না।

আবার যথাসময়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে অবহিত করা হচ্ছে না। পাশাপাশি বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা থেকে ব্যাংকসমূহের কাছে বারবার তথ্য চাওয়া হলেও তা বিলম্বে পাঠানো হয়। ফলে তদন্তকাজ বিলম্ব হচ্ছে। এই সুযোগে অপরাধী চক্রের সদস্যরা অপরাধ করে দেশ ত্যাগ করতে সক্ষম হচ্ছে। কার্যবিবরণীতে বলা হয়, দেশে নগদ লেনদেন কমানো বা নিরুৎসাহিত করতে ইতিমধ্যে মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে নগদ লেনদেনের বর্তমান সীমা এক লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে দুই বা তিন লাখ টাকা নির্ধারণ করা সমীচীন হবে না। চেকের মাধ্যমে লেনদেন পরিচালনার বিষয়টিও শিথিল করা সমীচীন হবে না। সব বিভাগীয় টাস্কফোর্স থেকে পাওয়া মোট ১৪৫টি ভুয়া ও প্রতারণাকারী বিভিন্ন সমিতি বা সমবায় সমিতির কার্যক্রম নিশ্চিত হওয়ার তথ্য দেয়নি সমবায় অধিদফতর। সংস্থাটি থেকে পাওয়া ছয়টি প্রতিষ্ঠান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং নীতি ও প্রবিধা বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে প্রাপ্ত দুটি প্রতিষ্ঠান কো-অপারেটিভ নামের সঙ্গে ব্যাংক শব্দ ব্যবহার করে অবৈধভাবে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। টাস্কফোর্সের আগের সভায় এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। মোবাইল ব্যাংকিংয়ে জারি করা সার্কুলার ভঙ্গ করা হচ্ছে কি না তা সঠিকভাবে মনিটর বিষয়টিও উঠে এসেছে। কার্যবিবরণীতে বলা হয়, অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন ঠেকাতে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কাছে চেয়েছে বিএফআইইউ। পোস্ট অফিসের মাধ্যমে চালু হওয়া মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস ‘নগদ’-এর মাধ্যমে দিনে আড়াই লাখ টাকা লেনদেন করার ফলে সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টি আলোচনা করা হবে।

bdprotidin

print

LEAVE A REPLY