‘ভারতের আগ্রাসী নীতিতে পুরো দক্ষিণ এশিয়া হুমকির মুখে’

বৃিটিশ পার্লামেন্টের হাউজ অব কমন্সে আয়োজিত এক সেমিনারে স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।একিসঙ্গে কাশ্মীরসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ভারতের ক্ষমতাসীন সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে পুরো দক্ষিণ এশিয়াকে হুমকির মুখে বলে মন্তব্য করেছেন আলোচকবৃন্দ।

মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের হাউজ অব কমন্সে ভারত সরকার কর্তৃক কাশ্মীরের আর্টিকেল-৩৭০ প্রত্যাহার এবং এর প্রভাব নিয়ে এক সেমিনারের আয়োজন করে ব্রিটিশ বাংলাদেশী কমিউনিটি অ্যালায়েন্স (বিবিসিএ)। সেমিনারে অংশ নেয়া আলোচকরা এই অভিমত ব্যক্ত করেন।

বৃটিশ এমপি গ্রাহাম জন্সের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা মুজাক্কির আলীর সঞ্চালনায় শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সেক্রেটারি ফয়জুন নূর।

টেম্পল কোর্ট চেম্বারের ব্যারিস্টার আফজাল জামি সৈয়দ আলী সেমিনারের পটভূমি এবং প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ভারতের এই আচরণ শুধু কাশ্মীর নয় পুরো দক্ষিণ এশিয়াকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। দেশটির আগ্রাসনবাদী রাজনৈতিক আদর্শের প্রভাব বাংলাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত। এর উদাহরণ হিসেবে তিনি বাংলাদেশে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেন। ফেসবুক পোস্টে ভারত-বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ের পানি চুক্তির সমালোচনা করার জন্য তাকে হত্যা করা হয়।

সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন টাওয়ার হ্যামলেটসের সাবেক ডেপুটি মেয়র অহিদ আহমদ, জম্মু-কাশ্মীরের মেম্বার অফ লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলি রশিদ তুরাবি, শ্যাডো হেলথ মিনিস্টার যুলি কুপার এমপি , আফজাল খান এমপি, ডেবী আব্রাহাম্স এমপি, কাউন্সিলর ডেল ফারিয়ার, এবং ডিএফআইডি মিনিস্টার আন্ড্রো স্টিফেনসন।

সেমিনারে যুলি কুপার আর আফজাল খান এমপি তাদের আলোচনায় কাশ্মীরের অধিকারের প্রতি সমমর্থন ব্যক্ত করেন। তারা কাশ্মীরের জনগণকে নিজেদের সাধারণ মানবিক বোধ এবং অনুভূতির অংশ বলে মন্তব্য করেন।

যুলি কুপার বলেন, ভারত তার আচরণের মাধ্যমে আরেকটি প্যালেস্টাইন তৈরি করতে যাচ্ছে।

ডেবি আব্রাহাম্স এমপি বলেন, এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক কাশ্মীরের জনগণের দুর্গতি, তাদের বৈধ অধিকারগুলো অবদমনের কথা ব্রিটিশ মিডিয়াতে তেমন ভাবে আসেনি। যেভাবে হংকংয়ের আন্দোলনকারীদের কথাগুলো উঠে এসেছে কাশ্মীরের ক্ষেত্রে তেমনটা হয়নি।

তিনি বলেন, আমাদের উচিত হবে এমপিদের কাছে এ ব্যাপারে চিঠি লেখা যাতে করে এ ঘটনাগুলো কাগজে-কলমে রেকর্ডে থাকে।

অল পার্টি কমিটি অন কাশ্মীরের চেয়ার হিসেবে আব্রাহাম্স এমপি আরো বলেন, কাশ্মীর ইস্যুতে জরুরি আলোচনা যেনো অব্যাহত থাকে এটা সকলের নৈতিক দায়িত্ব ।

ওহিদ আহমদ তার আলোচনায় বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার হত্যাকান্ডের কথা তুলে ধরে বলেন, এখন সময় এসেছে বাস্তবিকভাবে ভারতের উপর কি ধরনের চাপ প্রয়োগ করা যায় সেটা ভাববার। শুধুমাত্র এভাবেই ভারতের আচরণে পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

আব্দুর রশিদ তুরাবি বলেন, কাশ্মীরে দখলদারের কারফিউ জারি করা হয়েছে এবং এটা তিন মাসের উপরে হতে চলল। এই কারফিউর অর্থনৈতিক বাস্তবতা হলো কাশ্মীরে প্রধান অর্থকরী ফসল আপেল বাগান ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।কাশ্মীরের অর্থনীতিকে ধসিয়ে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতাকামী কাশ্মীরের প্রধান নেতা সৈয়দ আলী সাজিলাকে তার নিজ ঘরে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। সেখানে পরিবারের সদস্যদেরকে প্রবেশাধিকার দেয়া হচ্ছে না।আরো অনেক নেতাকর্মীকে দিল্লির জেলে বন্দি করে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের স্থানে রাখা হচ্ছে।

তুরাবি বলেন, মোদির উগ্রবাদী রাজনৈতিক দর্শন কাশ্মীরকে একটি সম্ভাব্য গনহত্যার মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। বাস্তবতা হলো বর্তমানে কাশ্মীরের যে লেফটেন্যান্ট গভর্নর তিনি গুজরাট গণহত্যার সময় মোদির অধীনে কর্মরত ছিলেন। এখন সময় এসেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের সপ্তম অধ্যায়ের অধীনে বাধ্যতামূলক রেজ্যুলেশন গ্রহণ করবার।

মুজাক্কির আলি তার আলোচনায় বলেন, আমরা যদি কাশ্মীরের শান্তিপূর্ণ সমাধান বের করতে না পারি তাহলে পুরো দক্ষিণ এশীয় এলাকা একটি সংঘাতময় স্থানে পরিণত হবে। আশপাশের দেশগুলো সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে। এখনই বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের কোন সমালোচনা করা যায় না। ভারতের এই আগ্রাসী মনোভাব প্রতিবেশী এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে।

print

LEAVE A REPLY