কলকাতায় সড়ক দুর্ঘটনায় ২ বাংলাদেশির মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

আরসালান পারভেজ নয়, গত শুক্রবার কলকাতায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনার মূল অভিযুক্ত হলেন তার বড় ভাই রাঘিব পারভেজ। দুর্ঘটনার রাতে ঘাতক জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার গাড়িটি চালাচ্ছিলেন রাঘিব-ই। দুর্ঘটনার পাঁচ দিনের মাথায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে কলকাতা পুলিশ।
জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর শনিবার সন্ধ্যার বিমানে দুবাইয়ে পালিয়ে যায় রাঘিব। সেখান থেকে কলকাতায় ফেরার পর বুধবার দুপুরে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বিদেশে পালাতে সহায়তা করার অভিযোগে রাঘিবের এক মামাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। কলকাতার পুলিশের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ দেখেই তদন্ত করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় কলকাতা পুলিশের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) মুরলীধর শর্মা জানান, ‘দুর্ঘটনার পরই আমরা জাগুয়ার গাড়িটির মালিকের নামে নোটিশ পাঠিয়ে জানতে চাই গাড়িটি কে চালাচ্ছিল। এরপর বাড়ির সদস্যরা আরসালান পারভেজকে আমাদের সামনে নিয়ে এসে বলেন ওই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। এরপর তাকে গ্রেফতারে আদালতে প্রেরণ করা হয় এবং পুলিশ রিমান্ডের নির্দেশ দেয়।’

পুলিশ কর্মকর্তার দাবি, ‘ফরেনসিক তদন্তের গতি প্রকৃতি অনুযায়ী এয়ারব্যাগ খুললে চালকের মুখে ‘সিলিকন বাইট’ সহ একাধিক চিহ্ন মেলার কথা চালকের মুখমন্ডলে। কিন্তু আরসালানের শরীরে তার কোনটাই পাওয়া যায়নি। এরপরই আমাদের সন্দেহ হয় এবং পুনরায় তদন্ত শুরু হয়। এবং জানতে পারি দুর্ঘটনাগ্রস্থ গাড়িটির সাথে অন্য এক ব্যাক্তির সংযোগ আছে। জানা যায়, রাঘিব পারভেজ নামে এক ব্যক্তি গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। পরে তিনি দুবাইয়ে পালিয়ে যান। আজ দুপুর ২.১৫ মিনিট নাগাদ কলকাতার বেনিয়াপুকুর থানার অন্তর্গত সানা নার্সিং হোমের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিকভাবে তিনি গাড়ি চালানোর কথা স্বীকারও করেছে। তার বাকী কথাগুলোও দুর্ঘটনার সাথে মিলে গেছে। রাঘিবকে দুবাইয়ে পালিয়ে যেতে সাহায্য করার জন্য বিকালের দিকে মোহাম্মদ হামসা নামে রাঘিবের এক মামাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।’

জানা গেছে দুর্ঘটনার দিন শুক্রবার রাত ১১.৩০ মিনিট নাগাদ বেকবাগানের বাড়ি থেকে ওই জাগুয়ার গাড়িটি নিয়ে বের হন রাঘিব। এরপর একাধিক ট্রাফিক সিগনাল ভেঙে রাত ১.৫০ মিনিট নাগাদ কলকাতার শেক্সপিয়র সরণী ও লাউডন স্ট্রীটের সংযোগস্থলে দ্রুতগামীর জাগুয়ার গাড়িটি পিষে দেয় দুই বাংলাদেশি নাগরিককে।

প্রথমে একটি মার্সিজিড বেঞ্জ গাড়ির পেটে ধাক্কা মারে। এরপরই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জাগুয়ারটি সজোরে ধাক্কা মারে একটি পুলিশ কিয়স্কে। জাগুয়ারের ধাক্কায় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে ওই কিয়স্কটি। সেসময় বৃষ্টির হাত থেকে রেহাই পেতে ওই পুলিশ বক্সের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তিন বাংলাদেশি নাগরিক চাপা পড়েন জাগুয়ারের নীচে। শেক্সপিয়র সরণী থানার পুলিশের সহায়তায় আহতদের শেঠ সুখলাল কারনানি মেমোরিয়াল (এসএসকেএম) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই মৃত্যু হয় বাংলাদেশের ঝিনাইদহের বাসিন্দা কাজী মহম্মদ মইনুল আলম (৩৬), কুষ্ঠিয়ার বাসিন্দা ফারহানা ইসলাম তানিয়া (৩০)। আহত তৃতীয় ব্যক্তি মহ: সফি রহমতুল্লা-কে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। আহত হন ক্ষতিগ্রস্থ মার্সিডিজের চালক ও আরোহী।

দুর্ঘটনার পরই শনিবার দুপুরে কলকাতার বিখ্যাত রেস্তোরাঁ (আরসালান বিরিয়ানি) মালিক আখতার পারভেজের ছোট ছেলে আরসালান (২১)-কে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। রবিবার আরসালান পারভেজকে কলকাতার ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হলে ১২ দিনের (আগামী ২৯ আগষ্ট পর্যন্ত) পুলিশ রিমান্ডের নির্দেশ দেয় আদালত। প্রথমে তার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৭৯ (বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালানো), ৪২৭ (অন্যের সম্পত্তি নষ্ট), ৩০৪ (২) (অনিচ্ছাকৃত খুন) ধারায় মামলা রুজু করা হলেও রবিবার অতিরিক্ত দুইটি জামিন অযোগ্য ধারা যুক্ত করা হয়-তা হল ৩০৮ (অনিচ্ছকৃত খুন) এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার জন্য ‘প্রিভেনশন অফ ডেমেজ টু পাবলিক প্রপার্টি’ (পিডিপিপি) আইনের ৩ নম্বর ধারা।

বি প্র

print

LEAVE A REPLY