নলছিটির সাবেক পৌর কাউন্সিলর মুনিরের যত অপকর্ম

ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মু. মনিরুজ্জামান মুনিরের বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে মানুষকে হয়রানী ও তাদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা আদায় করার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশকে হেনস্তা সহ একাধিক চাঁদাবাজির মামলায় তার জেল খাটারও নজির রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা জানান, কারো বাল্যবিবাহের খবর পেলেই সেখানে গিয়ে হাজির হন মুনির। সংবাদ প্রকাশ করার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার থেকে ৫-১০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে নিয়ে যায়। পুলিশের মামলার ভয়ে সাধারণ মানুষরা তার কথা মানতে বাধ্য হয়। এছাড়াও বিভিন্ন সময় সরকারি বিধবা ভাতা, গর্ভবতী ভাতা ও বয়স্ক ভাতা এনে দেয়ার কথা বলে বেশ কয়েকটি দরিদ্র পরিবার থেকে হাতিয়ে নিয়েছে বিপুল পরিমান অর্থ।

মুনিরের বিরুদ্ধে স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকেও বিভিন্ন সময় চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বছর তিনেক আগে নলছিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি ও সরকারি কাজে বাধাদানসহ বড় অঙ্কের চাঁদাদাবি করেন কথিত সাংবাদিক মুনির। পরে এ নিয়ে তার নামে নলছিটি থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. ফারুক আলম বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। এ ছাড়াও বরিশালের কোতয়ালি থানায় মানিক ওঝা নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে মুনিরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। এসব মামলায় তাকে ওই সময় গ্রেপ্তারও করা হয়।

২০০৭ সালে সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত নলছিটি হাসপাতাল কমপ্লেক্সের মসজিদের গাছ কর্তপক্ষকে না জানিয়ে বিক্রি করে দেয় মুনির। এজন্য ওই সময় তাকে মসজিদ কমিটি থেকে বহিষ্কার করা হয়।

জানা যায়, হামলা মামলার ভয়ে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহসও পায়না। এলাকার মানুষেরা এক প্রকার তার কাছে জিম্মি হয়ে রয়েছে।

অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে গিয়ে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, নামেমাত্র একটি অনলাইন পত্রিকায় কাজ করেন তিনি। ডোমেন কিনে নিজেই সেটি খুলেছেন। যেখানে শুধুমাত্র তিনি একাই কাজ করেন। নেই অন্যকোন সাংবাদিক।

এ ব্যাপারে সাংবাদিক মুনিরের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এটিকে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, আমি সত্যের পথে থাকি ও সবসময় ন্যায়ের পক্ষে কথা বলি বলেই কিছু মানুষ তা সহ্য করতে পারেনা। তাই তারা আমার বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে মিথ্যা অপপ্রচার করে থাকে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে থানায় চাঁদাবাজির মামলার কথাও স্বীকার করেন তিনি। এই মামলাকে পুলিশের ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নলছিটি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সাখাওয়াত হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সাংবাদিক মনিরের বিরুদ্ধে পুলিশকে হেনস্তাসহ চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। সে বিভিন্নভাবে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে চাঁদা আদায় করে থাকে। পূর্বে এর জন্য কারাগারেও থাকতে হয়ে।

print

LEAVE A REPLY