ইসলামের আলোকে খাদ্য নিরাপত্তা

ইসলামি আইনের প্রধান উৎস কোরআন ও সুন্নাহ অধ্যয়ন করলে এ বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে বোঝা যায়, দারিদ্র্য পীড়িত ও ক্ষুধাক্লিষ্ট সমাজ ইসলামে কাম্য নয়। কেননা, কোরআনে রিজিক প্রাপ্তি ও ক্ষুধার অভিশাপ থেকে মুক্তি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ও নেয়ামত স্বরূপ বিবৃত হয়েছে এবং নবি (সা) যে অসংখ্য দোয়া শিখিয়েছেন তার মধ্যে রয়েছে দারিদ্র্য ও ক্ষুধা থেকে মুক্তির বিষয়টিও। যে কোন বিষয়ে ইসলামের বক্তব্য কী? তা জানার জন্য কোরআন-সুন্নাহর পর যে বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি নিবন্ধিত হয় তা হলো, ইসলামের ইতিহাস। কোরআন-হাদিস সকল তাত্ত্বিক আলোচনাকে ইতিহাস তার বাস্তবতার দর্পণে মানবসমাজের কাছে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। ইসলাম কোন দার্শনিক আস্ফালনের নাম নয়Ñ এটি এক বাস্তব মতাদর্শ। তাই নবুওয়াত ও খেলাফতের যুগে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি উজ্জ্বলতর উদাহরণ স্বরূপ ইতিহাসে গৌরবজনকভাবে ঠাঁই করে নিয়েছে।

কোরআন ও সুন্নাহর আলোচনা এবং নববি ও খলিফা যুগের পরতে পরতে খাদ্য নিরাপত্তার ব্যাপারটি যেমন দীপ্যমান; তেমনি ইসলামি আইন অর্থাৎ ফিকাহর বিধানগত ধারা-উপধারায় রয়েছে খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিস্তারিত বিবরণ।
সংক্ষিপ্ত এ ভূমিকা থেকে এ কথা সহজেই বোধগম্য যে, খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি ইসলামে চারভাবে পাওয়া যায়। যথা

১. আল-কোরআন ২. সুন্নাহ ৩. ইতিহাস ৪. ইসলামি ফিকাহ


আল-কোরআনে খাদ্য নিরাপত্তা


(ক) খাদ্য নিরাপত্তা আল্লাহর এক বিশেষ অনুগ্রহ। সুরা কুরাইশে বলা হয়েছে, (১) যেহেতু কুরাইশের আসক্তি আছে (২) আসক্তি আছে তাহাদের শীত ও গ্রীষ্মের সফরের (৩) অতএব, উহারা ইবাদত করুক এই গৃহের মালিকের (৪) যিনি উহাদিগকে ক্ষুধায় আহার দিয়াছেন এবং ভীতি হইতে উহাদিগকে নিরাপদ করিয়াছেন।

সুরা নামলের ১১২ নং আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ দৃষ্টান্ত দিচ্ছেন এক জনপদের যাহা ছিল নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত, যেথায় আসিত সর্বদিক হইতে উহার প্রচুর জীবনোপকরণ। অতঃপর উহা আল্লাহর অনুগ্রহ অস্বীকার করিল, ফলে তাহারা যাহা করিত তজ্জন্য আল্লাহ্ তাহাদিগকে আস্বাদ গ্রহণ করাইলেন ক্ষুধা ও ভীতির আচ্ছাদনের।

(খ) খাওয়া-দাওয়া ও পানাহারের ক্ষেত্রে অপচয় ও বিলাসিতা খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখোমুখি করে দেয়। তাই কোরআনে এটিকে কড়াভাবে নিষেধ করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, … তখন তোমরা উহার ফল আহার করিবে আর ফসল তুলিবার দিনে উহার হক প্রদান করিবে এবং অপচয় করিবে না (সুরা আনআম ঃ ১৪১)।

(গ) খাদ্য নিরাপত্তা দল, গোষ্ঠী ও ধর্ম নির্বিশেষে সকলের সমান মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। সুরা হূদের ৬ নং আয়াতে বলা হয়েছে, ভূ-পৃষ্ঠে বিচরণকারী সকলের জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহরই। তিনি উহাদের স্থায়ী ও অস্থায়ী অবস্থিতি সম্বন্ধে অবহিত, সুস্পষ্ট কিতাবে সবকিছুই আছে।

