গলছে বরফ, কী ঘটবে আমাদের ভাগ্যে?

একটি প্রশ্ন দিয়েই শুরু করছি- ‘আমাদের ভাগ্য কি আমরা নিজেরাই ধ্বংস করছি না?’ লোভের বশবর্তী হয়ে অথবা অনেক বেশি ক্ষমতাধর হওয়ার জন্য অনেকগুলো দেশ আমাদের এই সুন্দর পৃথিবীর সঙ্গে ভয়ঙ্কর প্রতারণা করছে। একদিকে আমরা হাজার কোটি টাকা খরচ করে অন্য গ্রহে অনুসন্ধান করছি, মহাবিশ্বে প্রাণের খোঁজ করছি, অন্যদিকে নিজেরাই নিজেদের গ্রহ ধ্বংস করছি। উপহাসের কথা, এজন্য আবার কোটি কোটি ডলার খরচও করছি।

দিল্লীর বায়ু দূষণ অথবা বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় বাড়তে থাকা দূষণের একমাত্র কারণ আমরা নিজেরাই। একবার ভাবুন, আমরা যে প্রতিনিয়ত পরিবেশ দূষণ করছি, তার কারণে প্রকৃতিও যদি আমাদের উপর ভয়ঙ্কর প্রতিশোধ নেয়? পৃথিবীর বরফ যদি একসঙ্গে গলতে শুরু করে তাহলে কী ঘটবে আমাদের ভাগ্যে? চলুন জেনে নেই ধেয়ে আসা ভয়ঙ্কর সেই বিপদের কথা।

বেড়ে যাবে পানির উচ্চতা: পৃথিবীর বেশ বড় একটা অংশ বরফে ঢাকা। রাতারাতি যদি সব বরফ গলে যায় তাহলে সমুদ্রের পানি প্রায় ২৫০ ফুট উপরে উঠে যাবে। এটুকুই যথেষ্ট আমাদের দেশের বড় বড় সব ব্রিজ পুরোপুরি পানির নিচে ডুবিয়ে দেয়ার জন্য। পাশাপাশি ভারত এবং বাংলাদেশের অনেক বড় বড় শহর মুম্বাই, গোয়া, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ সাত মহাদেশের অনেক শহর পানিতে তলিয়ে যাবে। তখন না থাকবে মায়ামি, না থাকবে লন্ডন! এমনকি অস্ট্রেলিয়ার মতো একটি দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ জায়গা পানিতে ডুবে যাবে। এছাড়া আচমকা চলে আসা এই জলস্রোতে ভেনিস এবং নেদারল্যান্ড পৃথিবীর মানচিত্র থেকে এক ঝটকায় ভেসে যাবে।

আফ্রিকা হবে মানবশূন্য: আফ্রিকাকে অন্যান্য দেশের মতো অবস্থার মুখোমুখি হতে হবে না। আদতে যেটা বলতে চাচ্ছি সেটা হলো, আফ্রিকার অবস্থা তার থেকেও খারাপ হবে। হুট করেই সব বরফ গলে গেছে! তার মানে হলো পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে গেছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রার সবচেয়ে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে আফ্রিকার উপর। অস্বাভাবিক গরমের কারণে আফ্রিকা মহাদেশের অনেকগুলো অংশ একদম জনমানবশূন্য, এমনকি প্রাণীশূন্য হয়ে পড়বে। সেখানে কোনো প্রাণীই বেঁচে থাকতে পারবে না।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ: অবশ্য এমন অনেক জায়গা থেকে যাবে পৃথিবীতে যেগুলো পুরোপুরি পানিতে ডুবে যাবে না। তবে সেই জায়গাগুলোকে অনেক ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হতে হবে। আপনার কি মনে হয়? এই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ কি মানব সভ্যতাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে পারে? না, ব্যাপারটা মোটেও এমন নয়। তবে এই দুর্যোগ থেকে যারা বেঁচে থাকবে তাদের অনেক ধরনের প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হবে। বরফ গলে যাওয়ার পর বাতাসে কার্বনডাইঅক্সাইড বেড়ে যাবে, ফলস্বরূপ বেঁচে থাকা মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীদের নিঃশ্বাস নিতে অনেক কষ্ট হবে।

