ইসরায়েলের পাঠানো পতঙ্গ থেকে চাঁদে প্রাণের সঞ্চার ঘটছে?

সম্প্রতি একটি ইসরায়েলি নভোযান চাঁদের পৃষ্ঠের ওপরে অবতরণ করে। এরপর সেটি ভেঙে গিয়ে চারপাশে ছোট ছোট পতঙ্গ (বাগস) ছড়িয়ে পড়ে। এই চন্দ্রযানের ভেতরে যেসব পতঙ্গ ছিল সেগুলো থেকে জীবনের সঞ্চার ঘটতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

চাঁদে ছড়িয়ে পড়া এই নতুন পতঙ্গগুলোর নাম টর্ডিগ্র্যাডস। এগুলো পৃথিবীতে সবচেয়ে সক্ষম গোত্রের পতঙ্গ হিসেবে বিবেচিত। তারা চাঁদের এলিয়েন পৃষ্ঠে বেঁচে থাকতে সক্ষম হতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

অভিযাত্রীরা বেরেশিট যানে চড়ে চাঁদে যাত্রা করেছিলেন, যা সফলভাবে চন্দ্রপৃষ্ঠে পৌঁছায়। এটা বিশেষভাবে নকশাকৃত প্রথম বেসরকারী যান যা চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণ করেছিল। এপ্রিল মাসে এটি চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণ করে বিধ্বস্ত হয় এবং মিশনটি বাতিল হয়ে যায়।

এই মিশনে অংশগ্রহণকারীদের জন্য এটা একটা বিপর্যয়কর ঘটনা। তবে টর্ডিগ্র্যাডসগুলো চন্দ্রপৃষ্ঠ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে ওই চারাগুলো এখনও পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

টর্ডিগ্র্যাডসগুলো সেখানে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছিলেন নোভা স্পাইভ্যাক নামের এক অভিযাত্রী।

তিনি বলেন, আমাদের নিয়ে যাওয়া পতঙ্গগুলো সেই মিশনে টিকে থাকা একমাত্র জিনিস হতে পারে।

স্পিভাক আর্চ মিশন ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে মানবজ্ঞানের অনুলিপি রেখে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি এবং তাঁর সংস্থা বেরেশিট চন্দ্রযানে এমন একটি লাইব্রেরি রেখেছিলেন যা পৃথিবীতে জীবনের সারাংশ হিসাবে কাজ করতে পারে। সেখানে ছিল ৩০ মিলিয়ন পৃষ্ঠার তথ্য, মানব ডিএনএর নমুনা এবং টর্ডিগ্র্যাডস।

জানা গেছে, টর্ডিগ্র্যাডস ১৮ শতকে সর্বপ্রথম আবিষ্কৃত হয়েছিল। সেটি তখন থেকেই বিজ্ঞানীদের মুগ্ধ করেছে।

টর্ডিগ্র্যাডস খুবই ছোট আকারের পতঙ্গ, যা মাত্র আধ মিলিমিটার দীর্ঘ। এগুলো সারা পৃথিবীতে পাওয়া যায়।

টর্ডিগ্র্যাডসের সবচেয়ে মুগ্ধকর বিষয় হলো, তারা চরম বৈরী পরিবেশের সাথে লড়াই করতে এবং টিকে থাকতে সক্ষম। তারা খুব উচ্চ এবং নিম্ন তাপমাত্রা, তীব্র চাপের সাথে বায়ু, খাদ্য এবং পানি থেকে বঞ্চিত হয়েও টিকে থাকতে পারে।

পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, টর্ডিগ্র্যাডস পৃথিবীর বাইরেও বেঁচে থাকার সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। তারা খুব অদ্ভুতভাবে ‘হাইবারনেশন’ পদ্ধতিতে এই সক্ষমতা প্রদর্শন করতে পারে। বিভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকার প্রক্রিয়া চালু রাখতে পারে টর্ডিগ্র্যাডস। তারা এভাবে চাঁদেও টিকে থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

চাঁদে টর্ডিগ্র্যাডসগুলো আকারে আরো বড় হবে বলে মনে করছেন না বিজ্ঞানীরা। তবে তারা সেখানে টিকে থাকার চেষ্টা করতে পারে বলে অভিমত বিজ্ঞানীদের।

চাঁদে এই অবস্থায় (হাইবারনেশন প্রক্রিয়ায়) টর্ডিগ্র্যাডসগুলো বছরের পর বছর অবস্থান করতে পারে বলে জানান বিজ্ঞানীরা।

প্রসঙ্গত, অ্যাপোলো চন্দ্রযানের নভোচারীরা চাঁদের মাটিতে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যাকটেরিয়া রেখে এসেছিলেন।

সূত্র : দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

print

LEAVE A REPLY