জানার বাইরে অজানা ৭ নভেম্বর

বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার প্রধান সুবেদার মাহাবুবুর রহমান, যিনি ১৯৭৮ সাল থেকে জার্মান প্রবাসী। ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর সিপাহী বিপ্লব সম্পর্কে তিনি একটি লিখিত বক্তব্য দি বার্তা.কম thebarta.com কে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যের সারাংশ আপনাদের জন্য তুলে ধরা হলো:
৭ নভেম্বর। বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি বিশেষ দিন। কিন্তু এই বিশেষ দিনটির বিশ্লেষণ
ও মূল্যায়ন ব্যক্তি ও দল বিশেষে ভিন্নি ভিন্ন। এই দিনটিকে “জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি
দিবস” হিসেবে পালন করা হলেও প্রকিত পক্ষে তা ছিল সিপাহী জনতার বিপ্লব, জনগনের
মুক্তির বিপ্লব। এই বিপ্লবে যারা প্রকৃত পক্ষে নেতৃত্ব দিয়েছিলন তারা সবাই ছিলেন সিপাহি ও
গরীব দিন এনে দিন খাওয়ার মত মানুষ। যার কারনে তাদের বক্তব্য বা প্রকৃত সত্য
জনগনের নিকট আজ পর্যন্ত পৌছানো সম্ভব হয়নি।
“বিজেও ৩৫৭৫২ নায়েব সুবেদার মাহবুবর রহমান”। যিনি ছিলেন ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ এর
সিপাহী জনতার বিপ্লবের অন্যতম প্রধান সংগঠক। কিন্তু তার নাম আমরা ইতিহাসে খুজে
পাইনা বললেই চলে। বর্তমানে জার্মানিতে বসবাসকারী সে সময়ের “বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা”
এর সভাপতি মাহবুবর রহমানের লেখা অবলম্বন করে ১৯৭৫ সনের ৭ নভেম্বরের ইতিহাস
তুলে ধরার চেষ্টা করা হল।
১৯৭১ সালের ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত ও ১৯৭৪ সালের ৩০ লক্ষ অনাহারকৃত নরকংকাল
থেকেই এই বিপ্লবের জন্ম হয়েছিল। সাধারন সিপাহী ও জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিপ্লব
সম্পাদিত হলেও পরবর্তীতে কুচক্রী জিয়া ও রাজনৈতিক বুদ্ধিজীবীদের চক্রান্তে সব শেষ হয়ে
যায়।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর সামরিক বাহিনীর ওপর আওয়ামী লীগ সন্তোষ্ট ছিল না।
কারণ ভারত কিছুতেই চায়নি দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এখানে একটি শক্তিশালী সামরিক
বাহিনী গড়ে উঠুক। তখন রাষ্টীয় আর্মির পরিবর্তে আওয়ামী লীগ নিজের আর্মি অর্থাৎ রক্ষী
বাহিনী তৈরি করে। এতে সামরিক বাহিনী ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছিল যে, ভবিষ্যতে
বাংলাদেশে কোন সামরিক বাহিনী থাকবেনা। এমতবস্থায় আর্মির জেনারেলগণ বিদেশী শক্তি
নিয়ে খমতার লোভে নিজেদের মধ্যেই দন্দে লিপ্ত হয়ে পরেছিল। এছাড়াও দেশ স্বাধীন হওয়ার
পর ওয়াদা মোতাবেল আওয়ামী লীগ সরকার বাংলার জনগণকে কিছুই দিতে পারেনি।
উপরোক্ত কার্যকলাপের ফলে নির্যাতিত সাধারন সিপাহী ও জনগণ তাদের প্রকৃত স্বাধীনতার
কথা ভাবছিল। এমতবস্থায় কিছু সংখ্যক সাধারন দেশপ্রেমিক সৈনিক দেশ, জাতী, সাধারণ
জনগণ ও সামরিক বাহিনির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য নিজেদের জীবন কোরবান করতে
