সাড়ে ৪০০ কোটি টাকা উধাও পতনে আরো এক সপ্তাহ

বড় উত্থানের পর আবার টানা দরপতনে দেশের শেয়ারবাজার। গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন কার্যদিবসেই দরপতন হয়। এতে এক সপ্তাহে সাড়ে ৪০০ কোটি টাকার ওপরে হারিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার ফলে বিনিয়োগকারীরা এই অর্থ হারালেন। গত সপ্তাহের আগের সপ্তাহেও শেয়ারবাজারে দরপতন হয়। অবশ্য তার আগের সপ্তাহে বড় ধরনের উত্থান হওয়ায় তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার ও ইউনিটের দাম সম্মিলিতভাবে সাড়ে ২৫ হাজার কোটি টাকা বাড়ে।

কিন্তু এর পরেই ঘটে ছন্দপতন। দুই সপ্তাহের টানা পতনে আবারও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তবে গত সপ্তাহজুড়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া যে কয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে তার থেকে বেড়েছে বেশি। সপ্তাহজুড়ে বাজারটিতে ১৭৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৫২টির। দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৩টির। বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের দাম বাড়ার পরও গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৪০ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা, যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৩ লাখ ৪০ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ৪৪৫ কোটি টাকা। এ হিসাবে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার ও ইউনিটের দাম এক সপ্তাহে ৪৪৫ কোটি টাকা কমেছে। এদিক থেকে বিবেচনা করেলে শেয়ারবাজারে পতনের কারণে বিনিয়োগকারীরা প্রায় সাড়ে ৪০০ কোটি টাকা হারিয়েছেন। বাজার মূলধন হারানোর সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ১৬ দশমিক ৭০ পয়েন্ট বা দশমিক ৩৭ শতাংশ কমেছে। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি কমে ৪৪ দশমিক ২৪ পয়েন্ট বা দশমিক ৯৮ শতাংশ।

প্রধান মূল্যসূচকের সঙ্গে পতন হয়েছে ডিএসইর বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচকেরও। গত সপ্তাহে এ সূচকটি কমে ১০ দশমিক ১৮ পয়েন্ট বা দশমিক ৬৭ শতাংশ। তার আগের সপ্তাহে সূচকটি কমে ১৯ দশমিক ৩৮ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ২৬ শতাংশ।

ডিএসইর অপর মূল্যসূচক ডিএসই শরিয়াহ্ কমেছে দশমিক ৮৮ পয়েন্ট বা দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি কমে ৭ দশমিক ২১ পয়েন্ট বা দশমিক ৭০ শতাংশ। এদিকে পতনের বাজারে ডিএসইতে লেনদেনের গতিও কমেছে। গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয় ৪৪৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৪৪৫ কোটি ৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমে ৬৮ লাখ টাকা বা দশমিক ১৫ শতাংশ।

আর গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ২২২ কোটি ৬ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ২ হাজার ২২৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। সে হিসাবে মোট লেনদেন কমেছে ৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা বা দশমিক ১৫ শতাংশ। গত সপ্তাহের মোট লেনদেনের মধ্যে ‘এ’ গ্রুপের প্রতিষ্ঠানের অবদান দাঁড়িয়েছে ৮৩ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। এ ছাড়া ডিএসইর মোট লেনদেনে ‘বি’ গ্রুপের অবদান ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ। ‘জেড’ গ্রুপের প্রতিষ্ঠানের অবদান দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং ‘এন’ গ্রুপের অবদান ৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ। টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের শেয়ার। কোম্পানিটির ১৫৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা সপ্তাহজুড়ে হওয়া মোট লেনদেনের ৭ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা খুলনা পাওয়ারের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৬৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকার, যা সপ্তাহের মোট লেনদেনের ২ দশমিক ৮৮ শতাংশ। ৫৯ কোটি ৭৮ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সামিট পাওয়ার। লেনদেনে এরপর রয়েছে- এডিএন টেলিকম, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, গ্রামীণফোন, বিবিএস কবলস, এস এস স্টিল, ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যাল এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল।

ইনকিলাব

print

LEAVE A REPLY