হাত বাড়াল ইসরাইলি খেলোয়াড়, মুখ ফিরিয়ে চলে গেল মিসরীয়

ইসরাইলি প্রতিদ্বন্দ্বীর করমর্দনে অস্বীকৃতি জানিয়ে আলোচনায় ওঠে এসেছেন মিসরীয় এক জুডো খেলোয়াড়। জাপানে চলমান বিশ্ব জুডো চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনাল ম্যাচ শেষে ওই ঘটনা ঘটেছে। খবর বিবিসি,আনাদলু ও গাজা আল আন অ্যারাবিকের।

খবরে বলা হয়, বুধবার জাপানে চলমান বিশ্ব জুডো চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিলেন মিসর ও ইসরাইলের দুই খেলোয়াড়।

ম্যাচ শেষে ইসরাইলি খেলোয়াড় সাগি মুকি করমর্দনের উদ্দেশ্যে তার মিশরীয় প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মাদ আব্দুল আলির দিকে হাত বাড়ান। কিন্তু মোহাম্মাদ আব্দুল আলি প্রতিদ্বন্দ্বী ইসরাইলি হওয়ায় তার সঙ্গে করমর্দনে অস্বীকৃতি জানিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন।

ম্যাচ শেষে রেফারি বাঁশিতে ফুঁ দিতেই ইসরাইলি খেলোয়াড় সাগি মুকি করমর্দনের উদ্দেশ্যে মোহাম্মাদ আব্দুল আলির দিকে হাত বাড়ান এবং এভাবে কয়েক মুহূর্ত অতিবাহিত হওয়ার পর শেষ পর্যায়ে মিসরীয় খেলোয়াড় মোহাম্মাদ আব্দুল আলি ইসরাইলি খেলোযাড় সাগি মুকির থেকে মুখ ফিরিয়ে মাঠ ছাড়েন।

আন্তর্জাতিক জুডো ফেডারেশনের নীতিমালায় ম্যাচ শেষে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে করমর্দনের নিয়ম থাকলেও বুধবার এই ঘটনা ঘটল।মিসরীয় খেলোয়াড় মোহাম্মাদ আব্দুল আলি ইসরাইলি খেলোযাড় সাগি মুকির থেকে মুখ ফিরিয়ে মাঠ ছাড়েন।

মিসরীয় খেলোয়াড় মোহাম্মাদ আব্দুল আলি ইসরাইলি খেলোযাড় সাগি মুকির থেকে মুখ ফিরিয়ে মাঠ ছাড়েন।

তবে এ ধরণের ঘটনা যে এবারই প্রথম তাও নয়, এর আগে ২০১৬ সালে ব্রাজিলের রিওডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অলিম্পিকেও এমন সাহসী কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন ইসলাম আস সিহাবী নামের মিসরীয় একজন খেলোয়াড়। সে সময় তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন উর সাসাউন নামের এক ইসরাইলি।

এদিকে ইসরাইলি খেলোয়াড়ের সঙ্গে করমর্দন না করায় কায়রোতে নিযুক্ত ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত বিষয়টির প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

বুধবারেই এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ সিসির সঙ্গে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহুর করমর্দনের একটি ছবি টুইটারে শেয়ার করেন।

ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, মিশর এবং ইসরাইলের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক শান্তি চুক্তির ৪০ বছর যাবত অসংখ্যবার করমর্দন হওয়ার পরও আজ এমন ঘটনা!

মিসরীয় জুডো ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মারজুক আলির কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোকে তিনি জানান, ঘটনাটি আকস্মিকভাবে ঘটেছে। আমাদের খেলোয়াড় পরাজিত হওয়ায় তার মন অশান্ত ছিলো। আর এটাও বাস্তব যে, ইসরাইলি খেলোয়াড়ের এটাই প্রাপ্য ছিলো, কেননা সে ওই সময় কোন কথা বলেনি।

print

LEAVE A REPLY