এগিয়ে আসেন। ফলশ্রুতিতে ০১.০১.১৯৭৩ সনে Dhaka Cantonment এ Bangladesh
Revolutionary Council ও Suicide commando Force গঠন করা হয়।
আওয়ামী লীগের অত্যাচার যতই বাড়তে লাগলো, সংগঠনও তত শক্তিশালী হতে লাগলো।
১৯৭৪ সনের দুর্ভিক্ষে প্রায় ৩ মিলিয়ন মানুষ অনাহারে মৃত্যুবরণ করে। কিন্তু আওয়ামী
লীগ এর নেতারা আরাম আয়েশে দিন কাটাতে থাকে। তাই ১৯৭৫ সনের প্রথম দিকে
Suicide commando Force যে কোন Action জন্য উতলা হয়ে উঠেছিল। তাই তারা ভাবতে
লাগল, Revolution successful হলে ক্ষমতা কার হাতে তুলে দিবে। এর জন্য তারা জনগনের
একটি পলিটিকাল পার্টির কথা ভাবছিল। কেননা আর্মির মধ্যে পার্টি ও দল করা সম্পূর্ণ
নিষেধ। সে সময় একমাত্র দল JSD যারা আওয়ামী লীগ ও ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলত।
Suicide commando Force এর সাথে জাসদের উদ্দেশ্য ও নীতি মিলে যাওয়ায় তারা জাসদকে
নিজেদের রাজনৈতিক দল মনে করে কাজ করে যেতে থাকে। এবং তাদের সাথে একই
উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করেন কর্নেল তাহের।
১৯৭৪ সনের ২০ জুন, কর্নেল তাহের এক মিটিং এ জানান যে, Gen জিয়া ও তাদের সাথে
আছেন। এতে Revolutionary Commando Council এর সদস্যগন একে সংগঠনের নিরাপত্তার
জন্য উত্তম বলে বিবেচনা করেন। যার ফলে Army, Air Force, Navy, BDR, পুলিশ,
আনসার বাহিনীর সদস্যরা এতে যোগ দিতে থাকেন।
এমতবস্থায় হঠাৎ ১৫ আগস্ট ১৯৭৫, সকালের রেডিওর সংবাদে জানা গেলো, শেখ মুজিবুর
রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। তার মৃত্যুর পর ক্ষমতায় বসেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
যদিও তার ক্ষমতা ছিল মাত্র ২ মাস ১৯ দিন।
ধীরে ধীরে সেনাবাহিনীর মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকট হতে থাকে। নভেম্বরের শুরুতে গৃহবন্ধি হন জেনারেল জিয়াউর রহমান। সারাদেশের আর্মি একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে
মুখোমুখি হয়ে পড়ল। এমন অবস্থায় Revolutionary Command Council এর সদস্যরা
সিপাহীদের মধ্যে একতা আনার চেষ্টা করতে লাগলেন।
বিদ্যমান পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য Command Council এর প্রধানরা Commando Suicide
Force কে তিন ভাগে ভাগ করেন। সেখানে ১ম গ্রুপে Detail করা হয় মাহবুবর রহমানকে।
২য় গ্রুপে Detail করা হয় N/Sub/Acc জালাল ও Sub জমীর (ASC)। এবং ৩য় গ্রুপে
Detail করা হয় হাবিলদার মেজর সুলতানকে।
৬ নভেম্বর ১৯৭৫ সনে কর্নেল তাহের, তার বড় ভাই Sergeant (Air Force) আবু ইউসুফ,
আনোয়ার, বেলাল, বাহার ,গণবাহিনী, JSD এর নেতারা ও Suicide Commando এর
নেতারা গোপনে মিটিং করেন। এবং সেখানে তাদের করনীয় কাজ বিভক্ত করেন। ৬
নভেম্বর “ O” hrs declaration দেওয়া হলে প্রথম Fire Open করার দায়িত্ব দেওয়া হয়
মাহবুবর রহমানকে। পরবর্তীতে তার নেতৃতে অভ্যুত্থান সফল হয় ৭ই নভেম্বর।
print

LEAVE A REPLY