(ঘ) শুধু পরিশ্রম ও কৌশল দ্বারাই খাদ্য-নিরাপত্তা অর্জন সম্ভব; এই বদ্ধমূল ধারণা সব সময় প্রযোজ্য নয়। বরং নৈতিকতা ও খোদাভীতিই খাদ্য নিরাপত্তাকে এমনভাবে ত্বরান্বিত করে যা মানুষ কল্পনাই করতে পাওে না। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, যে কেহ আল্লাহকে ভয় করে আল্লাহ্ তাহার পথ করিয়া দিবেন এবং তাহাকে তাহার ধারণাতীত উৎস হইতে দান করিবেন রিজিক। যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর নির্ভর করে তাহার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। আল্লাহ তাঁহার ইচ্ছা পূরণ করিবেনই; আল্লাহ সমস্ত কিছুর জন্য স্থির করিয়াছেন নির্দিষ্ট মাত্র (সূরা তালাক : ২-৩)।

(ঙ) অনাথ ব্যক্তি-গোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ কোন ঐচ্ছিক বা কেবল নৈতিক সেবা কাজ নয়; বরং তা প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তির মৌলিক ও প্রধান দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। এ দায়িত্ব থেকে বিচ্যুতির পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। আল্লাহ বলেন: তাহাদের ধন-সম্পদে রহিয়াছে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতের হক” (সূরা যারিয়াত : ১৯)।

আরো এরশাদ হচ্ছে : অতঃপর সে ধর্মের ঘাঁটিতে প্রবেশ করেনি, আপনি জানেন, সে ধর্মের ঘাঁটি কী? তা হচ্ছে দাসমুক্তি আর দুর্ভিক্ষের দিনে এতিম আত্মীয়কে অথবা ধুলি ধুসরিত মিসকিনকে অন্নদান।
কোরআন জাহান্নামিদের ভাষায় তাদের জাহান্নামে পতিত হওয়ার কারণ বর্ণনা দিচ্ছে এভাবে, আমরা নামাজ আদায়কারীদের মধ্যে ছিলাম না এবং মিসকিনকে অন্নদানকারীদের মধ্যেও ছিলাম না” (সূরা মুদ্দাসসির : ৪৩-৪৪)।
আল্লাহ তায়ালা আরো এরশাদ করেন, তুমি কি দেখিয়াছ তাহাকে, যে দীনকে অস্বীকার করে? সে তো সে-ই, যে এতিমকে রূঢ়ভাবে তাড়াইয়া দেয় এবং সে অভাবগ্রস্থকে খাদ্যদানে উৎসাহ দেয় না। সুতরাং দুর্ভোগ সেই সালাত আদায়কারীদের, যাহারা সালাত সম্বন্ধে উদাসীন, যাহারা লোক দেখানোর জন্য উহা করে এবং গৃহস্থালীর প্রয়োজনীয় ছোট-খাট সাহায্যদানে বিরত থাকে” (সূরা মাউন : ১-৭)।

(চ) দুর্ভিক্ষ মোকাবেলার পূর্বপ্রস্তুতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে এবং খাদ্য সংকট, দুর্ভিক্ষ ইত্যাদি পরিস্থিতি জনগণের নিকট থেকে কোনভাবে গোপন করার চেষ্টা করা হতে বিরত থাকতে হবে। সমুদয় পরিস্থিতি জনগণের সামনে স্পষ্ট করতে হবে। নবি ইউসুফ (আ) এর ঘটনাকে এ ব্যাপারে আল-কোরআনে এক মহাদৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ইউসুফ বলিল, তোমরা সাত বৎসর একাদিক্রমে চাষ করিবে, অতঃপর তোমরা যে শস্য কর্তন করিবে উহার মধ্যে যে সামান্য পরিমাণ তোমরা ভক্ষণ করিবে, তাহা ব্যতীত সমস্ত শীষসমেত রাখিয়া দিবে; ইহার পর আসিবে সাতটি কঠিন (দুর্ভিক্ষের) বৎসর, এই সাত বৎসর, যাহা পূর্বে সঞ্চয় করিয়া রাখিবে, লোকে তাহা খাইবে; কেবল সামান্য কিছু যাহা তোমরা সংরক্ষণ করিবে, তাহা ব্যতীত। অতঃপর আসিবে এক বৎসর, সেই বৎসর মানুষের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাত হইবে এবং সেই বৎসর মানুষ প্রচুর ফলের রস নিংড়াইবে (সূরা ইউসুফ : ৪৭-৪৯)।

(ছ) ইসলামে খাদ্য নিরাপত্তার লক্ষ্য বস্তুবাদভিত্তিক ভোগবাদী মানসিকতার ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়। এখানে খাদ্য নিরাপত্তার লক্ষ্য মূলত ২টি। প্রথমত মানবীয় চাহিদা ও প্রয়োজন মিটানো। দ্বিতীয়ত পালনকর্তা, রিজিকদাতা প্রভুর প্রতি কৃতজ্ঞতা, যা মানসিকভাবে কখনো মৌখিকভাবে এবং কখনো শারীরিক কসরতের মাধ্যমে ইবাদতের দ্বারা বাস্তবায়ন করতে হবে। কেননা, খাদ্যের জন্য খাদ্য বা কেবলই শুধু বাঁচার জন্য খাদ্য এ মাপকাঠি জীব-জন্তুর।

