বিদেশী মদ তৈরির আশ্চর্য উপায়!

চট্টগ্রাম নগরীতে একটি সঙ্ঘবদ্ধ চক্র হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় ব্যবহৃত স্পিরিট, বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ, রঙ, সুগন্ধি, কোকাকোলা জাতীয় পানীয় ও ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে তৈরি করা ‘মদ’ বিদেশী বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বোতলে ভরে বিক্রি করছে। এসব ভেজাল মদ খেয়ে বিষক্রিয়ায় ঘটছে মৃত্যুর ঘটনা।

আকবর শাহ থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, সম্প্রতি এমনই ভেজাল মদ্যপানে তিনজনের মৃত্যুর পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এই চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। তাদের কাছ থেকেই এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

গ্রেফতার পাঁচজন হলেন : মো: নাছিম উদ্দিন (২৩), মো: ইকরামুল হক (৩২), স্বপন পাল (৫১), মো: ইমরান ফয়সাল (২১) এবং জাহেদুর রহমান আরজু (৩০)। তাদের কাছ থেকে স্পিরিট, নকল লেভেল, ভেজাল মদ তৈরির বিভিন্ন উপকরণ ও বোতলের কর্ক জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত ইকরামুল নগরীর লালদিঘীর পাড়ের পুরাতন গির্জা এলাকায় ইকরা হোমিও ফার্মেসি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। জিজ্ঞাসাবাদে নাছিম জানিয়েছে, সে ও তার এক আত্মীয় মিলে ইকরা থেকে স্পিরিট সংগ্রহ করে। ইকরামুলকে ৪২ লিটার স্পিরিটসহ গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত স্বপন পাল নগরীর হাজারী গলির মুখে বিএস হোমিও সেন্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। তার কাছ থেকেও স্পিরিট কিনে ভেজাল মদ প্রস্তুতকারকরা। গ্রেফতারকৃত ইমরান ফয়সাল নগরীর নজির আহমদ চৌধুরী রোডের বন্দর প্রোডাক্টস নামে একটি প্রেসের মালিক। গ্রেফতারকৃত জাহেদুর রহমান আরজু নগরীর পাহাড়তলী এলাকার সাগরিকা প্রেসের মালিক। তারা নকল লেভেল তৈরি করে সরবরাহ করে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।

ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, অনুমোদিত বিভিন্ন বার ও ক্লাব থেকে বিদেশী মদের খালি বোতল সংগ্রহ করে ভেজাল মদ ঢুকিয়ে নতুন লেভেল লাগিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছে। মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় প্রতি বোতল ভেজাল মদ তৈরি করে তা বিক্রি করা হচ্ছে দেড় হাজার থেকে চার হাজার টাকায়।

গত ১৩ আগস্ট রাতে চট্টগ্রাম নগরীর আকবর শাহ থানার বিশ্বকলোনির মালিপাড়ায় মদপানে তিনজনের মৃত্যু হয়। তারা হলো- বিশ্বজিৎ মল্লিক, শাওন মজুমদার জুয়েল ও মিল্টন গোমেজ। এ ছাড়া অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন উজ্জ্বল বণিক নামে একজন।

নগর পুলিশের উপকমিশনার (পশ্চিম) ফারুকুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে জানান, চারজন একসাথে বসে মদপান করছিল। তিনজন প্রায় কাছাকাছি সময়ে মারা যান। অসুস্থ উজ্জ্বলের দেয়া তথ্যমতে তারা যেখান থেকে মদ সংগ্রহ করেছিল, সেটার অনুসন্ধানে নামে পুলিশ। প্রথমে বিদেশী মদের এক খুচরা বিক্রেতাকে গ্রেফতারের পর ‘বিদেশী বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ’ নকল হওয়ার বিষয়ে তথ্য পায় পুলিশ।

আকবর শাহ থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, উজ্জ্বলের কাছ থেকে আমরা তথ্য পাই, তারা নাছিম নামে একজনের কাছ থেকে মদ কিনেছিল। নাছিমের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দেখি, ঘটনার পর থেকে সে এলাকায় নেই। পাঁচ দিন পর এলাকায় ফিরে সে আবারো মোটরসাইকেলে করে মদ সরবরাহ শুরু করে। আমরা তাকে বিদেশী ব্র্যান্ডের লেভেল লাগানো একটি মদের বোতলসহ আটক করি। তার কাছ থেকে তথ্য নিয়ে অপর চারজনকে আটক করেছি।

ওসি বলেন, এই চক্রের আরো পাঁচ-ছয় জনের নাম পেয়েছি। তারা স্পিরিট, তিন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ, কোকাকোলা, রঙ, মদের ফ্লেভার আর ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে মদ তৈরি করে। এই মদ শরীরে মারাত্মক বিষক্রিয়া তৈরি করে।

উৎসঃ   নয়া দিগন্ত
print

LEAVE A REPLY