আওয়ামীলীগের কি একটুও লাগে না?

নুর হোসেন শেষ পর্যন্ত ২৯বছর পর উপাধী পেল ‘ইয়ারাখোর’ ও ‘ফেনসিডিলখোর’।
এটা অস্বাভাবিক কিছুই না।
নুরহোসেনের পরিবারের বা রক্তের কেউ এ দেশে রাজনীতি করে না আর করবেও না। নূরহোসেনদের জন্ম হয় পুলিশের গুলি খেয়ে মরবার জন্য।আর তাদের লাশের উপর দাড়িয়ে ক্ষমতায় যাবার জন্য।
রাজনীতি করে পররিবারতন্ত্র স্থায়ীরূপ দিতে না পারলে দেশে নুরহোসেন কেন একদিন সকল আন্দোলনকারী শহীদেরাই ইয়াবাখোর গাঁজাখোর উপাদি পাবে।
৮৭ সালে ইয়াবা বাজারে ছিল না।

নূর হোসেন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি ঢাকা জেলা আওয়ামী মটর চালক লীগের বনগ্রাম শাখার প্রচার সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।
এমন তথ্যই পরে উকেপেডিয়ায় স্থান করে নেয়। ৯০ পরবর্তি সরকার যদি বিএনপি না হয়ে আওয়ামীলীগ হতো তবে হয়তবা নূরহোসেনের পরিচয় হতো জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের বনগ্রাম শাখার প্রচার সম্পাদক।
যাহোক নুরহোসেনেরা গুলি খেয়ে মরবার পরই রাজনৈতিক দলে তাদের পদপদবী নিশ্চিত হয়।

মনে রাখবার দরকার, দশ দফা দিয়ে
১৯৮৭ সালের ১০ই নভেম্বর দেশের দুটি রাজনৈতিক দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগ একত্র হয়ে স্বৈরশাসক এরশাদের পতনের লক্ষ্যে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে যে আন্দোলন সংগ্রাম করেছিল, সে অবরোধের দিন মিছিলে পুলিশ গুলি করলে নুরহোসেন মারা যায়।
সেদিন শুধু নূরহোসেন একাই বুকে শ্লোগান লিখে রাস্তায় মিছিলে আসেনি, এমন লেখা ছিল আরও অনেকের বুকে এবং পিঠে।

ইতিহাস এই ক্ষুদ্র ৮ম শ্রেনি পাস নুরহোসেনের নামে একটা চত্বর বানিয়েছে একদিন। আজ আবার সংসদের বিরোধী দলের নেতা সে নামটির জায়গায় রাংগীয়ে উপাধী দিলেন নেশাখোড়।

এমন কথায় এখন আর কেউ অভাক বা আশ্চর্য হয়না।
গণতন্ত্রের জন্য শত শত বছর যাবত এ রকম কত চত্ত্বর হয়েছে আর ভেংগেছে তাতো এ বংগীয় মাটির মা কম দেখেনি।

মসিউর রহমান রাঙ্গা সাহেবের জাতীয় পার্টি জ্ক্ষমতায় আবার আসলে নুরহোসেন চত্তর টা কী থাকবে বলে মনে করেন?
একটা নেশাখোরের নামে কি ভাবে একটা চত্তরের নাম হয় বলুন?
এমন ভাবে অনেকেই অনেক কিছুর নাম করন করেছিলেন, তা আজ নাই।

নুরহোসেন ক্ষমতাশীল আওয়ামীলীগের মটর শ্রমিক লীগের ক্ষেত্র এক কর্মী ছিল। মিছিলে এসেছিল। দৌড়ে পালাতে গিয়ে পিঠপেতে গুলি খেয়েছিল।
সেই মানুষটিকে যখন জাতীয় পার্টি নেশাখোর বলে তখন আওয়ামীলীগের কি একটুও লাগে না?
এখানেই প্রশ্ন,
আওয়ামীলীগের গায়ে না লাগলে অন্যর লাগবে কেন?
সে তো আওয়ামীলীগ করতো।
অন্যরা কাঁদলেতো সেটা মায়া কান্না হবে!

