ফেনি নদীর পানি বন্টন নীতিতে প্রথম জীবন হানি

ফেনি নদীর পানি বন্টন নীতিতে প্রথম জীবন হানি হলো দেশের অত্যান্ত মেধাবী ছাত্র বুয়েট শিক্ষার্থী ২১ বছেরর আবরারের। বুয়েটে ছাত্রদের চেয়ে শিক্ষকদের বড় এক অংশ তাবলীগ করেন। নিয়মিত চিল্লায় যেয়ে থাকেন, এটা কে না জানেন।

আবরারও বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে তিনবার তাবলিগে গেছেন। তবে তিনি শিবির করতেন না।
তকমা ইতিমধ্যে এসে গেছে শিবির করবার জন্যই নাকি আবরারকে পেটানো হয়েছে।

সেতুমন্ত্রী এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলছেন, ভিন্ন মত হলেই পিটিয়ে মেরে ফেলতে হবে এটা মেনে নেয়া যায় না। তিনি যথায়থ ব্যাবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশকে।

এ ভাবেই আমাদের দেশের পুলিশকে নির্দেশ দিতে হয়।নির্দেশের পর তারা কাজ করেন।
কাজের নমুনায় এ পর্যন্ত ৬ জন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা গ্রেফতার হয়েছে।
ঢাবি এবং বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিচারের দাবীতে বৃষ্টিতে ভিজে বিক্ষোভ করছেন। এ বিক্ষোভে উত্থাল এখন দুই ক্যাম্পাস।

তিস্তার পানি নিয়ে এখনো তালবাহানা করছে ভারতের মোদি সরকার। দিব দিব বলছে। স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে মোদি সরকার আবার বসবে, তাঁরপরও বাংলাদেশের সাথে চুক্তি করবে।
হবে হয়তবা একদিন…।

আমরা ফেনি নদীর পানি দিতে কি সেদিনটা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারতাম না?
ফেনির নদীর পানির অভাবে ফেনির নদীর অপর পারের সাবরুপ এলাকা নাকি কারবালা হয়ে যাবার উপক্রম। তাই মানবিক কারণেই বাংলাদেশ ভারতকে ফেনি পানি দেবার চুক্তিতে সই করে আসলো।

এক মানবীক কারণে দেশে এখন ১৪ লাখ রোহিঙ্গা ভয়ানক এক গলার কাঁটা হয়ে দাড়িয়েছে। কালো বিড়ালের পায়ে ধরতে ধরতে হাতের বোধ প্রায় শেষ হয়ে আসলেও গলার কাটা কোনভাবেই ছুটছে না।
কাটার বদলে দেশ নামের পুরো দেহটাই মনে হয় সিংহের হা য়ের মধ্যে ডুকে যাবার অবস্থা।
কাটা বের করতে সিংহের পা ধরতে ধরতে এতো ক্লান্ত না হয়ে পারলে দু একটা উড়ন্ত বকের সন্তান পেলে ভাল হতো।

বন্য সিংহ মানবতা বোঝে না। এই মানবতার শান্তিতে নোবেল হয়তবা এসেও যেতে পারে। ১৬ বছরের গ্রেটার নাম এসেছে শান্তিতে নোবেল।
তারা চায় কয়লা বা গ্যাসের মতো জ্বালানি দিয়ে আর কোন বিদ্যূত কেন্ত্র বিশ্বের কোথাও তৈরি হবে না। কয়লার জ্বালানি থেকে উৎপন্ন কারখানা বা শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে সব পুজি সরিয়ে নিতে বলা হচ্ছে বিনিয়োগরারীদের।

বিশ্বে এখন এটাই শান্তির বাণী।
সেই বাণীর কাছে। ফেনি নদীর পানির কথা বলতে গিয়ে আজ প্রাণহানি হল আবরারের।
বুয়েট ছাত্রলীগের ঐ সব নেতাদের কালো বিড়ালের প্রতি অতিরিক্ত ভালবাসাই আজ এই অশান্তি ডেকে আনলো।
বুয়েট ছাত্র লীগ তাদের, চিন্তা, চেতনা, ধান ধারণা,প্রগতি আর শিক্ষা দিয়ে বুয়েটের শিক্ষক আর ছাত্রদের বিরাট এক অংশ যারা তাবলীগের সাথে যুক্ত তাদের নিজেদের ঘরে আনতে ব্যর্থ।

অথচ এই বুয়েটের এক সময় সবচেয়ে বেশী প্রগতিশীলদের জন্ম হয়েছে।
অথচ একটু যদি পরিসংখ্যানটা দেখেন তবে কি দেখা যায়?
দেশের বর্তমান যত বড় বড় ঘুসখোর আর দূর্ণীতিবাজ কিন্ত এই সব মেধাবী প্রকৌশলিরাই।
বুয়েট ছাত্রলীগ বুয়েটে কখনই প্রগতি বিকাশের কাজটি করতে পারেনি।
তারন্য সবসময় প্রতিবাদী হয়। যৌক্তিক সব আন্দোলনে যোগ দেয়।
মুক্তি যুদ্ধ বিষয়, যদ্ধাপরাধীর বিচারের বিষয়, বংগবন্ধু
হত্যার বিচারের বিষয় এখানে সবাই প্রগতির পথেই হেঁটেছেন।
এখন যা বলছেন সেটাও যৌক্তিক এবং প্রগতিশীল আন্দোলন। রাস্তায় নামতে পারে না, সোস্যাল মিডিয়াতে লিখছেন।
ফেনি নদীর পানির বিষয়, তিস্তার পানির হিস্যা, ট্রানজিট,
এবং সর্বপরি সুন্দর বনের পাশে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি কি যৌক্তিক আন্দোলন নয়?
ভারতে নিজেরা কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কারখানা তৈরি থেকে সরে আসছেন, আমরা সেখানে ডুকছি। সুইজারল্যান্ড পারমানবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে সরে আসছে আমরা সেখানে ডুকছি।

মেধাবী প্রতিষ্ঠান বুয়েটের ছাত্রলীগের শিক্ষা এ বিষয়ে কি বলছে?

প্রবাসী সাংবাদিক বাকি উল্লার ফেসবুক থেকে

print

LEAVE A REPLY