সোলার মিনিবাস বানালেন বুলবুল!

একের পর এক নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে আলোচনায় আসা তরুণ বুলবুল এবার তৈরি করেছেন সোলার মিনিবাস। সম্পূর্ণ সৌর বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করে মিনিবাসটি তৈরি করা হয়েছে। ১২ সিটের এ মিনিবাসটি দেখতে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা। দূর থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই, এটি সৌরবিদ্যুৎ দ্বারা চালিত মিনিবাস।

পাকুন্দিয়া পৌরসভার হাপানিয়া এলাকার এমদাদুল হক জসিমের ছেলে এনামুল হক বুলবুল ইতোমধ্যেই তরুণ উদ্ভাবক হিসেবে জেলাজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন। তার তৈরি প্রযুক্তি জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে সেরা তরুণ উদ্ভাবনের পুরস্কার অর্জন করেছে। সম্প্রতি তিনি সোলার প্যানেল দিয়ে ১২ সিটের একটি মিনিবাস তৈরি করেছেন। মাসখানেক ধরে কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে তিনি মিনিবাসটি তৈরি করেছেন। সম্প্রতি একই উপজেলার তারাকান্দি এলাকার তোফায়েল আহমেদ বিল্লাল সাড়ে চার লাখ টাকা দিয়ে মিনিবাসটি কিনে নিয়েছেন। গত মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে সোলার মিনিবাসটি উদ্বোধন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে সোলার মিনিবাসটি উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: নাহিদ হাসান। একই দিন ওই গ্রাহকের কাছে চাবি হস্তান্তরের মাধ্যমে মিনিবাসটি বুঝিয়ে দেয়া হয়।

৫০০ ওয়াটের সোলার প্যানেল, ৬০ ভোল্টের ১৫০ অ্যাম্পিয়ারের দু’টি ব্যাটারি দ্বারা তৈরি মিনিবাসটির আসন সংখ্যা ১২, যার গতি ঘণ্টাপ্রতি ৪০-৪৫ কিলোমিটার। একবারের পূর্ণ চার্জে মিনিবাসটি ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলবে। আর সোলার সংযোগ থাকলে ২৪ ঘণ্টাই চালানো সম্ভব। এতে বিদ্যুৎ দ্বারা চার্জের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব এ যান লোকাল ভাড়া ছাড়াও রিজার্ভ গাড়ি হিসেবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ব্যবহার যোগ্য বলে জানান এর নির্মাতা এনামুল হক বুলবুল। তেল-গ্যাস ছাড়া সোলারনির্ভর এ মিনিবাসটি দেখতে উৎসুক জনতা ভিড় করছেন। অনেকে আগ্রহ দেখাচ্ছেন এরকম আরো গাড়ি কেনার।

এনামুল হক বুলবুল বলেন, দীর্ঘ ১০ বছরের প্রচেষ্টায় সৌরবিদ্যুৎচালিত বিভিন্ন যান তৈরি করেছি, যা ব্যাপকভাবে সাড়া ফেলেছে। সোলার মোটরবাইক তৈরি করে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ তরুণ উদ্ভাবকের পুরস্কার অর্জন করেছি। কাজের এমন স্বীকৃতি পেয়ে আমি বেশ উজ্জীবিত। এরই ধারাবাহিকতায় সোলার চালিত মিনিবাস তৈরি করেছি, যা বেশ সফলভাবে চলছে। এতে খরচ হয়েছে প্রায় চার লাখ টাকার মতো। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এরকম আরো কিছু তৈরি করতে চাই।

উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবদুল আজিজ আকন্দ বলেন, বুলবুল একজন সফল উদ্ভাবক। তার পাশে রয়েছে উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিস। এ ছাড়াও যেকোনো তরুণ উদ্ভাবকের পাশে থেকে তাদের সহায়তা করা হবে বলেও তিনি জানান।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: নাহিদ হাসান বলেন, বর্তমান সরকার প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক অবদান রেখে চলছে। সোলার দ্বারা নির্মিত এসব নতুন উদ্ভাবন দেশের উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখবে। সে জন্য বুলবুলসহ তরুণ উদ্ভাবকদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।

তরুণ উদ্ভাবক এনামুল হক বুলবুল পাকুন্দিয়া পৌরসদরের হাপানিয়া ব্যাপারী বাড়ি এলাকার অবসরপ্রাপ্ত এনজিও কর্মকর্তা এমদাদুল হক জসিমের ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে বুলবুল সবার বড়। মা সুফিয়া খাতুন পাকুন্দিয়া সদরের পরিবার কল্যাণ সহকারী। ছোটবেলা থেকেই তিনি নতুন কিছু করার চেষ্টা করতেন। তিনি এর আগে সোলার মোটরবাইক, সোলার থ্রি হুইল বাইক, সোলার সেচ পাম্প ও সোলারচালিত জিপ গাড়ি বানিয়েছেন। সোলার মোটরবাইক বানিয়ে তিনি ২০১৬ সালে ঢাকা বিভাগীয় বিজ্ঞান মেলায় শ্রেষ্ঠ তরুণ উদ্ভাবকের খ্যাতি অর্জন করেন। এ ছাড়াও তিনি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে একাধিকবার শ্রেষ্ঠ তরুণ উদ্ভাবকের পুরস্কার লাভ করেন।

উৎসঃ   dailynayadiganta
print

LEAVE A REPLY