(চ) দুর্ভিক্ষ মোকাবেলার পূর্বপ্রস্তুতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে এবং খাদ্য সংকট, দুর্ভিক্ষ ইত্যাদি পরিস্থিতি জনগণের নিকট থেকে কোনভাবে গোপন করার চেষ্টা করা হতে বিরত থাকতে হবে। সমুদয় পরিস্থিতি জনগণের সামনে স্পষ্ট করতে হবে। নবি ইউসুফ (আ) এর ঘটনাকে এ ব্যাপারে আল-কোরআনে এক মহাদৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ইউসুফ বলিল, তোমরা সাত বৎসর একাদিক্রমে চাষ করিবে, অতঃপর তোমরা যে শস্য কর্তন করিবে উহার মধ্যে যে সামান্য পরিমাণ তোমরা ভক্ষণ করিবে, তাহা ব্যতীত সমস্ত শীষসমেত রাখিয়া দিবে; ইহার পর আসিবে সাতটি কঠিন (দুর্ভিক্ষের) বৎসর, এই সাত বৎসর, যাহা পূর্বে সঞ্চয় করিয়া রাখিবে, লোকে তাহা খাইবে; কেবল সামান্য কিছু যাহা তোমরা সংরক্ষণ করিবে, তাহা ব্যতীত। অতঃপর আসিবে এক বৎসর, সেই বৎসর মানুষের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাত হইবে এবং সেই বৎসর মানুষ প্রচুর ফলের রস নিংড়াইবে (সূরা ইউসুফ : ৪৭-৪৯)।
(ছ) ইসলামে খাদ্য নিরাপত্তার লক্ষ্য বস্তুবাদভিত্তিক ভোগবাদী মানসিকতার ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়। এখানে খাদ্য নিরাপত্তার লক্ষ্য মূলত ২টি। প্রথমত মানবীয় চাহিদা ও প্রয়োজন মিটানো। দ্বিতীয়ত পালনকর্তা, রিজিকদাতা প্রভুর প্রতি কৃতজ্ঞতা, যা মানসিকভাবে কখনো মৌখিকভাবে এবং কখনো শারীরিক কসরতের মাধ্যমে ইবাদতের দ্বারা বাস্তবায়ন করতে হবে। কেননা, খাদ্যের জন্য খাদ্য বা কেবলই শুধু বাঁচার জন্য খাদ্য এ মাপকাঠি জীব-জন্তুর বেলায় প্রযোজ্য হতে পারে। শ্রেষ্ঠ জীব মানুষের বেলায় তা প্রয়োগ হতে পারে না। আল্লাহ বলেন, “যারা কুফরি করে উহারা ভোগ-বিলাসে মত্ত থাকে এবং জন্তু-জানোয়ারের মত উদর পূর্তি করে; আর জাহান্নামই উহাদের নিবাস” (সুরা মুহাম্মাদ : ১২)।

হাদিস ও ফিকাহের আলোকে খাদ্য নিরাপত্তা
হুজুর (সা) এর অসংখ্য হাদিসেও অন্ন-বস্ত্র তথা দারিদ্র্য দূরীকরণের ওপর তাগিদ এসেছে। হুজুর (সা) এরশাদ করেন, বন্দিদেরকে মুক্ত কর এবং ক্ষুধার্তকে অন্ন দাও। আব্দুল্লাহ বিন ওমর (রা) কর্তৃক বর্ণিত হাদিসে রসূল (সা) বলেন, কোন এলাকার লোক এমতাবস্থায় ভোরে জাগলো যে, তাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি অনাহারে ছিল, তবে তাদের ওপর হতে আল্লাহ তার জিম্মা প্রত্যাহার করে নেন।
অপর হাদিসে এরশাদ করেন- প্রতিবেশী অভুক্ত জেনেও সন্তুষ্টচিত্তে রাত্রি যাপন করে এমন ব্যক্তি মুমিন নয়।

হুজুর (সা) আরো এরশাদ করেন, জিবরাইল (আ) আমাকে প্রতিবেশীর অধিকার সম্পর্কে এতো অধিক স্মরণ করিয়ে দিতেন, যেন আমার মনে হয় যে, প্রতিবেশীকে আমার উত্তরাধিকার করে দিবেন।
এরূপ আরো অনেক হাদিস দ্বারা সুস্পষ্ট হয় যে, প্রতিবেশীর স্বার্থের প্রতি উদাসীনতা বনাম মুমিন হওয়া একাকার হওয়ার কোন অবকাশ নেই।