অনেক সামুদ্রিক প্রাণী বিলুপ্ত হবে: সমুদ্রের স্রোত গতিপথ বদলে ফেলবে। যার প্রভাব সামুদ্রিক প্রাণীদের উপরেও যথেষ্ট পরিমাণে পড়বে। এই আচমকা পরিবর্তনের মধ্যে তারা নিজেদের মানিয়ে নিতে পারবে না। ফলস্বরূপ অনেক সামুদ্রিক প্রাণী এবং পোলার এনিমেল বিলুপ্ত হয়ে যাবে। আর যারা বেঁচে থাকবে তাদের নিজেদের ঠিকানা এবং অভ্যাস বদলাতে হবে অবশ্যই। কাজটি সহজ নয়!

ফুড চেনের উপর সরাসরি প্রভাব: প্রকৃতির এই হাজারো পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি আমাদের ফুড সাপ্লাই চেনের উপরে এসে পড়বে। আমরা তখন নিজেদের জন্য শস্য উৎপাদন করতে পারব না। আবার অন্য প্রাণীদেরকেও নিজেদের খাবারে রূপান্তর করার জন্য যথেষ্ট পরিমাণে প্রাণী খুঁজে পাব না। মরুভূমিতে অনেক বৃষ্টি হবে। যে জায়গায় আগে বৃষ্টি হতো সেখানে বৃষ্টি হবে না। অর্থাৎ পরিবেশের ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিবে। বিশ্বে খাদ্যের অভাব হবে।

সুনামির সংখ্যা বেড়ে যাবে: এদিকে বাতাসের গতি প্রকৃতিও পুরোপুরি পরিবর্তন হবে। সমুদ্রে বরফ না থাকার কারণে সূর্যের কিরণ প্রতিফলিত হবে না। ফলে সমুদ্রের পানি অনেক গরমের কারণে বাষ্প হয়ে আকাশে দ্রুত উঠে যাবে। এই বাষ্প বা মেঘ পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে একত্র হয়ে ভারী বর্ষণ সৃষ্টি করবে। তখন অতিরিক্ত বন্যা হবে। আবার সমুদ্রে একের পর এক তুফান এবং সাইক্লোন সৃষ্টি হতে থাকবে। ফলে নিচু এলাকাগুলোকেও প্রচুর পরিমাণ বন্যার শিকার হতে হবে। এই ধরনের এলাকাগুলোতে ছোটখাটো একটা ভূমিকম্প অনেক বড় ধরনের সুনামি তৈরি করবে, আর সেই সুনামি আশেপাশের সব এলাকাকে পুরোপুরি নাস্তানাবুদ করে ছাড়বে।

যে দুনিয়াকে আজ আমরা দেখছি, সেটা ধ্বংসের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। অন্যান্য প্রাণীদের কথা বলা মুশকিল, তবে মানব জাতি এভাবে ধীরে ধীরে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তবে আশার কথা হলো, সবগুলো বরফ এক রাতের মধ্যেই গলে যাচ্ছে না। তবে হ্যাঁ, খুব দ্রুততার সাথেই সব বরফ গলা শুরু করেছে। এমনকি আমাদের পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বরফ এলাকা, যেটা পুরো পৃথিবীর জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষা করছে, সেটাও গলতে শুরু করেছে।

আর ঠিক এই কারণে আমাদের এখনই থামতে হবে। আমরা যদি এখনই পরিবেশ দূষণ না থামিয়ে দেই তাহলে এই ধ্বংস কোনোভাবেই থামানো যাবে না। আগামী পাঁচ হাজার বছরের মধ্যেই পৃথিবীর সব বরফ গলে যাবে। এমনিতে তো পাঁচ হাজার বছর অনেক বড় একটা সময়, তার আগেই কে জানে আমাদের পৃথিবীর উপর যদি কোনো উল্কাপিণ্ডের আঘাত আসে অথবা সমুদ্রের পানি পুরোপুরি শুকিয়ে যায়। কোনো কিছুই পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে বলা যাচ্ছে না। সুতরাং এখনই সতর্ক হতে হবে।

উৎসঃ   risingbd
print

LEAVE A REPLY