কাল্পনিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে বাবরি মসজিদের রায়! ড. তুহিন মালিক

বাবরি মসজিদের নিচে থাকা স্থাপনাটি ঠিক কী ছিল। তা সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারেনি আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (এএসআই)। “রাম মন্দিরের জায়গায়ই বাবরি মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল” – এ কথাটাও কোর্টে সন্দেহাতীতভাবে প্রমান করা যায়নি। ফলে, কাল্পনিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে প্রদত্ত রায়টি মন্দিরের পক্ষেই গিয়েছে।

ভারতের সংবিধানে ভারতকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র রূপে ঘোষণা করা হয়েছে। যেখানে ভারতের সকল নাগরিকবৃন্দের জন্য ন্যায়বিচার, সাম্য ও স্বাধীনতা সুনিশ্চিত করা হয়েছে।

অথচ আজকের বির্তকিত রায়ে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট তাদের সংবিধানের এই মূল ভিত্তিকেই ধ্বংস করে দিয়েছে। ভারতীয় সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট ‘নির্মোহি আখাড়া’র পক্ষে রায় দিয়েছে। ভারতের সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট Complete Justice বা ‘সম্পূর্ণ ন্যায়বিচারের’ জন্য যেরূপ প্রয়োজনীয় হইতে পারে, সেইরূপ নির্দেশ বা আদেশ দিতে পারবে। অথচ ধর্মনিরপেক্ষ ও ন্যায়বিচারের সাংবিধানিক শপথধারী ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট আজকে নির্লজ্জভাবে অপ্রমানিত মন্দিরের পক্ষেই তাদের এই Complete Justice বা ‘সম্পূর্ণ ন্যায়বিচারের’ তত্বটির প্রয়োগ করলো!

ভুললে চলবে না যে, আইন-আদালত জমির মালিকানা নির্ধারণ করতে পারে, কিন্তু মানুষের ধর্মস্থান ও ধর্মীয় বিশ্বাস নির্ধারণের ক্ষমতা কোন আদালতের নাই। আদালত বিরোধ নিস্পত্তির জায়গা। অথচ ভারতের আদালত বিরোধ নিস্পত্তির পরিবর্তে আজকে আরেকটি বিরোধের জন্ম দিলো!

আশ্চর্য এক রায়! আদালত বাবরি মসজিদ ভাংগাকে বেআইনী বললেও, যারা এই বেআইনী কাজটা করে একটা মসজিদকে শত কোটি মানুষের চোখের সামনে ভেংগে চুরমার করে দিলো তাদের কোন বিচার বা শাস্তি কোনটাই দেয়া হলো না!

আসলে যে বিচারপতি আসামের এনআরসির নির্দেশ দিয়েছিলেন, আজ তিনিই সপ্তাহ পর অবসরে যাওয়ার আগ মুহুর্তে আরেকটি মুসলিম বিদ্বেষী রায় দিয়ে গেলেন। চরম হিন্দুত্ববাদী ভারত রাষ্ট্রের অশুভ যাত্রাপথকে এই রায়ের মাধ্যমে আরো বেশী উৎসাহিত করা হলো। এরফলে এখন থেকে আরো বেশী মাত্রায় গোরক্ষার নামে নির্বিচারে মুসলিম হত্যা করা হবে! এনআরসির বাহানা দিয়ে ভারতের মুসলমানদেরকে নিজেদের মাতৃভূমি থেকে বিতাড়নের আদালতি সুরক্ষাও এখন পাওয়া গেলো! আর যেমনি করে আজ বাবরি মসজিদের পরিবর্তে অন্যত্র একটি জায়গা বরাদ্দ দেয়া হলো, তেমনি করেই এখন ভারতের মুসলমানদেরকে নিজেদের মাতৃভূমির বদলে বাংলাদেশ নামক জায়গাটি বরাদ্দ দেয়া হবে!

print

LEAVE A REPLY