নবীর ইজ্জত রক্ষায় লক্ষ জনতা জীবন দিতে প্রস্তুত : আল্লামা বাবুনগরী

ভোলার বোরহানুদ্দিনে মহান আল্লাহ তায়া’লা ও মহানবী সা. কে নিয়ে কটুক্তিকারী হিন্দু বিপ্লব চন্দ্র শুভ’র সর্বোচ্চ শাস্তি এবং নবীপ্রেমিক তৌহিদী জনতার ওপর পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালিয়ে পাঁচজনকে শহীদ ও শতাদিক লোককে আহত করার ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন, ৯০% মুসলিম অধ্যুষিত দেশে আল্লাহ তায়া’লা ও বিশ্বনবী সা.কে নিয়ে কটুক্তি করবে তা কখনো সহ্য করা হবে না। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দেশ, শান্তিপূর্ণ মিছিল মিটিংয়ের মাধ্যমে সরকারের নিকট নিজেদের দাবী- দাওয়া পেশ করা এবং দোষীদের বিচার চাওয়া নাগরিক অধিকার। শান্তিপূর্ণ মিছিলে এভাবে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে নবীপ্রেমিকদের শহীদ করে লক্ষ কোটি তৌহিদী জনতার কলিজায় আঘাত করা হয়েছে। মুসলমানদের শরীর থেকে রক্ত ঝরবে তা দেশে জনগণ মেনে নেবে না।

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী আরো বলেন, নবীর সা.এর ইজ্জত রক্ষায় লক্ষ কোটি তৌহিদী জনতা নিজের জীবন দিতে প্রস্তুত। শাহবাগে নাস্তিক মুরতাদরা যখন বিশ্বনবীর শানে কটুক্তি করেছিল তখন কেবলমাত্র নবী সা.এর ইজ্জত রক্ষার জন্য আমরা লাখো মুমিন শাপলা চত্বরে জমায়েত হয়েছিলাম। বিশ্বনবীর ইজ্জত রক্ষায় প্রয়োজনে আবারো শাপলা চত্বর কায়েম করা হবে।
তিনি পুলিশের গুলিতে শহীদ পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, এই হত্যাকা-ের সুষ্ঠু বিচার না হলে বিশ্বনবীর ইজ্জত রক্ষায় নবীপ্রেমিক জনতা দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে। শহীদদের প্রতি ফোটা রক্তের বদলা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, মিছিলে গুলি বর্ষণকারী পুলিশ সদস্য এবং অভিযুক্ত সেই এসপি ও ওসির বিরুদ্ধে যথাযত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নবী অবমাননায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ-ে আইন পাশ করতে।

সভাপতির ভাষণে মাওলানা তাজুল ইসলাম বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা কে অবমানা করলে কোন মুসলমান তা সহ্য করতে পারে না। দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদেও আন্দোলন চলবে।

আজ মঙ্গলবার বাদযোহর চট্টগ্রাম জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদের চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগর আয়োজিত বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ নগর সভাপতি মাওলানা তাজুল ইসলাম (পীরসাহেব ফিরোজশাহ) এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা লোকমান হাকীম, শোলকবহর মাদরাসার সহকারী পরিচালক মাওলানা মোহাম্মদ হারুন, নাসিরাবাদ মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আবদুল জাব্বার, ঝাউতলা মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আলী ওসমান, সেগুনবাগান মাদরাসার পরিচালক হাফেজ মোহাম্মদ তৈয়ব, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনীর, দারুল মাআরিফের মুহাদ্দিস মাওলানা এনামুল হক মাদানী, দামপারা মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা এনায়েত উল্লাহ, মদুনাঘাট ইউনুছিয়ার মুহতামিম মাওলানা শেহাব উদ্দিন, হেফাজত নেতা মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা হাজী মুজাম্মেল, মুফতি হাসান মুরাদাবাদী, মাওলানা জিয়াউল হাসান, হাফেজ ফয়সাল, কারী ফজুলল করিম জিহাদী, মাওলানা শামসুদ্দিন আফতাব, মাওলানা মনসুর, মাওলানা মাহববুর রহমান হানিফ, মাওলানা শামসুল হক জালালাবাদী, মাওলানা অশরাফ বিন ইয়াকুব, মাওলানা সফিউল্লাহ, মাওলানা আনম আহমদুল্লাহ, মাওলানা ইকবাল খলিল, মাওলানা কুতুবুদ্দিন, মাওলানা জুনাইদ, মাওলানা ইউনুস, মাওলানা কামরুল ইসলাম কাসেমী, মুফতি নুর মোহাম্মদ, মাওলানা আমজাদ, মাওলানা ওসমান কাসেমী, প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে এক বিরাট বিক্ষোভ মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ওয়াসা মোড়ে এসে মুনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়।

print

LEAVE A REPLY