কাশ্মীর নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম বনাম আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম

কাশ্মীরের পরিস্থিতি শান্ত বলে বার বার উল্লেখ করছে ভারত সরকার। ‘বিশেষ মর্যাদা’ তুলে নেওয়ার পর গত ছয় দিনে একটি গুলিও চলেনি বলে প্রচার করা হচ্ছে। অন্যদিক, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বলছে ভিন্ন কথা।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে তথ্যউপাত্ত তুলে ধরে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, কাশ্মীরের পরিস্থিতি শান্ত হলে শ্রীনগরের হাসপাতালে প্রতিদিন ছররার আঘাতে আহত হয়ে কাশ্মীরি যুবকরা ভর্তি হচ্ছেন কেন। এ পরিস্থিতিতে ভারতীয় গণমাধ্যম প্রশ্ন তুলেছে এসব প্রতিবেদনে উল্লেখিত বিষয়ের সত্যতা নিয়ে। আজ সোমবার স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের মতো প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আনন্দবাজার পত্রিকাও।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ‘অন্য কাশ্মীর’- শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি এখানে তুলে ধরা হলো: 

অবরুদ্ধ, বিভ্রান্ত, সন্ত্রস্ত, ক্রুদ্ধ। মোদি সরকারের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ করার সিদ্ধান্তের পর কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের মানসিক অবস্থা বোঝাতে এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

৯ ও ১০ আগস্ট নিউ ইয়র্ক টাইমস-এ প্রকাশিত দুটি প্রতিবেদনে কাশ্মীরের ‘বর্তমান পরিস্থিতি’ তুলে ধরা হয়েছে। প্রথম দিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক সপ্তাহ ধরে কাশ্মীর উপত্যকাটিকে কার্যত গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। হাজার হাজার ভারতীয় সেনা রাস্তা আটকে, স্কুল-কলেজ বন্ধ করে, সাধারণ মানুষের বাড়ির ছাদ দখল করে নিয়েছে। ইন্টারনেট, মোবাইল ও ল্যান্ডলাইন বন্ধ, ফলে বাইরের দুনিয়ায় যোগাযোগের কোনও উপায় নেই।’ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘ভারত সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপগুলো এলাকার আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য জরুরি। মানবাধিকারকর্মীরা অবশ্য এর সঙ্গে বন্দিদশার তুলনা করছেন!’

মার্কিন সংবাদপত্রটির মতোই ব্রিটিশ চ্যানেল বিবিসি-ও দাবি করেছে যে, বিক্ষোভ সামলাতে গুলি বা ছররা ছুড়েছে ভারতীয় সেনা। ৯ অগস্ট একটি ভিডিও সম্প্রচার করে বিবিসি। তাতে দেখা যাচ্ছে, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ছররা ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ছে সেনা। ছররা চালানোর শব্দও পাওয়া যাচ্ছে। ভিডিওটি সেইদিনই শ্রীনগরে তোলা হয়েছে বলে দাবি করেছে ব্রিটিশ চ্যানেলটি। নিউ ইয়র্ক টাইমসও দাবি করেছে, প্রতিবাদকারীদের ধারে-কাছে ঘেঁষতে না দিলেও তাদের সাংবাদিকরাও ছররা চালানোর শব্দ শুনতে পেয়েছেন।

সাংবাদিকদের শ্রীনগরে ঢোকার উপরে বিধিনিষেধ থাকলেও কোনোভাবে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের কিছু প্রতিনিধি শ্রীনগরে ঢুকে পড়তে পেরেছেন বলে দাবি করেছে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। নিউ ইয়র্ক টাইমস ছাড়া রয়েছেন রয়টার্স ও এএফপি’র চিত্র সাংবাদিকরা। তাঁদের তোলা ছবিতে বিক্ষোভের নানা মুহূর্ত উঠে এসেছে। ধরা পড়েছে ‘ছররা ও পদপিষ্ট হয়ে আহতদের’ ছবিও।

শ্রীনগরের হাসপাতালে যন্ত্রণাক্লিষ্ট কিশোরী, ১৪ বছরের আফসানা ফারুকের ছবি ছেপে নিউ ইয়র্ক টাইমস দাবি করেছে, শ্রীনগরে কাশ্মীরিদের একটি বিক্ষোভ-সমাবেশের ওপর সেনাবাহিনী ছররা চালাতে শুরু করলে ভিড়ের ভেতর পদপিষ্ট হয় ওই কিশোরী।

রয়টার্স, বিবিসি ও নিউ ইয়র্ক টাইমস’র এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে গতকালই বিবৃতি দেয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আজ ওই অভিযোগ খণ্ডন করে টুইট করেছে বিবিসি। তাদের কথায়, ‘কাশ্মীরে যা হচ্ছে আমরা তার ভ্রান্ত ধারণা তুলে ধরছি’- এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমরা নিরপেক্ষ ও সঠিকভাবে পরিস্থিতি তুলে ধরছি। আমরাও কাশ্মীরে  যথেষ্ট বাধ্যবাধকতার মধ্যে কাজ করছি। আসলে কী ঘটে চলেছে- তা আমরা দেখিয়েই যাব।’

কালের কণ্ঠ

print

LEAVE A REPLY