‘ভারতের লিগগুলো কখনোই বাংলাদেশের কোচকে নেবে না’

আরামবাগ থেকে ‘ধারে’ চট্টগ্রাম আবাহনীতে যোগ দিয়েই শিরোপার হাতছোঁয়া দূরত্বে মারুফুল হক। বছর পাঁচেক আগে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের কোচ হিসেবে জিতেছিলেন ভুটানের কিংস কাপের শিরোপা। এবার তার সামনে আরেকটি ট্রফির হাতছানি। শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপের ফাইনালে জিততে দারুণ আত্মবিশ্বাসী দেশের অন্যতম সেরা কোচ।

হাতে দুই দিন সময়। এই সময়ে নিজেদেন রণ কৌশল নির্ধারণ করে প্রতিপক্ষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে চাইছেন কোচ নিজেই। ফাইনালে প্রতিপক্ষ যেই থাকুক না কেন, ‘ফাইনালে লড়াই করার জন্য দল প্রস্তুতি নিচ্ছে। গ্রুপ পর্ব ও সেমিফাইনালে দল নিজেদের পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। আশা করছি এই ধারা ফাইনালেও অব্যাহত থাকবে। টিমের বন্ধন খুব ভালো। সুখী পরিবারের মতো সবাই আছে।’

কোচের মতো ‘ধারে’ আনা খেলোয়াড়দের নিয়েই লড়াই করে যাচ্ছে চট্টগ্রাম আবাহনী। অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া থেকে শুরু করে একাদশের বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই অন্য দল থেকে এসেছে। প্রতিযোগিতার শুরুতে অবশ্য সবাইকে অনুশীলনে পাননি মারুফুল। তার পরেও খুব আত্মবিশ্বাসী এই কোচ, ‘মৌসুমের শুরু থেকে অনুশীলন শুরু করেছি। যদিও জানতাম যাদের নিয়ে কাজ শুরু করেছি, তাদের মধ্যে অর্ধেককে আমি পাবো না। তারপরও আমার স্টাইলে আমি শুরু করেছি। পরে দুজন বিদেশি, পাঁচজন জাতীয় দলের খেলোয়াড় যোগ দিয়েছে। তাদেরকেও বার্তা দেওয়া হয়েছে, চট্টগ্রাম আবাহনী যেহেতু প্রথম আসরের চ্যাম্পিয়ন, পরেরবার পারেনি। কিন্তু এবার আমরা শিরোপা জিততে চাই।’

খেলোয়াড়দের মানসিক দিক নিয়েও কাজ করেছেন মারুফুল হক। উদাহরণ হিসেবে ১৯৯৮ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে সামনে তুলে ধরলেন, ‘শুরু থেকে মানসিক দিক নিয়ে কাজ করি আমি। এটা শিখেছি ফ্রান্সের কাছ থেকে। ওরা কিন্তু ১৯৯৪ বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি। স্বাগতিক হিসেবে ৯৮ এর বিশ্বকাপে খেলেছে এবং চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ৯৪-এর বিশ্বকাপ জিতেছিল ব্রাজিল। যেদিন বিশ্বকাপ শেষ হলো পরের দিনই ফ্রান্স টিম মিটিং রুমে বিশ্বকাপের একটা রেপ্লিকা রাখলো। সবাইকে বলে দেওয়া হতো-এই শিরোপাটা তোমার, তুমিই চ্যাম্পিয়ন ৯৮ বিশ্বকাপের। এই বিশ্বাস খেলোয়াড়দের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারার কারণেই কিন্তু ওরা ৯৮-সালে সত্যিকারের চ্যাম্পিয়ন হলো।’

চট্টগ্রাম আবাহনী গ্রুপ ও সেমিফাইনাল মিলিয়ে প্রতিপক্ষের জালে ১১ গোল দিয়েছে। আর হজম করেছে ৫টি। ডিফেন্স ও গোলকিপারের মধ্যে কিছুটা দুর্বলতা রয়েছেই। কোচ বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে বললেন, ‘এ দিকটায় উন্নতি করতে হবে। আরও কাজ করতে হবে। ওদেরকে আরও সতর্ক থাকতে হবে। এক দিনে আমূল পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তারপরও যতটা সম্ভব ভুলের মাত্রা কম করা যায়। সেদিকে দৃষ্টি থাকবে।’

চট্টগ্রাম আবাহনীর হয়ে ম্যাচের চিত্র বদলে দিচ্ছেন জামাল-দিদিয়ের-ম্যাথিউরা। তারাই মূলত দলের প্রাণভোমরা। কোচের প্রত্যাশাও পূরণ করে যাচ্ছেন তারা। তবে তরুণ আরিফুল-ইয়াছিনরাও খারাপ করছেন না। তাদের আরও সময় দিতে চাইছেন কোচ, ‘তরুণ খেলোয়াড়দের আরও সময় দিতে হবে। আমি কোনও টুর্নামেন্টের আগে তেমন অজুহাত দেই না। এতে করে খেলোয়াড়দের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। টিম বিল্ডিং, গেম প্ল্যান, টিম প্রিপারেশন নিয়ে আমার নিজস্ব কিছু স্টাইল আছে। টুর্নামেন্ট কেমন হবে, প্রতিপক্ষ কারা আসবে, তাদের মান নিয়ে আগে থেকেই স্টাডি করি। প্লেয়াররা যেটা নিতে পারবে সহজে, সেটাই তাদের দেওয়ার চেষ্টা করি।’

দেশের বাইরে কাজ করার ইচ্ছে এখন আর নেই মারুফের। উয়েফা ‘এ’ লাইসেন্স পাওয়ার পর অনেক জায়গায় চেষ্টা করলেও নানান কারণে কাজ করা হয়নি। পাশের দেশ ভারতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেছেন, ‘ভারতের আইএসএল এবং আইলিগে যে সব কোচ কাজ করে তাদের প্রতি অসম্মান দেখিয়ে কিংবা গর্ব করে বলি না। তাদের কাজ দেখেই বলি, অনায়াসে আমার সঙ্গে কমপিট করার মতো খুব কম কোচ আছে। ওরা আমার সম্পর্কে জানে। কিন্তু ওদের লিগগুলো কখনোই বাংলাদেশের কোচকে নেবে না। নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ সেই পরিমাণ টাকা দিবে না। আর মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ইউরোপ থেকে আমার চেয়েও ভালমানের কোচ নিয়ে আসতে পারবে। তারা কেন ১৯০ এর ঘরে থাকা বাংলাদেশের একজন কোচকে আনতে যাবে। তাই বাইরে কাজ করার স্বপ্নটা আর নেই।’

উৎসঃ   banglatribune
print

LEAVE A REPLY