সেদিনের সেই মিছিলটি ঢাকা জিপিও-র সামনে জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি আসলে স্বৈরশাসকের মদদপুষ্ট পুলিশবাহিনীর গুলিতে নূর হোসেনসহ মোট তিনজন আন্দোলনকারী নিহত হন, এসময় বহু আন্দোলনকারী আহত হন। নিহত অপর দুই ব্যক্তি হলেন যুবলীগ নেতা নুরুল হূদা বাবুল এবং আমিনুল হূদা
টিটু।
তাদের কে মনে রাখবার কী কোন প্রয়োজনীয়তা আছে?
এমন মরনতো এখন লেগেই আছে।
সে সময়ে আমরা রাজপথে। স্বৈরাচার এবং রাজাকার উভয়ের বিরুদ্ধেই তখন আমাদের শ্লোগান আর সংগ্রাম ছিল।এখনও তাই আছে। আছে বলেই নুরহোসেন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।

ক্ষমতাসীন সরকারের ক্ষমতাসীন বিরোধীদল তৈরি করে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে আগামীতে আরো বেশী সংখ্যক সংসদের আসন দিতে হবে এই মসিউর রহমান রাঙ্গা সাহেবদের।
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আসন দিতে হয়েছে এরশাদ পুত্র স্বাদকে।
সময় এসে গেছে গনতন্ত্রকে অধিকতর তথা দেশকে মধ্যম আয়ের ধনি বানাতে প্রতি ১০ নভেম্বর একদলা করে থুথু ফেলে যাবে ঐ নূরহোসেন চত্তরে।

ভাষানী, ওসমানী, সূর্যসেন প্রীতিলতাদের এসে খোঁজ করেন ওপার থেকে প্রনাবমুখার্জি।
নুরহোসেন, বসুনিয়া আর ডাক্তার কে কেউ খোজে না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একদিন স্মৃতিচারন করে বলেছিলেন,

“ সেদিন আমরা যখন মিছিল শুরু করছিলাম তখন নূর হোসেন আমার পাশে দাড়িয়ে ছিল। আমি তাকে কাছে ডাকলাম এবং বললাম তার গায়ের এই লেখাগুলোর কারণে তাকে পুলিশ গুলি করবে। তখন সে তার মাথা আমার গাড়ির জানালার কাছে এনে বলল, “আপা আপনি আমাকে দোয়া করুন, আমি গণতন্ত্র রক্ষায় আমার জীবন দিতে প্রস্তুত।”

এরশাদ সাহেবের জুম্মার নামাজ পড়তে গিয়ে দেয়া বক্তব্য আমাদের এক সময় হাসির খোরাক হয়েছিল,
তিনি মসজিদে বয়ানে বলেছিলেন,
রাতে খোয়াব দেখেছি,তাই দুপুরে আপনাদের সাথে নামাজ আদায় করতে চলে এসেছি। মসজিদের ভিতরে তখন তার পাসের নিরাপত্তা কর্মীরা মুজকি হেসেছিল। কারণ নিরাপত্তা গোয়েন্দারা উচ্চ স্তরের পূর্বের নির্দেশ পেয়ে ওখানে আরও সপ্তাহ খানেক পূর্ব থেকেই অবস্থান করছিল।

আগা গোড়া কুলসিত এমন রাজনৈতিক আচরণে হেসে কুটি কুটি হলেও করবার কিছুই থাকে না।
নিচে বাঁশের আঘাতে গর্ত হয়ে গেলেও উপরে ব্যাথা অনুভবের বদলে দেখাতে হবে আমরা ভাল আছি, আমরা হা হা করে হাসতে পারি।

স্বৈরাশাসক এরশাদের শাসনামলে পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়া শহীদ নুর হোসেন মাদকাসক্ত ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা। তিনি বলেছেন, নুর হোসেন ‘ইয়াবাখোর’ ও ‘ফেনসিডিলখোর’ ছিলেন।

নূরহোসেন দিবসে তাই নুরহোসেনের ছবির মুখটিই শুধু দেখছি, আর বলছি,
এমন একটা চেহারা কি দেখতে আসলে ইয়াবাখোর বা গাঁজাখোর!!
আমার মনে হয় গোটা রাজনীতির বিরাট এক অংশই এখন অবৈধ ক্ষমতাখোর হয়ে দাড়িয়েছে।
যা সমাজের গাঁজা আর ইয়াবাখোরদের চেয়ে হাজার গুণ খারাপ।
ওদের চেহারা খোরদের চেয়েও ভয়ংকর।

ক্ষমা কর ভাই “ নুরহোসেন”
তুমি আজ নেশা খোর….
তুমি ভেবেছিলে হবে দেশে গণতন্ত্রের ভোর?
তোমার সেই রক্ত আর লেখা
চুরি করে নিয়ে
আসন পেতে সংসদে বসেছে গণতন্ত্রের চোর।
ক্ষমা কর ভাই নুর হোসেন,
তুমি হলে আজ নেশা খোর।

print

LEAVE A REPLY