‘একাত্তরে কলকাতায় আরাম আয়েশকারী মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈ‌রি করুন’

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী বলেছেন- রাজাকারের তালিকা তৈরি করা হবে। মন্ত্রীর কাছে আমি অনুরোধ জানাব- দয়া করে একাত্তরে কলকতায় বসে কারা সময় অতিক্রান্ত করেছেন, কারা সেখানে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং না নিয়ে আরাম-আয়েশ করে সময় কাটিয়েছেন তাদের একটা তালিকা তৈরি করুন।

জয়নুল আবদিন বলেন, ক্ষমতাসীনরা বলছে, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের দল নয়। বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছে আমার প্রশ্ন- একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে কতজন ছিলেন কলকাতায়, কতজন ছিলেন রণাঙ্গনে, কতজন মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং নিয়েছেন, কতজন রেখা-শ্রীদেবীর ছবি দেখেছেন ভারতের বসে?

খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রসঙ্গ টেনে নবম সংসদের বিরোধীদলীয় প্রধান এ হুইপ বলেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দাবিদার- আমি এটা বিশ্বাস করতে পারি না। যদি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির হয়ে থাকে তাহলে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক, সাবেক সেনাপ্রধান, সাবেক রাষ্ট্রপতি যিনি বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র এনে দিয়েছেন, যিনি বহির্বিশ্বে তলাবিহীন দেশকে ঝুড়িতে পরিণত করেছেন তার স্ত্রী কেন কারাগারে?

তিনি বলেন, কোন্‌ কারণে কারাগারে, কী কারণে কারাগারে? এক কোটি টাকা কত কোটি টাকা হয়েছে, গোয়েন্দা নেই। ব্যাংকের তল্লাশি করুন ব্যাংকে কত টাকা আছে। আসল উদ্দেশ্য হল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য।

জয়নুল আবদিন বলেন, খালেদা জিয়াকে সরকার ভয় পায়। শহীদ জিয়ার দলকে তারা ভয় পায়। তারেক রহমানকে তারা ভয় পায় বলে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার মামলায় বিএনপিকে জড়ানো হয়।

বিএনপি ‘হতাশ’ দল নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই সরকারকে বলতে চাই- আপনারা গণতান্ত্রিক সরকার নন। অবৈধভাবে ক্ষমতায় আর বেশি টিকে থাকতে পারবেন না। সময় খুব বেশি নেই। এখনও সময় আছে দয়া করে দেশনেত্রীর কোনো অঘটন ঘটার আগে তাকে মুক্তি দিন। তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।

এ সময় নেতাকর্মীদের আন্দোলনের জন্য দলকে সংগঠিত করার আহ্বানও জানান এ বিএনপি নেতা।

কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন- লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, ছাত্রদলের আরিফা সুলতানা রুমা, জিয়া নাগরিক ফোরামের সভাপতি মিয়া মো. আনোয়ার প্রমুখ।

যুগান্তর
print

LEAVE A REPLY