উল্লেখ করা যেতে পারে, আধুনিক যুগে ‘প্রতিবেশী’ শব্দের পরিসর অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। কোরআন-হাদিসের উক্ত বাণীসমূহের ওপর ভিত্তি করে সকল ফিকহবিদগণ ঐক্যমত হয়েছেন যে, ক্ষুধার্তের অন্ন ব্যবস্থা সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব। আর যদি দুর্ভিক্ষের সময় হয় তখন ফরজে কেফায়া। ইমাম আবু বকর জাসসাস বলেন, যে সম্পদের যে অংশটুকু বের করা মালিকের জন্য ওয়াজিব তা হলো জাকাত। কিন্তু তা ছাড়াও এমন পরিস্থিতি আসতে পারে, যা সহনশীলতা এবং দান করাকে ওয়াজিব করে দেয়। যেমন- কোন ক্ষুধার্ত কিংবা বস্ত্রহীন মানুষ শোচনীয় অবস্থার সম্মুখীন হয়। অথবা কোন মৃত ব্যক্তির কাফন-দাফনের ব্যবস্থা না থাকে। হানাফি মাজহাবের প্রসিদ্ধ কিতাব আল ইখতিয়ার-এ আল্লামা সোসেলি (রহ) লিখেছেন, যদি কোন ব্যক্তি মারাত্মক ক্ষুধার্ত হয় এবং খাদ্য সংগ্রহ করার শক্তি তার নেই; তবে প্রত্যেক ওয়াকিফহাল ব্যক্তির ওপর তার অন্নের ব্যবস্থা করা ফরজ। তার জীবন রক্ষার্থে যদি তারা এই ফরজ আদায় না করে এবং এরপর সে ব্যক্তির মৃত্যু হয় তবে সকলেই সমভাবে গুনাহগার হবে।

শাফেয়ি মাজহাবের প্রখ্যাত আলেম আল্লামা রমলি (রহ) ফরজে কেফায়া আমলগুলোর সূচিতে উল্লেখ করেন, মুসলমান এবং ইসলামি রাষ্ট্রে বসবাসকারী অমুসলিম জিম্মিদের রক্ষা করা ফরজে কেফায়া। তেমনিভাবে, বস্ত্রহীনদের জন্য কমপক্ষে এতটুকু বস্ত্রের ব্যবস্থা করা, যা দিয়ে সতর আবৃত করতে পারে অথবা শীতের সময় শীত নিবারণ করতে পারে। আর ক্ষুধাতুরের আহারের ব্যবস্থা তখনি ফরজে কেফায়া যখন বাইতুল মাল থেকে সমাধান অসম্ভব হয়, কিংবা ফান্ড শূন্য হয় বা কর্তৃপক্ষ অত্যাচারী হয়।

এখানে এটিও স্পষ্ট হয় যে, যদি সামর্থ্যবান ব্যক্তির নিকট সমস্যার সমাধান চাওয়া হয় তাহলে তার জন্য অস্বীকার করা জায়েজ হবে না। যদিও তথায় সে ছাড়া আরো সক্ষম ব্যক্তি থাকে। ইমাম গাজালি (রহ) বলেন, যখন মুসলমানরা দুর্ভিক্ষ ও খরার সম্মুখীন হয় এবং অনেক লোক মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয় তখন ধনীদেরকে তাদের খাদ্যের ব্যবস্থা করতে হবে এবং এটা ফরজে কেফায়া।

মোটকথা, দরিদ্রের অন্ন-বস্ত্র সংস্থানের ব্যবস্থা করা প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর শরিয়ত অর্পিত মহান দায়িত্ব। যদি কোন ব্যক্তি এ দায়িত্ব পূরণে নিবৃত থাকে তবে সে গুনাহগার হবে। আর তখন তার ওপর ইসলামি সরকারের হস্তক্ষেপের অধিকার রয়েছে।

আজ জাতির অসংখ্য সদস্য যখন অন্ন-বস্ত্রহীন জীর্ণ-শীর্ণভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছে। অথচ এই কঠিন সময়ে মদ-নারী বিলাস বাসনে অঢেল সম্পদ বিনষ্টকারী বিত্তশালীদের কথা আর কি বলা যাবে। কিন্তু মুসল্লি সাহেব মূল্যবান শেরওয়ানি পরে ফুটপাতে দরিদ্র ও অনাহারে কালাতিপাতকারীদের প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে তাদের পাশ দিয়ে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে যান তখন দরিদ্রের ক্ষুধার্ত পেট বিদ্রƒপের হাসি দেয় আর ইসলাম তাকে দেয় ধিক্কার!

insaf24

print

LEAVE A REPLY