‘আম্মু আমার অনেক বই, তুমি সাজিয়ে রেখে দিও’

আবরার চলে গেছেন দেড় মাসেরও বেশ সময় ধরে। দীর্ঘ এ সময়ে কেমন আছেন তার মা? আর কেমনই বা তার স্মৃতিচিহ্ন? মূলত সেটি জানিয়েই স্ট্যাটাস দিয়েছে আবরারের বন্ধুরা। লিখেছেন, স্বপ্নগুলো সাজিয়ে রাখা আছে অসম্ভব সুন্দর এক ভালোবাসা আর মায়ার বাঁধনে। শুধু সেই স্বপ্নের কারিগর নেই এখানে। আবরার তার মাকে বলেছিল, ‘আম্মু তুমি একটি আলমারি তৈরি করো, আমার অনেক বই আছে; সেগুলো আমি পাঠিয়ে দিব, তুমি সাজিয়ে রেখে দিও।’ বইগুলো ফিরেছে ঠিকই, কিন্তু আবরার আর ফেরেনি।

আবরারের মা হয়ত বইগুলো ঘেঁটে ঘেঁটে দেখে ছেলের হাতের স্পর্শ নেন

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, আবরারকে ২০০৫ নম্বর কক্ষে নেয়ার পর ইফতি মোশাররফ অন্যদের বলেন, ‘তোরা এবার ওর কাছ থেকে বের কর বুয়েটে কে-কে শিবির করে।’ তখন মোয়াজ আবু হোরায়রা ও অমর্ত্য ইসলাম আবরারের মুমূর্ষু অবস্থা দেখে মেহেদি হাসান ওরফে রবিনকে জানান, ‘আবরারকে হাসপাতালে নিতে হবে।’ এই কথা শোনার পর মেহেদি হাসান রবিন বলেন, ‘ও নাটক করছে। শিবির চেনস না। শিবির চেনা কষ্ট।’ রাত আড়াইটার সময় ইফতি মোশাররফ, মুজাহিদ, তাবাখখারুল ও তোহা মিলে আবরারকে তোশকে করে হলের দোতালার সিঁড়িতে রাখেন। চূড়ান্ত মারধরের পরে আসামিরা বুয়েটের চিকিৎসক ও অ্যাম্বুলেন্স ডেকে আনলে তিনি আবরারের দেহ পরীক্ষা করে মারা যাওয়ার ঘোষণা দেন।

অন্যদিকে দু’দিন আগে দেয়া এক স্ট্যাটাসে হত্যার পেছনে বন্ধুত্বকে দায়ী করেছেন ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ।আবরারের বন্ধু শামীম বিল্লাহ সম্পর্কে ফাইয়াজ লিখেছেন, ‘একে টিউশন ঠিক করে দিয়েছিল ভাইয়া। খুনিদের মধ্যে দু’জন কয়েকদিন আগেই সিলেটে গেছিল ভাইয়ার সাথে।

স্মৃতিগুলায় বেঁচে থাক হাজারো বছর

আসলে এদের তো সন্দেহ করার কোনো সুযোগ ছিল না যে এরাই এমন ষড়যন্ত্র করছে। আগে একটা প্রবাদ পড়তাম: দুঃসময়ের বন্ধুই প্রকৃত বন্ধু। বাবা-মা ছোট থেকে বলত বন্ধু থাকা ভালো না; যখন কিছু হবে না তখন এরা সবসময় সাথে থাকবে। কিন্তু বিপদে পড়লে দেখবি কোনো বন্ধুকে খুজে পাবি না। তখন অগ্রাহ্য করলেও এখন ঠিক বুঝেছি কথাগুলা আসলেই ঠিক ছিল। যতই ভাই বলে ডাকা হোক না কেন বিপদে রক্তের সম্পর্ক ছাড়া কেউ আসে না।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। গত বুধবার দুপুরে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।

আউট বইয়ে অভ্যস্ত ছিল আবরার

সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) হেমায়েত উদ্দিন খান বলেন, এই মামলায় অভিযুক্ত ২৫ জনের মধ্যে চারজন পলাতক আছেন। বাকিরা গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। এ ঘটনার দায় স্বীকার করে আটজন আদালতে আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বাকি ১৩ জনের ১৬১ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।

উৎসঃ   দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস
print

LEAVE A REPLY