ভিডিও: ক্যাসিনোর সেই নেপালিদের পালাতে সাহায্য করেছে কারা?

রাজধানীর ৪টি ক্লাবে গত বুধবার রাতে একযোগে ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানের সময় ক্যাসিনো পরিচালনায় যুক্ত নেপালিরা হঠাৎই সটকে পড়েন। তাদের গাঁ ঢাকা দিতে সহায়তা করছিলেন হাতে ওয়াকি-টকি থাকা অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তি। এমন প্রমাণ মিলেছে রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকার একটি ফ্ল্যাটের সিসিটিভি ফুটেজে।

যে বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে তার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সেই ব্যক্তি নিজেকে পুলিশের কর্মকর্তা বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। তবে পুলিশ বলছে, সিসিটিভির ছবি পরীক্ষা করে ওই ব্যক্তির পরিচয় বের করা হচ্ছে।

বুধবার রাত ১০টা ৪৯ মিনিট। ওয়াকিটকি হাতে সেগুনবাগিচার ৬/সি বাসার মূল গেইট দিয়ে ঢুকে লিফটে করে বাসার উপরে চলে যায় কয়েকজন। এরপর ভবনের একটি ফ্ল্যাটে কিছুক্ষণ অবস্থান শেষে ১১টা ২৮ মিনিট ১৫ সেকেন্ডে তারা বের হয়ে যায়। এসময় তাদের একজনের হাতে একটি ব্যাগ দেখা যায়। ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে এ দৃশ্য। তারা চলে যাওয়ার পর রাত ১টা ৪৬ মিনিটে একে একে ৯ নেপালি বাসাটি ত্যাগ করে। এসময় তাদের হাতেও বেশ কিছু ব্যাগ দেখা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, ওই বাসার ৬ তলার একটি ফ্ল্যাটে ২ মাস ধরে ৪০ হাজার টাকায় ভাড়া থাকতো নেপালিরা। প্রথমে ২ জনের কথা বলে ভাড়া নেয়া হলেও সেখানে থাকতো ৪ জন। আর নেপালিদের ভাড়া নেয়ার এই পুরো প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেন একজন বাংলাদেশি। যার নাম মাসুম, তিনি নেপালিদের মোহামেডান ক্লাবের ট্রেইনার হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বাসাটি ভাড়া করে দেন।

নিরাপত্তাকর্মী মামুন বলেন, কিছু লোক ফ্লাটে যাওয়ার সময় ঠিকানা দিয়ে যেতে বলেছি। তারা বলে তোমাদের তো সমস্যা নেই। বাসায় গেস্ট আসেতো।

ফ্লাট মালিক বলেন, পুলিশ হয়তো সিভিল ড্রেসে আসছে। দারোয়ানকে ভেতরে নেইনি। তারা চলে গেলে ওরা ভোররাতে চলে গেছে।

অভিযোগ পাওয়ার পর বাড়িটি পরিদর্শন করেছে ডিএমপির রমনা জোনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, তদন্তে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কারো সম্পৃক্ততা মিললে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রমনা জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার এইচ এম আজিমুল হক বলেন, সিসিটিভির ফুটেজে যদি প্রমাণ হয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


print

LEAVE A REPLY