সরকারের একটি ভুল পরিকল্পনার অনবদ্য উদাহরণ

টাঙ্গাইল সদরের রাবনা বাইপাস এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের একটি নির্মাণাধীন ফ্লাইওভার। মহাসড়কটির ৭০ কিলোমিটার চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্পের আওতায় নির্মিত নয়টি ফ্লাইওভারের মধ্যে এটি একটি। ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০।

দায়সারা পরিকল্পনা কিভাবে প্রকল্পের ব্যয় এবং সময়সীমা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে তার আরেক দৃষ্টান্ত জয়দেবপুর-এলেঙ্গা মহাসড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্প। সরকারের অধিকাংশ বড় প্রকল্পে সময় ও ব্যয় বৃদ্ধির এই প্রবণতা দেখা যায়।

জয়দেবপুর থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্পটির জন্য বাজেট ধরা হয়েছিলো দুই হাজার ৭৮৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। ২০১৮ সালের মার্চের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিলো।

দায়সারা পরিকল্পনার জন্য প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার সময়সীমা বেড়ে হয়েছে চলতি বছরের জুন। আর সেই সঙ্গে নির্মাণ ব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে গেছে।

ব্যয় আরও বাড়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। গত বছরের ডিসেম্বরে কর্তৃপক্ষ এই প্রকল্পের খরচ ৬২১ কোটি টাকা এবং সময়সীমা ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে।

দেশের উত্তরাঞ্চলের ২০টি জেলার সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ উন্নত করার জন্য প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়। এ পর্যন্ত এতে তিনবার সংশোধন হয়েছে এবং মোট ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৫৯৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা।

চতুর্থ বারের সংশোধনী অনুমোদিত হলে প্রকল্পটির ব্যয় দাঁড়াবে ছয় হাজার ২১৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা।

আগের সংশোধনীগুলোতে মূলত ধীরগতির বাহন চলাচলের জন্য আলাদা লেন এবং আরও নতুন কাঠামো অন্তর্ভুক্ত করতে অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহণের জন্য বাড়তি তহবিল চেয়েছিলো।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) ২০১৩ সাল থেকে ‘এসএএসইসি সড়ক সংযোগ প্রকল্প: জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ’ শীর্ষক এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

এটি এখন সওজের বাস্তবায়নাধীন আটটি ‘মেগা প্রকল্প’র মধ্যে অন্যতম।



একটি সরকারি প্রতিবেদনে ৭০ কিলোমিটার মহাসড়কের উন্নয়নে ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজালে (ডিপিপি) দায়সারা পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যদি আগে থেকে সঠিক পরিকল্পনা করা হতো তাহলে জমি অধিগ্রহণের ও অন্যান্য কাঠামোগত ব্যয় কম হতো এবং সময়ও কম লাগতো।

২০১৮ সালের জুন মাসে প্রকাশিত একটি আইএমইডির মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিলো, “সম্ভাব্যতা যাচাই এবং প্রকল্পের উপাদানগুলো প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত না করেই ডিপিপি প্রস্তুত করা স্পষ্টতই এই প্রকল্পের একটি ব্যর্থতা ছিলো।”

বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনে প্রকল্পের অন্যান্য দুর্বলতার মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ ও মালামাল স্থানান্তরে দেরি, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন না করা, পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে পরিকল্পনার অভাব, নির্মাণকাজের ধীরগতি এবং অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থার অনুপস্থিতির কথা বলা হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক মো. ইসহাক ২৬ জানুয়ারি দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, তারা সর্বশেষ সংশোধিত এই বছরের জুনে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করতে পারবেন না। কারণ ঠিকাদাররা বেশিরভাগ ফ্লাইওভার এবং ধীরগতির বাহনের জন্য পৃথক লেনের কাজ শেষ করতে পারবে না। নির্মাণকাজের ধীরগতির অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, জমি অধিগ্রহণে দেরি হওয়ার কারণেই মূলত প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ডিসেম্বর মাসে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ প্রকল্প ব্যয় ৬২১ কোটি টাকা বাড়ানোর জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ সংশোধনী প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এটি এখন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প কর্মকর্তারা।

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপ সামলাতে ২০২৩ সালের মধ্যে মহাসড়কের ব্যস্ত স্থানে আরও পৃথক লেন নির্মাণের জন্য প্রকল্পটির অদূর ভবিষ্যতে আরও বেশি তহবিলের প্রয়োজন হবে।

আইএমইডি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি পৃথক বিভাগ, যারা সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের মূল্যায়ন করে।

উৎসঃ   দ্যা ডেইলি স্টার
print

LEAVE A REPLY