ভিয়েতনাম: বাংলাদেশ দূতাবাসে কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম

ভিয়েতনামের হ্যানয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত আর্থিক নিরীক্ষায় কোটি টাকারও বেশি অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাষ্ট্রদূতের বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ব্যয়, ভ্রমণ খরচসহ মোট ৩১টি খাতে এসব অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।

অভিযোগ ওঠা অনিয়মের বিষয়ে ঢাকার হ্যানয় দূতাবাস ব্যাখ্যা দিলেও তা গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের (সিএজি) কার্যালয়। সিএজির করা নিরীক্ষা প্রতিবেদনসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ সারাবাংলা’র হাতে রয়েছে।


আর্থিক নিরীক্ষায় উঠে আসা অনিয়মগুলো হচ্ছে— দূতাবাসের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা (হিসাব) কামরুজ্জামানের নামে অনিয়মিতভাবে ভ্রমণ ও অন্যান্য ভাতার ভূতাপেক্ষ মঞ্জুরি দেওয়ায় সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৬৯২.৮৫ টাকা।

বিজ্ঞাপন

সাবেক নিরাপত্তা কর্মী সাখাওয়াত দূতাবাস থেকে পালিয়ে গেলেও তার নামে সকল ভাতা দেওয়ায় সরকারের ৩ লাখ ১৪ হাজার ৫৮৭.৯০ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। একাধিক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দৈনিক ভাতা দেওয়ায় সরকারের ৭ লাখ ৫২৭.৭৪ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

দূতাবাসের ভাড়া নেওয়া বাড়ির শর্ত বা চুক্তি অনুযায়ী, ইউটিলিটি বিল বাবদ প্রতিমাসের খরচ মাসিক ভাড়ার সঙ্গে সমন্বয় না করায় সরকারের ৫ লাখ ১৪ হাজার ৮.০০ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ বরাদ্দের (স্পেশাল অ্যালোকেশন) অব্যয়িত অর্থ ফেরত না দেয়ায় সরকারের ৮ লাখ ১৪ হাজার ৩৫৩ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।


যৌথ উপহারের সীমা অতিরিক্ত ব্যয় করায় একাধিক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দৈনিক ভাতা দেওয়ায় সরকারের ৫৭ হাজার ১৭৭ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। অনিয়তভাবে এক খাতের টাকা দিয়ে অন্য খাতের বিল পরিশোধ করায় সরকারের ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩০০ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ব্যক্তিগত দাঁতের চিকিৎসাসহ (স্কেলিং) ওষুধ খাতে সরকারের ১ লাখ ৫৭ হাজার ৯৮০ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। বাড়ির মালিক ৬ দিনের ভাড়া চাইলেও অতিরিক্ত ১ দিনের বেশি ভাড়া দেওয়ায় সরকারের ৬ হাজার ৮৩৫.৭৭ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।


আসবাবপত্র কেনাকাটায় সরকারের ২ লাখ ৭ হাজার ৯১৯ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। মালিককে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ায় সরকারের ১ লাখ ৫৮ হাজার ৫৭০ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ডেসপাস রাইডার ও কনস্যুলার সহকারীকে মোটরসাইকেল ভাড়া দেওয়া সত্বেও হ্যাল্ডরিং চার্জের মধ্যে গাড়ি ভাড়া থাকায় সরকারের ৫৬ হাজার ৩১৯ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদর ছাড়া অতিরিক্ত হারে দৈনিক ভাতা দেয়ায় সরকারের ২৩ হাজার ৮৫৩.৫০ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

নিয়ম লঙ্ঘন করে মুঠোফোন সেট কেনায় সরকারের ৯১ হাজার ৮৪৫ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে সফরসঙ্গী করায় সরকারের ৭৩ হাজার ৪৫৮ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

এই বিষয়ে মন্তব্য জানার জন্য পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক এবং ভিয়েতনামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

সারাবাংলা

print

LEAVE A REPLY