২০১৬ মামলা জট নিরসনের বছর

adalotসারাদেশের আদালতগুলোতে বিগত বছরে মামলা নিষ্পত্তির হার পূর্বের বছরের তুলনায় শতভাগের চেয়েও বেশি। তবে শুধুমাত্র উচ্চ আদালতের ক্ষেত্রে মামলা নিষ্পত্তির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে শতকরা ১৪৯ ভাগ। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালকে মামলাজট নিরসনের বছর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল দফতরের সূত্রমতে, ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আপিল বিভাগে ৯ হাজার ৩৫৬টি এবং হাইকোর্ট বিভাগে ৩৩ হাজার ৩৮০টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। ২০১৪ সালে একই সময়ে মামলা নিষ্পত্তি হয়েছিল আপিল বিভাগে ৫ হাজার ৭৮৯টি ও হাইকোর্টে ২২ হাজার ৪৭৭টি। নিষ্পত্তির হার বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ১৪৯ ভাগ। এদিকে নিম্ন আদালতের বিচারকরা ২০১৫ সালে মামলা নিষ্পত্তি করেছেন ১০ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩৩টি। এর আগের বছর একই সময়ে মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে ৯ লাখ ৯৭ হাজার ৬৫২টি। মামলা নিষ্পত্তির হার বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ১০৭ ভাগ।
গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো আয়োজিত জাতীয় বিচার বিভাগীয় সম্মেলনে ২০১৬ সালকে মামলাজট নিরসনের বছর হিসেবে ঘোষণা দিয়ে তার বক্তব্যে বলেন, যেসব মামলা বছরের পর বছর পড়ে আছে সেগুলো আমরা প্রায় অর্ধেক কমিয়ে আনব। আমাদের বিচার ব্যবস্থায় মামলাজট ও বিচারে দীর্ঘসূত্রতা জনগণের বিচার লাভের ক্ষেত্রে একটি বড় অন্তরায়। আমাদের অবশ্যই মামলাজটের দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্তি পেতে হবে। এজন্য আদালতের পুরো সময়কে বিচার কাজে ব্যয় করতে হবে।
তবে শুধুমাত্র মামলা নিষ্পত্তিই নয়, বিচার বিভাগের সংস্কারের অংশ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছেন। এসবের মধ্যে রয়েছে- সিনিয়র বিচারপতিদের সমন্বয়ে বেঞ্চ পুনর্গঠন, অনলাইন বেইল কনফারমেশন, সুপ্রিম কোর্টের ছুটি কমানো, অনলাইন কজলিস্ট, আদালতে অভিযোগ বাক্স স্থাপন, হাইকোর্ট বিভাগের নথি ব্যবস্থাপনা, অনলাইন বুলেটিন (ল’ রিপোর্ট), প্রধান বিচারপতি পুরস্কার প্রবর্তন। একইসঙ্গে নিম্ম আদালতের জন্য বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়া ছাড়াও দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে গত এক বছরে প্রধান বিচারপতি ১৫ জেলার অধস্তন আদালত পরিদর্শন করেছেন।
তবে প্রধান বিচারপতির নেয়া সংস্কারমূলক উদ্যোগের পাশিাপাশি এর সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো এবং বিচারপ্রার্থীদের অধিক সম্পৃক্ততার দাবি জানিয়েছেন সিনিয়র আইনজীবীরা। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শ ম রেজাউল করিম বলেন, মান্ধাতা আমলের পদ্ধতি পরিবর্তন করে তথ্যপ্রযুক্তির সমন্বয় না ঘটালে এবং এসব উদ্যোগের সঙ্গে বিচার সংশ্লিষ্টদের অধিক সম্পৃক্ততা নিশ্চিত না করলে প্রধান বিচারপতির কোনো উদ্যোগই সূদূরপ্রসারী সুফল বয়ে আনবে না। প্রধান বিচারপতির উদ্যোগের সঙ্গে বিচারপ্রার্থীদের অধিক সম্পৃক্ততা নিশ্চিতের দাবি করেন এই আইনজীবী।
উচ্চ আদালতে জামিন জালিয়াতি হয় যেসব কারণে তার মধ্যে বেইল কনফারমেশন অন্যতম। এই জালিয়াতি ঠেকানোর উদ্দেশ্যে ২০১৫ সালের ১ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ‘অনলাইন বেইল কনফার্মেশন’ পদ্ধতি চালু করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। এদিকে গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট বিভাগে অস্থায়ী নিয়োগ পান ১০ বিচারপতি। সুপ্রিম কোর্ট এবং আইন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে খুব শিগগিরই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে নতুন বিচারক নিয়োগ দেয়া হবে। বর্তমানে উচ্চ আদালতে মোট ১০১ জন বিচারপতি রয়েছেন। সর্বশেষ ২০১৫ সালের অক্টোবরে আপিল বিভাগ থেকে বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক অবসরে যাওয়ার পর এই বিভাগে ৫ জন বিচারপতির পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া গত ২০ জানুয়ারি বিচারপতি শরীফ উদ্দিন চাকলাদার অবসরে যাওয়ার পর হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি রয়েছেন ৯৫ জন।

print

LEAVE A REPLY